*রবিউল ইসলাম
বাসার সামনে ছোট্ট একটা খালি জায়গা। শর্ট বাউন্ডারি, ইটের উইকেট, আর বন্ধুদের চিৎকারে মুখর বিকেল। সেই মাঠেই জন্ম নেয় এক শিশুর স্বপ্ন—আজিজুল হাকিম তামিম। ২০১৬ সালে তখন আজিজুল চতুর্থ শ্রেণির ছাত্র। পড়ালেখার ফাঁকে হাতে ব্যাট তুলে নেওয়াটাই ছিল তার সবচেয়ে বড় আনন্দের কাজ। বড় ভাইদের সাথে খেলতে গিয়ে অনেক সময়ই একাদশে জায়গা পেত না তামিম। খেলোয়াড় বেশি হলে বাদ পড়তে হতো তাকেই। মন খারাপ হতো ঠিকই, কিন্তু হাল ছাড়েনি তিনি। আজিজুলদের এলাকায় খেলাধুলার একটা সুন্দর সংস্কৃতি ছিল—ফুটবল হোক বা ক্রিকেট, সবাই মন খুলে; কোন কিছু পাওয়ার আশাতে নয়। আজিজুলের ক্রিকেটের প্রতি ভালোবাসা এতটাই গভীর ছিল যে একদিন সাহস করে বাবা মোহাম্মদ হোসাইনকে বলেই ফেললেন, “আব্বু, আমাকে একটা একাডেমিতে ভর্তি করিয়ে দাও।” ছেলের চোখে স্বপ্ন দেখে মোহাম্মদ হোসাইন আর না করতে পারেননি। শুরু হয় তার একাডেমির পথচলা। [গুগল নিউজে বিডিক্রিকটাইম ফলো করুন]
যুবাদের নেতৃত্বে রয়েছেন আজিজুল হাকিম তামিম। ছোট্ট আজিজুলকে নিয়ে বাবা-মা ভাবতেন, কয়দিন খেলেই হয়তো ছেড়ে দেবে। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বদলাতে থাকে সবকিছু। অনূর্ধ্ব-১৪ দলে জেলার হয়ে খেলে এক ম্যাচে ম্যাচ সেরার পুরস্কার জেতার পর বদলে যায় তাদের ধারণা। তখন থেকেই বাবা-মা হয়ে ওঠেন তার সবচেয়ে বড় অনুপ্রেরণা। এরপর ২০১৭ সালে বিকেএসপির এক মাসের ক্যাম্পে সুযোগ পান আজিজুল। ভালোই করেছিল, কোচদের প্রশংসাও কুড়িয়েছিল। তবু শেষ পর্যন্ত সুযোগ মেলেনি। স্বপ্নটা একটু ভেঙেছিল ঠিকই, কিন্তু ভাঙেনি তার মনোবল। আবার ফিরে আসেন একাডেমিতে, নতুন করে শুরু করেন পথচলা।
তামিমের জীবনের সবচেয়ে মজার অধ্যায়টা শুরু হয় ব্যাটিং হাত বদলের গল্প দিয়ে। সে ছিল ডানহাতি ব্যাটসম্যান। কিন্তু কাজিনদের সাথে খেলতে গিয়ে একদিন মজার ছলেই তাকে বলা হয়, “তুই বাঁহাতে ব্যাট কর।” চারজন কাজিনের মধ্যে আজিজুলসহ তিনজনই ছিল ডানহাতি। ভারসাম্য রাখতে তামিমকে বানানো হয় বাঁহাতি ব্যাটসম্যান। সেই মজা থেকেই শুরু, আর ধীরে ধীরে ডানহাতি আজিজুল হয়ে ওঠে বাঁহাতি ব্যাটসম্যান। অদ্ভুত হলেও, বোলিং এখনও তিনি ডানহাতেই