গাজী গ্রুপের ভিন্ন রূপ

তাসামুলের শতক
তাসামুলের শতক

ডিপিএলে অপ্রতিরোধ্য হয়ে উঠেছি গাজী গ্রুপ ক্রিকেটার্স। তাদের জয়রথ থামাতে পারছিল না কেউ। কিন্তু কলাবাগানের বিপক্ষে যেন দেখা গেল গাজী গ্রুপের ভিন্ন রূপ। ১২৭ রানের বড় ব্যবধানে হেরে প্রথমবারের মতো পরাজয়ের তিক্ত স্বাদ নিয়ে মাঠ ছাড়ল তারা।

টস জিতে ফিল্ডিংয়ের সিদ্ধান্ত নেয় গাজী গ্রুপ। কলাবাগানের দুই ওপেনার তাসামুল হক ও জসিমউদ্দিন ৫৮ রান সংগ্রহ করেন উদ্বোধনী জুটিতে। তবে রানের গতিটা ছিল গাজী গ্রুপের নিয়ন্ত্রণে। মন্থর গতিতেই এগিয়ে যাচ্ছিল কলাবাগান। দলীয় ৫৮ রানের মাথায় জসিমউদ্দিনকে (২৮) লেগ বিফোরের ফাঁদে ফেলেন পারভেজ রসুল।

Advertisment

আশরাফুলকে সাথে নিয়ে ৩১ রান যোগ করেন তাসামুল। থিতু হলেও বড় স্কোর গড়তে পারেননি আশরাফুল। ৩৩ বলে ১৫ রান করে রান আউট হন তিনি। তুষার ইমরানকে নিয়ে তাসামুল ৬৪ রানের জুটি গড়লেও রানের গতি বাড়ছিলই না। চারের নিচে রান রেট ছিল কলাবাগানের। ৪৩ বলে ৩২ রান করে মেহেদির বলে বোল্ড হন তুষার। এরপর সাদ নাসিম ২ চারে ১৯ বলে ২০ রান করেন। এক প্রান্ত আগলে রাখা তাসামুল শতক পূর্ণ করেন। ৬ চারে ১৩২ বলে ১০২ রান করেন তিনি। ৪৮ তম ওভারে দলীয় ২০৭ রানের মাথায় আউট  হন তিনি। লোয়ার অর্ডারের কেউ বলার মত অবদান রাখতে না পারায় কলাবাগানের ইনিংস থামে ২২২ রানে। চার উইকেট নেন পারভেজ।

লক্ষ্যটা গাজী গ্রুপের সাধ্যের মধ্যেই ছিল। এনামুল হক বিজয়, পারভেজ রসুল, নাদিফ চৌধুরী আর সোহরাওয়ার্দী শুভদের ব্যাট থেকে নিয়মিত রান আসছে লিগে। তাই অনেকটা  সহজ লক্ষ্য গাজী গ্রুপের জন্য। কিন্তু তারা গুটিয়ে গেল ৯৫ রানেই।

দুই ওপেনার জহুরুল ইসলাম ও এনামুল হকের জুটি ভাঙে ১৭ রানের মাথায়। তৃতীয় ওভারে সঞ্জিত সাহার বলে বোল্ড হন জহুরুল। পরের ওভারে তুষার ইমরানের বলে এলবিডব্লিউ হন এনামুল হক। ১৪ বলে ১৬ রান করেন তিনি। ধুঁকতে থাকা গাজী গ্রুপকে আর কেউ টেনে তুলতে পারেনি।

রানের খাতা খোলার আগেই সঞ্জিতের বলে বোল্ড হন মোমিনুল। ২১ রানেই তিন উইকেট হারায় গাজী গ্রুপ। পরের ওভারে মোমিনুলের পথ অনুসরণ করেন মেহেদি। রানের খাতা খোলার আগেই ফিরেন সাজঘরে। টানা চার ওভারে চার উইকেট হারিয়ে খাদের কিনারায় চলে যায় গাজী গ্রুপ। পাওয়ারপ্লের শেষ ওভারে বোলিংয়ে এসে আগুন ঝরান আবুল হাসান। ফিরিয়ে দেন সোহরাওয়ার্দী শুভ ও পারভেজ রসুলকে। ৩২ রানের মাথায় ষষ্ঠ উইকেটের পতন ঘটে।

২ রান করে ফারুক ফিরেন সাদ নাসিমের বলে। এরপর আবু হায়দার রনিকে নিয়ে প্রতিরোধ গড়ে তুলেন সঙ্গীর অভাবে ভুগতে থাকা নাদিফ চৌধুরী। এক প্রান্তে দর্শক হয়ে সতীর্থদের আসা-যাওয়া দেখেন তিনি। রনিকে নিয়ে ৪৭ রানের জুটি গড়েন নাদিফ। ধৈর্য নিয়ে ব্যাট করেন রনি। ৫৪ বলে করেন ১১ রান। নিজের পরের ওভারে নাঈম জুনিয়রকেও ফেরান সাদ। দলীয় ৯৫ রানের মাথায় সঞ্জিত সাহার তৃতীয় শিকার হন নাদিফ। এ উইকেট দিয়েই সমাপ্তি ঘটে গাজী গ্রুপের ইনিংসের।

সংক্ষিপ্ত স্কোরঃ কলাবাগান ২২২/৯, ৫০ ওভার
তাসামুল ১০২, তুষার ৩২, জসিমউদ্দিন ২৮
রসুল ৪/৪৪, আলি ১/৩০

গাজী গ্রুপ ক্রিকেটার্স ৯৫/১০, ৩২.৫ ওভার
নাদিফ ৪৫, এনামুল ১৬, রনি ১১
সঞ্জিত ৩/৭, নাসিম ৩/১২

-আজমল তানজীম সাকির, প্রতিবেদক, বিডিক্রিকটাইম ডট কম