খেলা বন্ধের কারণ যখন ‘টাইগার’

একদিকে যেমন ক্রিকেট ময়দানে ‘বাঘ’ বা ‘টাইগার’ শব্দটা কানে এলেই চোখে ভেসে উঠে লাল-সবুজের ক্রিকেট প্রতিনিধিদের প্রিয় মুখগুলো। আবার ঠিক তেমনি অন্যদিকে আর্নেস্ট স্মিথ, বিলো রাইলি, শিবনারায়ণ চন্দ্রপল, মনসুর আলী খান, হার্বাট লেন্সদের মাঠে ডাকা হতো ‘চিতা’ নামে। তবে, আজ ছবিতে থাকা বিজয়-সাব্বির-মুস্তাফিজদের মত টাইগারদের নামগান গাইতে কিংবা সাবেক গ্রেটদের কীর্তির বাক্স-পেটরা খুলতে আসিনি। কিবোর্ড চেপে জানাতে এসেছি ক্রিকেট ইতিহাসে ঘটে যাওয়া বিরল এক বাঘ বিড়ম্বনার গল্প।

বিশ্বকাপের প্রাইজ মানি পেতে যাচ্ছেন টাইগাররা

Advertisment

সাউদার্ন ইলেক্ট্রিক প্রিমিয়ার লিগের নামটা সিংহভাগ ক্রিকেট পিপাপুসের নিকটই অজানা বটে। ক্রিকেট দুনিয়ার ‘আনফলো’ টূর্নামেন্টগুলোর একটি এটি। তবে অভূতপূর্ব, অকল্পনীয় একখানা ঘটনার হাত ধরে ছোট পরিসরের এই লীগটি একদা স্থান করে নিয়েছিলো খবরের শিরোনামে। কি এমন ঘটেছিলো সেদিন? ইতিহাস হাতড়ে আজ সে কথাই জানাবো পাঠকদের।





২১ মে, ২০১১। সাউদাম্পটনের রোজ বোল নার্সারি গ্রাউন্ডে ডিভিশন ওয়ানের ম্যাচে মুখোমুখি হ্যাম্পশায়ার একাডেমি দল এবং সাউথ উইলটস একাদশ। নিয়মরক্ষার ম্যাচ হলেও উভয় দলই ছাড় দিতে নারাজ গোড়া থেকেই। বোলারদের বুদ্ধিদীপ্ত বোলিংয়ে হ্যাম্পশায়ারকে ২৫৬ রানে আটকে ফেলে উইলটস। লক্ষ্যভেদের উদ্দেশ্যে ব্যাটিংয়ে নেমে রান তোলার পাশাপাশি উইকেট ও খোয়াতে থাকে দলটি। একপর্যায়ে তাদের দলীয় স্কোর দাঁড়ায় ১৪৬/৬। দিল্লী বহুদূর, এখনো জিততে লাগে আরো ১১১ রান, হাতে মোটে ৪ উইকেট। উইলটসের বিপদভঞ্জন রূপে তখন আবির্ভূত হোন এডাম ইয়ং। ২৮ বলে ৪৪ রানের এক সাইক্লোন ইনিংস খেলে প্যাভিলিয়নে ফিরলেও দলকে জয়ের দৌঁড়ে রেখে যান অনেকখানি এগিয়ে।

শেষদিকে ম্যাচ নিজেদের নামে করতে ৪৩ বলে ২৭ রানের প্রয়োজন হয় উইলটসের। তবে, বাকি মাত্র ৩ উইকেট! তিনে নামা এ্যাডি এবেলের (৮০ অপঃ) ব্যাটই তখন একমাত্র ভরসা। কিন্তু অকস্মাৎ তাদের দেখা জয়ের স্বপ্নে হানা দিলো এক শ্বেতশুভ্র বাঘ। কথা হলো ওটা এলো কোথা থেকে আর তার অবস্থানই বা মাঠের কোন প্রান্তে?






