চার-ছক্কার বৃষ্টির ম্যাচে শেষ হাসি পাকিস্তানের

ইংল্যান্ডের দ্বিতীয় সারির দলের কাছে ওয়ানডে সিরিজে ধবলধোলাই হওয়া পাকিস্তানের একদম ভিন্ন এক রূপ দেখা গেল টি-২০ সিরিজের প্রথম ম্যাচে। নটিংহ্যামে চার-ছক্কার তুফানের সুবাদে বয়েছে রানের বন্যা। ইংলিশ ক্রিকেটার লিয়াম লিভিংস্টোন শতক হাঁকালেও জয়ের হাসি হেসেছেন বাবর আজমরাই। 

 

Advertisment

চার-ছক্কার তুফানের ম্যাচে শেষ হাসি পাকিস্তানের 1

টস জিতে প্রথমে ফিল্ডিংয়ের সিদ্ধান্ত নেয় ইংলিশরা। ব্যাটিংয়ে নেমে দলকে ঊড়ন্ত সূচনা এনে দেন দুই ওপেনার বাবর আজম আর মোহাম্মদ রিজওয়ান। শুরু থেকেই বিধ্বংসী রূপ ধারণ করেন এ দুই ব্যাটসম্যান। পাওয়ারপ্লেতে পাকিস্তান রান সংগ্রহ করে ৪৯। দ্বাদশ ওভারেই শতরানের জুটি পূর্ণ করেন বাবর-রিজওয়ান। সেখান থেকে দুজন মিলে আরো ভয়ানক হন। ইংলিশ বোলারদেরকে তুনোধুনো করে পরের ৫০ রান তুলেন মাত্র ১৯ বল থেকে।

দলীয় ১৫০ রানের মাথায় ইংল্যান্ডকে প্রথম ব্রেক থ্রু এনে দেন ডেভিড উইলি। ১৫৩.৬৫ স্ট্রাইক রেটে ৪১ বলে ৬৩ রান করে আউট হন রিজওয়ান। পাকিস্তানের ব্যাটসম্যানরা এতই বিধ্বংসী ছিলেন যে দুই অঙ্কে পৌঁছানো পাঁচজনের মাঝে রিজওয়ানের ১৫৩.৬৫ স্ট্রাইক রেট ছিল সর্বনিম্ন।

এসেই ঝড় তুলেন শোহাইব মাকসুদ। তবে ইনিংস লম্বা করতে পারেননি তিনি। টম কারানের বলে ২ ছক্কা আর ১ চারে সাজানো ৭ বলে ১৯ রান করে বিদায় নেন মাকসুদ। পরের ওভারে বিদায় নেন বাবর আজমও। শতক থেকে ১৫ রান দূরে থেকে ডেভিড উইলির বলে উইকেটের পেছনে ক্যাচ দেন তিনি। তার ৪৯ বলে ৮৫ রানের ইনিংসে ছিল ৮ চার আর ৩ ছক্কা।

এরপর টর্নেডোর বেগে ৪৬ রানের জুটি গড়েন ফখর জামান আর মোহাম্মদ হাফিজ। দুজনই মারেন একটি করে চার আর তিনটি করে ছক্কা। হাফিজ ১০ বলে ২৪ রান করে ১৯তম ওভারে ও ফখর ৮ বলে ২৬ রান করে শেষ ওভারে আউট হন। ২০ ওভারে ৬ উইকেটে ২৩২ রান করে থামে পাকিস্তান। শেষ পাঁচ ওভারে ৭৭ রান সংগ্রহ করে পাকিস্তান।

চার-ছক্কার তুফানের ম্যাচে শেষ হাসি পাকিস্তানের
জবাব দিতে নেমে শুরুতেই হোঁচট খায় ইংল্যান্ড। ইনিংসের দ্বিতীয় ওভারে নিজের বলে নিজেই অসাধারণ এক ক্যাচ নিয়ে ডেভিড মালান আর জেসন রয়ের উদ্বোধনী জুটি ভেঙে দেন শাহীন শাহ আফ্রিদি। ৬ বলে মাত্র ১ রান করেন মালান। তবে অপর প্রান্তে বিধ্বংসী ব্যাটিং করতে থাকেন জেসন রয়।

রয়কে সঙ্গ দিতে পারেননি জনি বেয়ারস্টো ও মঈন আলী। ৭ বলে ১১ রান করে শাহীনের গতির কাছে পরাস্ত হন বেয়ারস্টো। টাইমিংয়ে গড়বড় করে ক্যাচ দেন ইমাদ ওয়াসিমের হাতে। মঈন আলীকে সাজঘরে পাঠান মোহাম্মদ হাসনাইন, দারুণ ক্যাচ নেন হারিস রউফ। ৪৮ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে ইংল্যান্ড।

চতুর্থ উইকেটে রয়কে সাথে নিয়ে ৩৪ রান যোগ করেন লিয়াম লিভিংস্টোন। ১৩ বলে ৩২ রান করে শাদাব খানের বলে পয়েন্টে ক্যাচ দিয়ে রয় ফিরেন সাজঘরে। তবে অপর প্রান্তে চলতে থাকে লিয়াম লিভিংস্টোনের দানবীয় ব্যাটিং প্রদর্শনী। অধিনায়ক ইয়ন মরগান তাকে সঙ্গ দিতে থাকেন।

দুর্দান্ত ব্যাটিং করে ১৭ বলেই অর্ধশতক পূরণ করেন লিভিংস্টোন। ইয়ন মরগানও তার সঙ্গে যোগ দিতে গেলে ধরা পড়েন রউফের হাতে। ১৫ বলে ১৬ রান করেন মরগান। এরপর আর কেউ যোগ্য সঙ্গ দিতে পারেনি লিভিংস্টোনকে। লিভিংস্টোন দারুণ শতক হাঁকালেও বাকিদের ব্যাটে ঝড় ওঠেনি।  ফলে চাপ বাড়তে থাকে লিভিংস্টোনের ওপর। শতরান পূর্ণ করার পর ছক্কা হাঁকাতে গিয়ে শাহীনের হাতে ক্যাচ দিলে অসাধারণ ইনিংসের সমাপ্তি ঘটে।

লুইস গ্রেগরি ১১ বলে ১০ আর ডেভিড উইলি ১১ বলে ১৬ রান করলে তা শুধু পরাজয়ের ব্যবধানই কমায়। লোয়ার অর্ডার দ্রুত গুটিয়ে গেলে ২০১ রান করে অলআউট হয় ইংল্যান্ড।

সংক্ষিপ্ত স্কোর 

পাকিস্তান ২৩২/৬, ২০ ওভার
বাবর ৮৫, রিজওয়ান ৬৩, ফখর ২৬
কারান ২/৪৭, গ্রেগরি ১/২৫

ইংল্যান্ড ২০১/১০, ১৯.২ ওভার
লিভিংস্টোন ১০৩, রয় ৩২, উইলি ১৬
শাহীন ৩/৩০, শাদাব ৩/৫২