SCORE

সর্বশেষ

‘দেশের হয়ে যে কোনো ভালো পারফরম্যান্সই সবকিছুর আগে।’

বাংলাদেশের কারো নামের সাথে যদি রেকর্ড কথাটা ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে থাকে তাহলে সেটা সাকিব আল হাসান। ক্যারিয়ারে ইতোমধ্যে মালিক হয়েছেন অসংখ্য রেকর্ডের, সেই সাথে রেকর্ড বই এলোমেলো করে নতুন করে নিজের নামে লিখেছেন অসংখ্য মাইলফলক স্পর্শের গল্প।

shakib সাকিব

দেশের হয়ে মাঠে নামলেই কোনো না কোনো রেকর্ড হয়ে যায় তাঁর। বিশ্বজুড়ে ফ্র্যাঞ্চাইজিভিত্তিক লিগগুলোতে বাংলাদেশের পোস্টার বয় খেলেছেন নিয়মিতই। ট্রফিও জিতেছেন বেশ কয়েকবার। দু’দিন আগে এক অনন্যসাধারণ দুই রেকর্ডের মালিক হয়েছেন বিশ্বসেরা এই অলরাউন্ডার। টি-টোয়েন্টি ইতিহাসে পঞ্চম ক্রিকেটার হিসেবে ৩০০ উইকেটের মাইলফলক ছুঁয়েছেন। টি-টোয়েন্টি ক্রিকেট ইতিহাসে ডোয়াইন ব্রাভো, লাসিথ মালিঙ্গা, সুনিল নারাইন, শহীদ আফ্রিদিদের সাথে এই এলিট ক্লাবে ঢুকেছেন তিনি।

Also Read - মজিদের ডাবলের বিপক্ষে লিটন দাসের সেঞ্চুরি

অন্যদিকে ডোয়াইন ব্রাভোর পর দ্বিতীয় অলরাউন্ডার হিসেবে টি-টোয়েন্টিতে ৪ হাজার রান ও ৩০০ উইকেট শিকারিদের এলিট ক্লাবেও নাম লেখিয়েছেন ৩১ বছর বয়সী বাঁহাতি এ স্পিনার। আইপিএলে পুরনো হোম গ্রাউন্ড ইডেন গার্ডেনে স্বাগতিক কলকাতা নাইট রাইডার্সের বিপক্ষে ২১ বলে ২৭ রানের ইনিংস খেলার পথে টি-টোয়েন্টি ক্যারিয়ারে প্রবেশ করেছিলেন চার হাজারি ক্লাবে। একই ম্যাচে গুরুত্বপূর্ণ দুটি উইকেট নিজের ঝুলিতে নিয়ে হাতছানি দিয়ে রেখেছিলেন পরবর্তী ম্যাচেই অলরাউন্ডারদের দুর্লভ অর্জনের এলিট ক্লাবে প্রবেশ করার। শেষ পর্যন্ত কিংস ইলেভেন পাঞ্জাব ও চেন্নাই সুপার কিংসের বিপক্ষে উইকেটশূন্য থাকলে অপেক্ষা বাড়ে তার। অবশেষে, মুম্বাইয়ের বিপক্ষে এই কোটা পূর্ণ করলেন বাংলাদেশের সাকিব।

বাংলাদেশের অনলাইন ভিত্তিক নিউজ পোর্টাল বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোরকে এক সাক্ষাৎকারে নিজের অনুভূতির কথা জানান সাকিব। ৩০০ উইকেট পাওয়ার মত বড় অর্জন সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘আমারও কাল থেকে এটিই মনে হচ্ছে। টি-টোয়েন্টিতে উইকেট তো বেশি পাওয়া যায় না। চার ওভার বোলিংয়ের ক্রিকেটে ৩০০ উইকেট মানে অনেক উইকেট। ভালো লাগছে তো বটেই। অবাকও লাগছে। নিজেও বুঝলাম না কিভাবে ৩০০ উইকেট হয়ে গেল!