করেন। এমন ব্যাট-বোলিং মিশ্রণের উদাহরণ বিশ্বক্রিকেটে আছে—সৌরভ গাঙ্গুলী, ব্রায়ান লারা, বেন স্টোকস, গ্রায়েম স্মিথ, রিচার্ড হেডলিরা আছেন এই তালিকাতে। যদিও আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে সাফল্য পাওয়া ক্রিকেটারের সংখ্যা খুব বেশি নয়। বাংলাদেশের আজিজুল হাকিমও ভবিষ্যতে এই বিশেষ ভূমিকায় কতদূর পৌঁছাতে পারেন, সেটি দেখতে অপেক্ষায় থাকবেন ক্রিকেটপ্রেমীরা।
চলতি মাসের ১৫ জানুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ভারতের ম্যাচ দিয়ে পর্দা উঠে গেছে যুব দলের বিশ্বকাপের। ‘বি’ গ্রুপে বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ ভারতের মতো শক্তিশালী দল, পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র ও নিউজিল্যান্ড। বাংলাদেশ তাদের প্রথম ম্যাচে শনিবার মাঠে নামবে ভারতের বিপক্ষে। আকবর আলীর নেতৃত্বে শিরোপা জয়ের পর গত দুই আসরে হতাশাজনক পারফরম্যান্স দেখেছে দল। এবার অধিনায়ক আজিজুল হাকিম তামিমের নেতৃত্বে তারা সেই ব্যর্থতার বৃত্ত ভেঙে শিরোপা পুনরুদ্ধারের স্বপ্ন দেখছে।
অনূর্ধ্ব-১৯ যুব বিশ্বকাপে বাংলাদেশ স্কোয়াডকে নিয়ে বিডিক্রিকটাইমের ধারাবাহিক আয়োজনে আজ থাকছে অধিনায়ক আজিজুল হাকিম তামিমের সাক্ষাৎকার:-
প্রশ্ন: ক্রিকেটে কিভাবে এলেন?
আজিজুল হাকিম তামিম: আমি ২০০৬ সালে চতুর্থ শ্রেণীতে থাকা অবস্থায় ক্রিকেট খেলা শুরু করি। আমার বাসার সামনে খালি জায়গায় শর্ট বাউন্ডারিতে ক্রিকেট খেলতাম। ক্রিকেট খুব ভালো লাগতো বলে একদিন আব্বুকে বলি আমাকে একাডেমিতে ভর্তি করিয়ে দিতে। এরপর আব্বু আমাকে একাডেমিতে ভর্তি করিয়ে দেন।
প্রশ্ন: এলাকার মধ্যে খেলতে গিয়ে কখনো এমন হয়নি, আপনাকে দলে নেয়নি?
আজিজুল: বহুবার হয়েছে। শুরুর দিকে বড় ভাইদের সাথে খেলতাম। অনেক সময় খেলোয়াড় বেশি হয়ে গেলে অনেককেই একাদশ থেকে বাদ দিতো, আমিও বাদ পড়তাম। এটা স্বাভাবিক ব্যাপার ছিল। তখন মন খারাপ হতো ঠিকই, কিন্তু আমাদের এলাকায় খেলাধুলার কালচার খুব ভালো ছিল—ফুটবল হোক বা ক্রিকেট, সবাই খেলাধুলায় ভালো ছিল। সবাই, সবাইকে অনেক সাহায্য করত।
প্রশ্ন: আপনি নাকি শুরুতে ডানহাতি ব্যাটসম্যান ছিলেন, বাঁহাতি হলেন কিভাবে?
