*রবিউল ইসলাম
২০১১ সালে ঘরের মাঠে বিশ্বকাপ খেলে বাংলাদেশ। সেই বিশ্বকাপে বাংলাদেশের পেসার শফিউলের কাছ থেকে একটি বল সংগ্রহ করেছিল শাহরিয়ার আহমেদের বড় ভাই জসিম উদ্দিন। সেই বল দিয়েই ২০১৩ সালে মাত্র ৬ বছর বয়সে ক্রিকেটের হাতেখড়ি শাহরিয়ারের। বাঁহাতি এই স্পিনিং অলরাউন্ডারের যাত্রা শুরু হয়েছিল খেলার প্রতি ভালোবাসা আর এক টুকরো বিশ্বকাপ স্মৃতি দিয়ে। বেশিরভাগ শিশু যখন খেলাধুলা নিয়ে বাবা-মায়ের বকুনি খায়, শাহরিয়ারের ক্ষেত্রে ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন চিত্র। তার বাবা, সাবেক সেনা কর্মকর্তা কবির আহমেদ ছোটবেলা থেকেই ছেলেকে একজন পেশাদার ক্রিকেটার হিসেবে দেখতে চেয়েছেন। বাবার সেই স্বপ্ন একসময় ছড়িয়ে পড়ে পুরো পরিবারে। পরিবারের অবিচল সমর্থনেই আজ অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ দলের গুরুত্বপূর্ণ সদস্য শাহরিয়ার। [গুগল নিউজে বিডিক্রিকটাইম ফলো করুন]
ছোটবেলার শাহরিয়ার আহমেদ। শাহরিয়ারের ক্রিকেটার হয়ে ওঠার পেছনে সবচেয়ে বড় অনুপ্রেরণা তার সৌদি প্রবাসী বড় ভাই জসিমের। শাহরিয়ার প্রথম ক্রিকেট গুরু তিনিই। ফেনীর বাসাতে ক্রিকেট বলে ভাইকে অনুশীলন করাতেন জসিম। বড় ভাই বল করতেন, শাহরিয়ার ব্যাটিং করতেন। দুই ভাইয়ের এমন ক্রিকেট উৎসবে বাসার দরজা-জানালাও রেহাই পায়নি—একটার পর একটা ভেঙেছে, তবুও থামেনি খেলা। এমনকি গ্রামে সদ্য তোলা ধানক্ষেত পর্যন্ত পরিণত হয়েছিল তাদের অনুশীলন মাঠে।
তবে বাঁহাতি স্পিনিং অলরাউন্ডার শাহরিয়ারের ক্রিকেটার হয়ে উঠার মূল প্রেরণা বাংলাদেশের পোষ্টারবয় সাকিব আল হাসান। সাকিবের মতো বাঁহাতি অলরাউন্ডার হওয়ার স্বপ্নে বিভোর ছিলেন ছোট্ট শাহরিয়ার। শুধু ব্যাটে-বলে নয়, মাঠের বাইরে প্রভাব বিস্তার করাও শাহরিয়ারের লক্ষ্য। ভবিষ্যতে জাতীয় দলে একজন ‘ডমিনেটিং ক্যারেক্টার’ হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতেই এগিয়ে যাচ্ছেন প্রতিশ্রুতিশীল এই ক্রিকেটার।
অনূর্ধ্ব-১৯ যুব বিশ্বকাপে বাংলাদেশের ১৫ যোদ্ধাকে নিয়ে ধারাবাহিক প্রতিবেদন প্রকাশিত হচ্ছে বিডিক্রিকটাইমে। আজ থাকছে বাঁহাতি স্পিনিং অলরাউন্ডার শাহরিয়ার আহমেদের সাক্ষাৎকার।
প্রশ্ন: মাত্র ছয় বছর বয়সে নাকি ক্রিকেটে পথচলা শুরু, সেই গল্পটা শুনতে চাই?
শাহরিয়ার আহমেদ: হ্যাঁ, আমি প্রাইমারি স্কুলে ভর্তি হওয়ার পর থেকেই ক্রিকেট বলে খেলতে শুরু করি। তখনো একাডেমিতে ভর্তি হইনি, তবে বাড়ির সামনে, বারান্দা কিংবা গ্রামের ধানক্ষেতে গিয়েই খেলতাম। মজার ব্যাপার হলো, আমি শুরু থেকেই ক্রিকেট বলেই খেলতাম। আমার আব্বু আর বড় ভাই সবসময় আমাকে উৎসাহ দিতেন, প্রয়োজনীয় সরঞ্জামও কিনে দিতেন।
প্রশ্ন: বিশ্বকাপের বল হাতে পেয়েই নাকি আপনি অনুশীলন শুরু করেছিলেন?