৩০০ উইকেট ও চার হাজার রানের মাইলফলক স্পর্শ করে রোমাঞ্চিত ছিলেন কি না এমন প্রশ্নের জবাবে সাকিবের জবাবটা সোজাসাপ্টা, ‘করছে না বললে ভুল হবে। হয়ত প্রকাশের ধরনে খুব উচ্ছ্বাস নেই। সেটা আমার কখনোই থাকে না। তবে ভালোলাগা তো আছেই। এই ডাবল তো কেবল আর একজনের আছে। আমি জানি এটা অনেক বড় অর্জন।

যে দলের হয়ে যেখানে খেলি না কেন, আমি চেয়েছি প্রতিটি ম্যাচেই ভালো করতে। সেই চেষ্টায় একটু একটু করে এগিয়েই এসব অর্জন। এই মাইলফলকগুলো মনে করিয়ে দেয়, নিজের কাজটা মনে হয় খুব খারাপ করিনি।

তবে সত্যি বলতে, এখন হয়তো এসবের মাহাত্ম্য পুরো বুঝতেও পারব না। আশা করি আরও অনেক দিন খেলব। সব ঠিক থাকলে হয়তো আরও রান করব, উইকেট নেব। ক্যারিয়ার শেষে হয়ত যখন পেছন ফিরে তাকাব, তখন এইসব অর্জনের ওজন আরও ভালো করে বুঝতে পারব। তখন আরও বেশি গর্ব হবে।’

এসব অর্জনের মধ্যে দেশের হয়ে পারফরম্যান্সকেই বেশি গুরুত্ব দেন এমনটাই জানান সাকিব। এগিয়ে রাখলেন পাকিস্তানের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের পারফরম্যান্সকে। সাথে বারবাডোজের হয়ে রেকর্ড গড়া ছয় রানে ছয় উইকেটকে। তিনি বলেন, ‘দেশের হয়ে যে কোনো ভালো পারফরম্যান্সই সবকিছুর আগে। ছোটখাটো অনেক পারফরম্যান্স বা অবদান অনেক সময় বাংলাদেশকে জেতাতে সাহায্য করেছে, সবই ভালো লাগার। তবু একটি বেছে নিতে বললে, পাকিস্তানের বিপক্ষে ইনিংসটি এখন মনে পড়ছে (২০১২ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে পাল্লেকেলেতে ৫৪ বলে ৮৪)।

জাতীয় দলের বাইরে বললে, দুইবার ৬ উইকেট নিয়েছি। তার মধ্যে প্রথমটি ৬ রানে ৬ উইকেট (২০১৩ ক্যারিবিয়ান প্রিমিয়ার লিগে), সেটি তো আসলে স্বপ্নের বোলিং ফিগার। আর কে কবে এমন কিছু করতে পারবে, কে জানে! আর সব মিলিয়ে যদি বলেন, এবারের এই ডাবল হওয়ার পর সত্যিই ভালো লাগছে।

নিজের নতুন ফ্র্যাঞ্চাইজিতে ভালোই মানিয়ে নিয়েছেন সাকিব জানিয়ে রাখলেন সেটাও, ‘ম্যানেজমেন্ট, টিমমেট সবার সঙ্গেই মানিয়ে নিয়েছি। বেশ ভালো আছি। বলছি না যে কলকাতায় ভালো ছিলাম না, তবে হায়দরাবাদে একটু বেশি কমফরটেবল লাগছে এখনও পর্যন্ত।

এছাড়া কোচ টম মুডি ও কাপ্তান উইলিয়ামসন নিয়েও প্রশংসার ফুলঝুড়ি ঝড়িয়েছেন সানরাইজার্সের এবারের বড় ভরসা লাল সবুজের সাকিব আল হাসান।

 

আরো পড়ুনঃ আফগানিস্তান সিরিজের জন্য নিজেকে প্রস্তুত করছেন সাব্বির

Related Articles

আইপিএলে জুয়ার সঙ্গে জড়িত আরবাজ খান!

প্রেসিডেন্টের পরেই স্থান রশিদের!

‘টি-টোয়েন্টি হটাও, টেস্টে মনোযোগ দাও’

পারফরম্যান্স বিবেচনায় সাকিবের মূল্য প্রায় ৯ কোটি!

“আরেক ওভার করলে তো ম্যাচ ওখানেই শেষ!”