আজিজুল: আমি আগে ডানহাতি ব্যাটসম্যান ছিলাম। আমার এক কাজিন, যিনি বয়সে আমার বড়, উনিই আমাকে বাঁহাতি বানিয়েছেন। আমরা কাজিনরা চারজন একসাথে খেলতাম, এর মধ্যে তিনজন ছিল ডানহাতি। মেলানোর জন্য আমাকে বাঁহাতে ব্যাটিং করতে বলে। মজা করেই শুরু হয়েছিল। কিন্তু এভাবে খেলতে খেলতেই ডানহাতি থেকে বাঁহাতি ব্যাটসম্যান হয়ে গেছি।
প্রশ্ন: এতে কোনো সমস্যা হয়নি?
আজিজুল: না, তেমন কোনো সমস্যা হয়নি। ধীরে ধীরে অভ্যস্ত হয়ে গেছি। এখনতো মনেই হয় না, আমি ডানহাতি ছিলাম! আমি কিন্তু বাঁহাতে ব্যাটিং করলেও ডানহাতেই বোলিং করছি এবং খুব ভালো ভাবেই করতে পারছি। আমার কখনোই কোন সমসা হয় না।
প্রশ্ন: শুনেছি, আপনার বাবা-মা সব সময় আপনাকে অনুপ্রাণিত করেছেন—এমনটা তো সচরাচর দেখা যায় না?
আজিজুল: ছোটবেলা থেকেই আমার ইচ্ছা ছিল ক্রিকেটার হওয়ার। শুরুতে শখ থেকেই ক্রিকেট খেলতাম। তখন বাবা-মা ভাবতেন হয়তো শখ মিটলে খেলাটা ছেড়ে দেবো। কিন্তু অনূর্ধ্ব-১৪ দলে জেলার হয়ে খেলি এবং একটি ম্যাচে ম্যাচ সেরা হই। এরপর আমার আগ্রহ আরও বেড়ে যায়, বাবা-মাও আমাকে অনুপ্রাণিত করা শুরু করেন।
বহুবার দলের হাল ধরেছেন আজিজুল হাকিম তামিম। প্রশ্ন: বিকেএসপিতে ট্রায়াল দিয়ে নাকি ভর্তি হতে পারেননি?
আজিজুল: ২০১৭ সালে একবার এক মাসের ক্যাম্প করেছিলাম। ক্যাম্পে ভালোই করেছিলাম, স্যাররাও অনেক প্রশংসা করেছিলেন। কিন্তু পরে হঠাৎ জানলাম আমার সুযোগ হয়নি। কেন হয়নি, আসলে আমি নিজেও বুঝতে পারিনি। এরপর যশোর ক্রিকেট একাডেমিতে ভর্তি হই। আমার কোচ বেলার কোচ আজিমুল হক আজিম স্যার। উনি যশোরের জেলা কোচ। ওনার কাছ থেকেই আমার ক্রিকেট শেখা শুরু।
প্রশ্ন: এতোটুকু আশা অব্দি, কখনো মনে হয়েছে ক্রিকেট আর খেলবো না?
আজিজুল: এরকম তো অনেক সময় হয়। আমি যখন অনূর্ধ্ব-১৪ থেকে বাদ পড়ি। ওই সময়ও একটু খারাপ গিয়েছিল। মাঝে ওয়াইসিএল ছিল, ঢাকা দ্বিতীয় বিভাগ ক্রিকেটেও এমন হয়েছে। এমনকি অনূর্ধ্ব-১৯ দলে সুযোগ পাওয়ার পরও এমন হয়েছে। অনেক সময় ছোট ছোট রান হচ্ছিল, ইনিংসগুলো বড় হচ্ছিল না। এগুলো নিয়ে আফসেট হতাম। তবে ফোকাস নষ্ট করেনি। চেষ্টা করে গেছি, সব সময়। সত্যি কথা হচ্ছে আপনি ফেল না করল শিখতে পারবেন না।
প্রশ্ন: আপনার পছন্দের ক্রিকেটার সাকিব আল হাসান, কিন্তু আপনার নামে আছে তামিম; এই নিয়ে কি কখনো মন খারাপ হয়?