শাহরিয়ার: হ্যাঁ। আমার ভাই আমার জন্য ঢাকা থেকে ছোট একটা ব্যাট কিনে নিয়ে এসেছিলেন। ২০১১ বিশ্বকাপের সময় আমার বড় পেসার শরিফুল ভাইয়ের কাছ থেকে আমার জন্য বল নিয়েছিল। আমার ভাই তখন ঢাকায় পড়াশোনা করতো। উনি খেলা দেখতে এসেছিল, এরপর শরিফুল ভাইয়ের কাছ থেকে আমার কথা বলে বল নিয়েছিল। সেই বল দিয়েই আমি ২০১৩ সালে ক্রিকেট অনুশীলন শুরু করি।
প্রশ্ন: আপনি নাকি ঘরের দরজা-জানালা সব ভেঙ্গে ফেলেছিলেন?
শাহরিয়ার: হ্যাঁ (হাসি)। আমরা বাড়ির মধ্যেই খেলতাম; ঘরের –বারান্দা সবখানেই খেলতাম। বড় ভাই বোলিং করত, আমি ব্যাটিং করতাম। এভাবে খেলতে গিয়ে অনেক দরজা-জানালা ভেঙ্গে ফেলেছি। ধানক্ষেতে অনেক খেলেছি!
প্রশ্ন: ধানক্ষেতে কীভাবে খেলা সম্ভব?
শাহরিয়ার: ধান কাটার পর জমিটা একদম ফাঁকা হয়ে যেত। তখন আমি ওখানেই ক্রিকেট খেলা শুরু করতাম। আমার কিছু বন্ধুবান্ধব ছিল, যাদের ক্রিকেট নিয়ে তেমন ধারণা ছিল না। তাদের চকলেটের লোভ দেখিয়ে বলতাম, “চলো বোলিং করো।” ওরা বোলিং করত, আমি ব্যাটিং করতাম। ওরা আগে কখনো ক্রিকেট বল দেখেনি, আমার কাছে দেখে বেশ আগ্রহ নিয়ে খেলত। আর আমার ভাই আমাকে আলাদা করে ক্যাচিং অনুশীলনও করাত।
প্রশ্ন: আনুষ্ঠানিক ভাবে কবে থেকে ক্রিকেট শেখা শুরু করলেন?
শাহরিয়ার: ২০১৬ সালে ফেনী ক্রিকেট একাডেমিতে ভর্তি হই। ওই একাডেমি আমার বাড়ির কাছেই ছিল। ওখানেই মূলত সিরিয়াস ভাবে আমার ক্রিকেট শেখার মিশন শুরু হয়। আমাদের ফেনীতে খুব বেশি সুযোগ সুবিধা নেই। তাও আমাদের বিভাগীয় কোচ রিয়াজ উদ্দিন রবিন স্যার অনেক সাহায্য করেছেন। অতিরিক্ত অনুশীলন করিয়েছেন। সবমিলিয়ে আমার এতোটুকু আসার পেছনে তার অবদান অনেক।
যুব বিশ্বকাপের মঞ্চ মাতাবেন শাহরিয়ার। প্রশ্ন: আপনিতে বিকেএসপির ছাত্র, সেখানে ভর্তি হলেন কবে?
শাহরিয়ার: ফেনী থেকেই আমি অনূর্ধ্ব-১২ ফেস্টিভালে খেলেছি। এরপর অনূর্ধ্ব-১৪, অনূর্ধ্ব-১৬ ও অনূর্ধ্ব-১৮ আমি চট্টগ্রাম বিভাগ থেকে খেলেছি। ২০২০ সালে আমি বিকেএসপি সুযোগ পাই।
প্রশ্ন: পড়াশোনা বাদ দিয়ে ক্রিকেট, বাড়ি থেকে কোন বাঁধা ছিল কিনা?
শাহরিয়ার: না। আমার আব্বু-আম্মু, আমার পুরো পরিবার সকলেই ছোট বেলা থেকেই আমাকে সাপোর্ট দিয়ে এসেছে। আমার বড় ভাই, বোন এবং বোনেরর জামাই সবার স্বপ্ন আমি জাতীয় দলে খেলবো। সবাই সেটাই চায়।
প্রশ্ন: বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই পরিবার থেকে খেলাধুলায় বাঁধা আসে, কিন্তু আপনার ক্ষেত্রে উল্টোটা দেখা যায়। আপনার চারপাশের পরিবেশ কি ক্রিকেটমুখী ছিল?