গ্যালারিতে উপবিষ্ট এক মধ্যবয়সী দর্শক তার চড়া দামের ক্যামেরা দিয়ে শখের ফটোগ্রাফিতে মত্ত অবস্থায় হঠাতই তার ক্যামেরার লেন্স আটকে যায় রোজ বোলের পাশে অবস্থিত গলফ ফিল্ডে। প্রকাণ্ডকায় এক গাছের নিচে ঝিমুচ্ছে একখানা সাদারঙা বাঘ। ব্যস, এতেই তার চক্ষু চড়কগাছ! তার ভয়ার্ত চিৎকারে মুহূর্তে শোরগোল বেঁধে যায় স্টেডিয়াম পাড়ায়। দাবানলের মতো খবরটি ছড়িয়ে পড়ে আশেপাশে। ক্রিকেটাররা ছুট লাগান প্যাভিলিয়নের পথে। গলফারদের সরিয়ে নেওয়া হয় নিরাপদ আশ্রয়ে। কালক্ষেপণ না করে পুলিশকে অবগত করে কর্তৃপক্ষ। বিপদগ্রস্তদের পাশে দাঁড়াতে চটজলদি পুলিশের সদস্যরা স্টেডিয়ামে উপস্থিত হোন।

পুলিশের এক মুখপাত্র বিবিসিকে জানায়, ‘আমরা খবর পেয়ে দ্রুত আমাদের ফোর্স নিয়ে হাজির হই। আমাদের ক’জন কর্মী অন্তরীক্ষ থেকে হেলিকপ্টারে চড়ে বাঘের গতিবিধির উপরে নজরদারি আরম্ভ করে। এর মাঝে স্থানীয় চিড়িয়াখানাতেও খবর দেওয়া হয়। আমাদের কর্মীরা জানায় গলফ গ্রাউন্ডের অত্যাধিক গাছে ঘেরা পরিবেশে উপরে থেকে দেখাটা বেশ কষ্টসাধ্য হলেও তারা দেখে বাঘটি নড়াচড়া করছিলো না। আস্তেধীরে তারা সেটির কাছে গেলে বিড়ম্বনার জট খুলে যায়। মূলত সেটি কোনো জ্যান্ত জন্তু ছিলো না, ছিলো পশমের একটা খেলনা বাঘ যেটা সেখানে কেউ ভুলবশত বা ইচ্ছেকরে মজার ছলে রেখে দিয়েছিলো।’

পুনশ্চ, এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার ছয় মাস বাদে ব্রুস গ্র‍্যাব নামের একজন স্কটিশ কৃষক তার গোয়ালের পাশে একটি বাঘ আবিষ্কার করেন। প্রাণভয়ে সে তৎক্ষণাৎ পুলিশকে মুঠোফোনে ব্যাপারটি জানায়। পুলিশ এসে প্রায় পৌঁনে এক ঘন্টার অভিযান অন্তে অতীতে ঘটে যাওয়া হ্যাম্পশায়ার বিড়ম্বনার পুনরাবৃত্তি দেখতে পায়। কার্যত কৃষকের মনে ভীতির সঞ্চার করা এই বাঘটিও ছিলো রেশমী পশমের সুদৃশ্য একখানা খেলনা বাঘ।

উল্লেখ্য, মাঠে রয়ে যাওয়া ভয়াল আবহের রেশের কারনে আর কোন বল পিচে গড়াইনি তবে রান রেটের রেসে এগিয়ে থাকার দরুন বিজয়ী ঘোষণা করা সাউথ উইলটসকে একাদশকে।

লেখক : বিপ্রতীপ দাস

বল বাই বল লাইভ স্কোর পেতে আর নয় বিদেশি অ্যাপ। বাংলাদেশ ক্রিকেটের সাম্প্রতিক খবর এবং বল বাই বল লাইভ স্কোর আপনার মুঠোফোনে পেতে এখনি প্লে-স্টোর থেকে BDCricTime সার্চ করে ডাউনলোড করুন বাংলাদেশের নাম্বার ওয়ান ক্রিকেট অ্যাপটি। অথবা ডাউনলোড করতে ক্লিক করুন এখানে। ভালো লাগলে অবশ্যই রেটিং দিয়ে উৎসাহী করুন।