আজিজুল: এভাবে কখনো চিন্তা করিনি। আসলে, আব্বু তামিম ভাইকে পছন্দ করেই আমার নাম রেখেছেন তামিম। আমি তামিম ভাই আর সাকিব ভাইয়ের খেলা দেখেই বড় হয়েছি। হয়তো আমার প্রিয় ক্রিকেটারের তালিকায় উপরে সাকিব ভাই, কারণ তিনি একজন অলরাউন্ডার, আমিও। আবার আমাদের মধ্য মিলও আছে। আমিও বাঁহাতি। তামিম ভাইও আমার পছন্দের ব্যাটসম্যান। তাই নাম আর প্রিয় ক্রিকেটারের মিল না হওয়াটা কখনোই বিরক্তি বা মন খারাপের কারণ হয়নি।
প্রশ্ন: আপনার কাছে সাকিব আল হাসান কেন বিশেষ?
আজিজুল: ওনার মাইন্ডসেটটাই অসাধারণ। একজন আন্তর্জাতিক মানের লিজেন্ডকে আমরা “সেরা” বলি, এবং সাকিব ভাই সত্যিই সেই কথার প্রমাণ। মাঠে হোক কিংবা মাঠের বাইরে, উনি একজন সত্যিকারের ক্যারেক্টার, যার থেকে শেখার অনেক কিছু আছে।
প্রশ্ন: বড়দের সাথে প্রথম শ্রেণীর ক্রিকেট খেলেছেন, বিপিএল এবং লিস্ট ‘এ’ সব খেলার অভিজ্ঞতা নিয়েই বিশ্বকাপে যাচ্ছেন। সব মিলিয়ে অভিজ্ঞতাটা কেমন হলো?
আজিজুল: আমি মনে করি, আমার জন্য এটি দারুন একটি অভিজ্ঞতা। আমি যেখানে খেলছি, সেই তুলনায় ঘরোয়া ক্রিকেটে খেলার অভিজ্ঞতা পুরোপুরি আলাদা। সবচেয় বড় পার্থক্য চিন্তা-চেতনার। কারন এখানে সবাই অভিজ্ঞ, তাদের অনেক ম্যাচ খেলার অভিজ্ঞতা আছে। আমি যখন তাদের সাথে খেলে পারফর্ম করছি, সেটাকে অবশ্য মূল্যায়ন করতে হবে। ওখানে পারফরম্যান্স করাটা এতোটা সহজ নয়।
প্রশ্ন: এই অভিজ্ঞতা বিশ্বকাপের মঞ্চে কিভাবে কাজে লাগাবেন?
আজিজুল: ওখানে আমি শেখার চেষ্টা করেছি, কিভাবে তারা ফিল্ডে কাজ করে। অধিনায়ক হিসেবে শুভাগত দাদা কি করছে, এগুলো আমি দেখার চেষ্টা করেছি। একজন বোলারকে কোন পরিস্থিতি, কখনো দায়িত্ব দেওয়া হয়। ব্যাটসম্যানদের কিভাবে রোটেশন করে। এইসব টুকটাক বিষয়গুলো বোঝার চেষ্টা করেছি। এগুলো বিশ্বকাপে কাজে লাগানো সম্ভব হবে। এই ধরনের টুর্নামেন্টে অনেক সময় নানা রকম পরিস্থিতি তৈরি হয়, আশা করি ঘরোয়া ক্রিকেটে বড় ভাইদের সাথে খেলার অভিজ্ঞতা ভালো ভাবেই কাজে লাগাতে পারব।
প্রশ্ন: আপনি একজন, কিন্তু আপনাকে তিনটি দায়িত্ব আলাদা আলাদা ভাবে পালন করতে হয়। ব্যাটসম্যান, বোলার এবং অধিনায়ক; কতটা উপভোগ করেন?