শাহরিয়ার: না, তেমন না আসলে। তবে আমার আব্বু ক্রিকেট খুব পছন্দ করতেন। তিনি হাবিবুল বাশার স্যারের বড় ভক্ত ছিলেন। যদিও নিজে খেলেননি, কিন্তু খেলার প্রতি তার ভালোবাসা ছিল অনেক। তিনি বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে ছিলেন। আমি ছোটবেলা থেকেই খেলতাম, আব্বু দেখতেন আর উৎসাহ দিতেন। আমার আগ্রহ দেখেই তিনি আমাকে ক্রিকেট একাডেমিতে ভর্তি করিয়ে দেন।
প্রশ্ন: পুরো পরিবার আপনাকে নিয়ে স্বপ্ন দেখছে, আপনি একদিন বড় ক্রিকেটার হবেন। এই চাপ কিভাবে সামলান?
শাহরিয়ার: আসলে পরিবার আমার জন্য আশীর্বাদ। ওদের স্বপ্নকে চাপ নয়, আমি অনুপ্রেরণা হিসেবেই দেখি। আমি মন থেকে পরিশ্রম করছি, নিজেকে উন্নত করার চেষ্টা করছি। আমার বিশ্বাস—আল্লাহ নিশ্চয়ই একদিন আমাকে সাফল্য দিবেন। আমি আত্মবিশ্বাসী যে, ভালো ক্রিকেটার হবো ইনশাআল্লাহ।
প্রশ্ন: টিভিতে সাকিবের খেলা দেখেই কি অলরাউন্ডার হওয়ার স্বপ্ন দেখেছিলেন?
শাহরিয়ার: হ্যাঁ, টিভিতে সাকিব ভাইয়ের খেলা দেখেই আমার অলরাউন্ডার হওয়ার স্বপ্ন তৈরি হয়। আমি ওনার অনেক বড় ভক্ত। ছোটবেলা থেকেই ওনার ব্যাটিং-বোলিং ফলো করতাম। বিশেষ করে ওনার মাইন্ডসেট অনেক স্ট্রং। বোলিংয়ে ব্যাটারকে দারুণভাবে রিড করতে পারেন, ব্যাটিংয়ে থাকেন আগ্রাসী। আমি নিজেও যেহেতু বাঁহাতি, সাকিব ভাইকেও বাঁহাতি দেখে ভাবতাম—আমি বড় হয়ে ওনার মতোই ব্যাটিং করবো, বোলিং করবো। অলরাউন্ডার হওয়ার ইচ্ছেটা তখন থেকেই জন্মায়। ছোটবেলার আমার ক্রিকেট চেতনায় সাকিব ভাইই সবচেয়ে বড় অনুপ্রেরণা।
বিশ্বকাপের মঞ্চ মাতাতে প্রস্তুত শাহরিয়ার। প্রশ্ন: শুনেছি, ২০১৬ সালে সাইফউদ্দিনকে দেখে আপনার অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ খেলার স্বপ্ন জেগেছিল?
শাহরিয়ার: আসলে সেটা ২০১৪ সালের ঘটনা। সাইফ ভাই তখন অনূর্ধ্ব-১৯ দলে ছিলেন, আর বিশ্বকাপের আগে ফেনীতে এসেছিলেন। আমি তখন অনেক ছোট, ঠিকভাবে বুঝতামও না অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ মানে কী। শুধু দেখেছিলাম উনি বাংলাদেশের ট্র্যাকসুট পরে মাঠে এসেছেন। আমি অবাক হয়ে তাকিয়ে ছিলাম। তখনই মনে মনে ভাবি—একদিন আমাকেও ওনার মতো ট্র্যাকসুট পরে মাঠে নামতে হবে। আজ প্রায় ১০ বছর পর, সেই স্বপ্নটাই সত্যি হওয়ার পথে।
প্রশ্ন: বিশ্বকাপের আগে একজন অলরাউন্ডার হিসেবে আপনার প্রস্তুতি কেমন?
শাহরিয়ার: অলরাউন্ডার হিসেবে আমি চেষ্টা করি দুই বিভাগেই ভালো প্রস্তুতি নিতে। বোলিংয়ে আমার লক্ষ্য থাকে ব্যাটসম্যানকে রিড করে টাইট লাইন-লেন্থে বল করা। বিশেষ করে ওয়ানডে ফরম্যাটে আমি ডট বল তৈরি করার চেষ্টা করি। ধীর গতির আর জোরে করা বলের মিশেল রাখি, যাতে ব্যাটসম্যান সহজে বুঝতে না পারে। আমার সবচেয়ে বড় অস্ত্র হলো আর্ম বল। এশিয়া কাপে এই ডেলিভারিতেই অনেক উইকেট পেয়েছি। ব্যাটিংয়ে আমি সব সময় পরিস্থিতি বুঝে খেলতে চেষ্টা করি। দল যখন যেমন চায়, সেই অনুযায়ী মানিয়ে নিয়ে খেলার মানসিকতা নিয়ে প্রস্তুত হচ্ছি।
প্রশ্ন: বয়সভিত্তিক ক্রিকেটের শেষ ধাপে দাঁড়িয়ে আপনি। লক্ষ্য কী থাকবে?