আজিজুল: অনেক উপভোগ করি। তিনটা ব্যাপার তিন রকম। তবে অধিনায়ক হিসেবে আমাকে খুব একটা ঝামেলায় পড়তে হয় না। দলের সবাই কম বেশি হেল্প করে। ব্যাটিং যখন করি, তখন কেবলমাত্র ব্যাটসম্যান হিসেবে নিজের দায়িত্বটা পালন করার চেষ্টা করি। বোলিংয়ে ক্ষেত্রে একই ব্যাপার থাকে। সবমিরিয়ে আমি তিনটা বিষয়ই অনেক উপভোগ করি। আমি ভাগ্যবান মনে করি নিজেকে, তিন জায়গায় আমার আউটপুট দেওয়ার আছে।
প্রশ্ন: অধিনায়ক হিসেবে পুরো দলটাকে কিভাবে মোটিভেট করছেন?
আজিজুল: আমার আসলে খুব বেশি কিছু করার নেই। দলের সবাই বেশ অভিজ্ঞ, অনেক অনেক ম্যাচ খেলেছে। সেভাবে কাউকেই তেমন কিছু বলা লাগে না। কয়েক জন আছে, তাদেরকে বলতে হয়, ‘এটা কর, ওইটা কর।’ আমি চেষ্টা করে ক্যারেক্টার অনুযায়ি আচরণ করতে। তবে দলের প্রত্যেকেই আমাকে সহযোগিতা করছে। এই কারনে অধিনায়ক হিসেবে আমাকে খুব বেশি চাপ নিতে হয় না।
প্রশ্ন: আকবরদের হাত ধরে অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপের ট্রফি এসেছিল বাংলাদেশে। এরপর আরও দুটো ব্যাচ বিশ্বকাপে অংশ নিলেও শূন্য হাতে ফিরেছে। এবারের দলটা কি শিরোপা পুনুরুদ্ধার করতে পারবে?
আজিজুল: দেখেন আমরা যেভাবে খেলছি গত দুই বছর ধরে, আমার কাছে মনে হয় খুব সম্ভব। আমাদের দলের সবগুলো প্লেয়ারই এটা বিশ্বাস করে। প্রত্যেকেই অনেকগুলো ম্যাচ খেলেছ। এমনকি ঢাকা লিগ, বিপিএল, জাতীয় লিগেও কারও কারও খেলার অভিজ্ঞতা হয়েছে। সবমিলিয়ে অভিজ্ঞ সবাই। আর এই জিম্বাবুয়ে এমন জায়গাটা যেখানে আমরা আগেও একটা সিরিজ খেলছি, সেখানকার কন্ডিশন সম্পর্কে আমাদের ভালোই ধারনা রয়েছে। পুরো দলই বিশ্বাস করে আমাদের পক্ষে শিরোপা জেতা সম্ভব। আমরা এই লক্ষ্য নিয়েই প্র্রথম ম্যাচ থেকে মাঠে নামবো।
প্রশ্ন: বয়সভিত্তিক ক্রিকেটের শেষ ধাপে আপনি। বিশ্বকাপে সবার ফোকাস থাকে। এখানে ভালো করলে পরের ধাপে যাওয়ার পথটা সহজ হয়ে যাবে। তো এমন একটা মঞ্চে আপনার লক্ষ্য কী?
আজিজুল: সত্যি কথা বলতে কি আমি ব্যক্তিগত থেকে আমি টিম ফলো করি বেশি। তারপরও যদি বলেন ব্যক্তিগত ভাবে চেষ্টা থাকবে যেন টুর্নামেন্টের সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক হতে পারি। যেভাবে পরিস্থিতি ডিমান্ড করে, আমি ওইভাবে ব্যাটিং করতে চাই। অবশ্যই চেষ্টা থাকবে, এমন একটা মঞ্চে নিজের সেরাটা দিতে।
প্রশ্ন: আপনার পড়াশোনা নিয়ে অনেক আলোচনা হয়েছে, বিষয়গুলো কিভাবে নিয়েছেন?
আজিজুল: একদিক থেকে সবাই সঠিকই ছিলেন। আমার প্রস্তুতি ছিল সেভাবে না, সেই কারণেই পরীক্ষা দিতে পারিনি। শুরুর দিকে যখন আলোচনা বেশি হচ্ছিল, তখন একটু হতাশ হয়ে গিয়েছিলাম। কিন্তু আমার পরিবার আমাকে মানসিকভাবে খুব সমর্থন দিয়েছে। তারা বলেছে, ‘তুমি খেলতে থাকো, পড়াশোনার জন্য অতিরিক্ত চিন্তা করার দরকার নেই। পড়াশোনাও গুরুত্বপূর্ণ, কিন্তু সময়মতো সব ঠিক হয়ে যাবে।’ দুই বছর গ্যাপ হয়ে গেছে আমার পড়াশোনায়। এখন আমি চেষ্টা করব সেটা যত দ্রুত সম্ভব রিকভার করতে।
প্রশ্ন: শুরুটাই হচ্ছে ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে, কিছুটা চাপের হয়ে গেলো কিনা?
আজিজুল: না। এখানে চাপের কিছু নেই। অন্যসব দলের মতো ভারতও একটি প্রতিপক্ষ। আমরা গত দুই বছর ধরে টানা খেলছি, দলের প্রত্যেকেই ভালো অবস্থানে রয়েছে। কে আমাদের প্রতিপক্ষ সেইসব চিন্তা না করে, আমরা আমাদের পরিকল্পনা বাস্তবায়নের দিকে মনোনিবেশ করতে পারলে, সেটিই আমাদের জন্য ভালো হবে। আশা করি প্রথম ম্যাচে ভারতকে হারিয়ে বিশ্বকাপ শুরু করতে পারব। দলের প্রত্যেকেই ম্যাচটি খেলতে মুখিয়ে আছে।
প্রশ্ন: তারপরও বিশ্বকাপে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় প্রতিপক্ষ ভারত। তার মধ্যে বৈভব সুর্যবংশীর মতো ব্যাটসম্যান আছেন। তাকে নিয়ে আলাদা কোন পরিকল্পনা আছে?
আজিজুল: আমরা নির্দিষ্ট কোন খেলোয়াড়কে নিয়ে চিন্তা করছি না। পুরো দলকে নিয়েই আমাদের ভাবনা। শুধু সুর্যবংশী নয়, ওদের দলে অনেক ভালো ভালো প্লেয়ার আছে। ফলে শুধু একজনকে নিয়ে পরিকল্পনা সাজানোর কিছু নেই। সুতরাং আমরা ওইভাবে না দেখে টিম ওয়াইজ দেখছি। পুরো দলকে নিয়েই আমরা অ্যানালাইসিস করেছি। প্রতিপক্ষের শক্তি ও দূর্বলতা নিয়ে আমরা কাজ করছি। আমরা আমাদের বেস্ট অপশন নিয়ে ওদের বিপক্ষে খেলতে নামবো। বিশ্বাস করি আমাদের সামর্থ্য আছে ভারতকে হারানোর।
প্রশ্ন: এশিয়া কাপে টপ অর্ডার ব্যাটারদের মধ্যে বেশিরভাগই ব্যর্থ হয়েছে? অধিনায়ক হিসেবে এটা কতটা দু:চিন্তার?