শাহরিয়ার: এই পর্যায়ে এসে ভালো করার একধরনের ক্ষুধা তৈরি হয়েছে। এতদিন অনেক পরিশ্রম করেছি, এখন সময় এসেছে সেটা মাঠে প্রমাণ করার। বিশ্বকাপে খেলা তো প্রতিটি ক্রিকেটারেরই স্বপ্ন—আলহামদুলিল্লাহ, আমার সেই স্বপ্ন পূরণ হতে যাচ্ছে। আমি চেষ্টা করব নিজের সেরাটা দেওয়ার। সর্বশেষ এশিয়া কাপে হয়তো ব্যাটিংটা ভালো হয়নি, কিন্তু আমি আত্মবিশ্বাসী—ইনশাআল্লাহ, ব্যাটিংয়েও কামব্যাক করব। এই দিকটাতেও আমি কঠোর পরিশ্রম করছি। আমি সবসময় নিজেকে একজন অলরাউন্ডার হিসেবেই ভাবি। ব্যাটিং-বোলিং দুই জায়গাতেই ইনশাআল্লাহ নিজের শতভাগ দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে নামবো মাঠে।
প্রশ্ন: আপনি তো একসময় টপ অর্ডারে ব্যাটিং করতেন, এখন নিচে খেলতে হচ্ছে—মানিয়ে নিতে কোনো সমস্যা হচ্ছে না?
শাহরিয়ার: আমি অনূর্ধ্ব-১৯ দলের হয়ে ব্যাটিং অর্ডারের বিভিন্ন পজিশনেই খেলেছি। এখন নিচের দিকে ব্যাটিং করতে হলেও এতে আমি হতাশ হই না। কোচরা আগেই আমাকে মানসিকভাবে প্রস্তুত থাকতে বলেছেন। আমি সেই অনুযায়ী প্র্যাকটিসও করি, মাইন্ডসেটও গড়ে তুলেছি। দলের প্রয়োজন অনুযায়ী যেখানেই ব্যাট করতে হোক, প্রস্তুত আছি।
প্রশ্ন: সাকিবকে পছন্দের কারণ জানা গেছে। কিন্তু বেন স্টোকস তো পেস বোলিং অলরাউন্ডার, তাঁকে পছন্দের বিশেষ কারণ কী?
শাহরিয়ার: বেন স্টোকসের ব্যাটিংটাই আমার সবচেয়ে ভালো লাগে। বিশেষ করে তিনি যেভাবে চাপের মধ্যে ব্যাটিং করেন, সেটা আমি উপভোগ করি। ফরম্যাট যেটাই হোক—ওয়ানডে, টি-টোয়েন্টি কিংবা টেস্ট—উনি সবখানেই নিজেকে মানিয়ে নিতে পারেন। ওপেনিং হোক, মিডল অর্ডার বা লোয়ার অর্ডার—সব জায়গায়ই খেলতে পারেন। দরকার হলে আগ্রাসী খেলেন, আবার পরিস্থিতি অনুযায়ী ডিফেন্সিভ খেলাও করতে পারেন। এই মানিয়ে নেওয়ার ক্ষমতাটাই আমি ফলো করি।
একনজরে
নাম: শাহরিয়ার আহমেদ।
ডাকনাম: শাহরিয়ার।
জন্ম: শর্শদি ইউনিয়ন, ফেনী জেলা।
জন্ম তারিখ: ২১ ফেব্রুয়ারি ২০০৭।
বাবার নাম : কবির আহমেদ
মায়ের নাম: রাশেদা বেগম।
উচ্চতা: ৫ ফুট ৮
পড়াশোনা: এইচএসসি দ্বিতীয়বর্ষ
প্রথম ক্লাব: ফেনী ক্রিকেট একাডেমি।
বর্তমান ক্লাব: বিকেএসপি।
ব্যাটিং স্টাইল: বাঁহাতি
প্রিয় শর্ট: কভার ড্রাইভ।
বোলিং স্টাইল: বাঁহাতি
প্রিয় ডেলিভারি: আর্ম বল
যুব ওয়ানডেতে উইকেট: ৪ ইনিংসে ৮ উইকেট
প্রিয় মানুষ: বাবা
প্রিয় ক্রিকেটার : সাকিব আল হাসান ও বেন স্টোকস
ক্যারিয়ার সেরা মুহূর্ত: গত বছর ওয়াইসিএলে টি টোয়েন্টি ফরম্যাটে ও ওয়ানডে ফরম্যোটে প্লেয়ার অফ দা টুর্নামেন্ট হওয়া।
স্কুল ক্রিকেট: শাইন একাডেমির হয়ে এক ম্যাচ।