আজিজুল: দলের টপ অর্ডার ব্যাটাররা যেহেতু অভিজ্ঞ, আমাদের এই দায়িত্বটা নিতে হবে। টপ অর্ডারদেরই ইনিংসটাকে টেনে নিতে হবে। উপরে যারা ব্যাটিং করেন, তাদের দায়িত্ব নিজের ইনিংসটাকে যতটা সম্ভব টেনে নিয়ে যাওয়া। আমিসহ বেশ কয়েকজন এশিয়া কাপে নিজেদের ইনিংসটাকে বড় করতে পারিনি। সবাই ৩০ থেকে ৫০ রানের মধ্য আউট হয়ে গেছি। বড় মঞ্চে এমনটা করা যাবে না। তবে আমি এটা নিয়ে দু:চিন্তায় নেই। আশা করি বিশ্বকাপে টপ অর্ডার ভালো করবে।
প্রশ্ন: আপনি এবং রিফাত বেগের ব্যাটিংটা দলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ –এই জায়গাতে কতটা সচেতন আছেন?
আজিজুল: আমার কাছে মনে হয় না কেবল ওই দুটো জায়গাতেই সচেতন হওয়ার আছে। নাম্বার ছয় পর্যন্ত আমাদের ব্যাটিং বিভাগ। এরপর বাকি সবাই অলরাউন্ডার। ব্যাটসম্যান হিসেবে আমাদের প্রথম ছয় জনকেই দায়িত্ব নিতে হবে। যেন লেট অর্ডারের কাছে দায়িত্ব না চাপে। সেভাবেই আমরা প্রস্তুতি নিয়েছি।
প্রশ্ন: বিশ্বকাপের আগে এশিয়া কাপের ব্যর্থতা প্রভাব ফেলতে পারে কিনা?
আজিজুল হাকিম তামিম: আমার কাছে এমনটা মনে হয় না। পাকিস্তানের বিপক্ষে ওই ম্যাচটা আমাদের ভাগ্যে ছিলো না। টস হেরেছি, বৃষ্টি ছিল; ম্যাচটাও হয়েছে কার্টেল ওভারে। কিন্তু ওই ম্যাচের কোন প্রভাব আমাদের দলের মধ্যে নেই। আমি আবারও বলছি, দল হিসেবে আমরা এই মুহুর্তে অনেক বেশি আত্মবিশ্বাসী অবস্থায় আছি। ইনশাল্লাহ আমরা আমাদের সেরাটা দিবো। ম্যাচ বাই ম্যাচ লক্ষ্য বানিয়ে আমরা এগিয়ে যেতে চাই।
একনজরে
নাম: আজিজুল হাকিম তামিম
ডাক নাম: তামিম
জন্মস্থান: যশোর।
জন্ম: ২০০৭
বাবার নাম: মোহাম্মদ হোসাইন
মায়ের নাম: সুলতানা ফারজানা
উচ্চতা: ৬ ফিট
পড়াশোনা: এসএসসি
প্রথম ক্লাব: যশোর ক্রিকেট একাডেমি
বর্তমান ক্লাব: গুলশান ক্রিকেট ক্লাব
প্রথম কোচ: আজিমুল হক আজিম
ব্যাটিং স্টাইল: বাঁহাতি
প্রিয় শট: কাভার ড্রাইভ, পুল
যুব ওয়ানডেতে রান: ৩১ ইনিংসে ১ হাজার ৬৭ রান
লিস্ট ‘এ’ রান: ১০ ইনিংসে ৩৪৪ রান
প্রথম শ্রেণী রান: ৩ ইনিংসে ১৮৩ রান
টি-টোয়েন্টি রান: ১৩ ইনিংসে ২৪২ রান
বোলিং স্টাইল: ডানহাতি
প্রিয় ডেলিভারি: টার্ন বাউন্স
যুব ওয়ানডেতে উইকেট: ২৮ ইনিংসে ২৬ উইকেট
লিস্ট ‘এ’ উইকেট: ১০ ইনিংসে ৯ উইকেট
প্রথম শ্রেণী উইকেট: ৩ ইনিংসে ৩ উইকেট
টি-টোয়েন্টি উইকেট: ৩ ইনিংসে উইকেট নেই।
প্রিয় মানুষ: হযরত মোহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম।
প্রিয় ক্রিকেটার: বিরাট কোহলি, সাকিব আল হাসান।