সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশের অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত। **ইংরেজি
অবশ্যই হতাশাজনক ব্যাটিং। তবে টস অনেক বড় ফ্যাক্টর ছিল। প্রথম ইনিংসে ব্যাট করা কঠিন ছিল, তিন ইনিংসে ব্যাট করাই কঠিন ছিল। তবে কোনো অজুহাত দিতে চাই না। আমরা বাজে ব্যাট করেছি তারাও অনেক ভালো বল করেছে। সামনে আমাদের টেকনিক্যাল জায়গাতে অনেক উন্নতি করতে হবে।
*ডারউইনে আটকে ছিলেন কিনা
ইমোশন তো থাকবেই। তবে পেশাদার হিসেবে ম্যাচে মনোযোগ দিতে হবে। আমি বিশ্বাস করি সবাই তা করেছেও। তবে মাঠে নিজেদের সেরাটা খেলতে পারিনি আমরা।
*শরিফুলের বোলিং, দ্রুত অলআউট হয়েছেন
অনেক খুশি। এই জায়গায় আমরা গত কয়েক বছরে অনেক উন্নতি করেছি, পেস বোলিং আক্রমণ। বাংলাদেশের পেসাররা গত কয়েক বছরে অনেক উন্নতি করেছে, তারা দারুণ করছে। হাসান-শরিফুল-তাসকিনরা যেভাবে বল করেছে, সব পেসার যেভাবে বল করছে গত কয়েক বছরে, আমি অনেক খুশি। এখানে এবং বাংলাদেশেও তারা অনেক ভালো করেছে। সব কাজ ঠিকভাবে করছে। ভালো ছন্দে আছে তারা। অধিনায়ক হিসেবেও আমি বেশ খুশি।
*২০ উইকেট তোলা
এই জায়গা নিয়ে আমরা অনেক কথা বলি, ২০ উইকেট নেওয়া। অনেকবারই নিয়েছি গত কয়েক বছরে। এটা ভালো ব্যাপার। এখানে উন্নতি করছি আমরা। ব্যাটিং ইউনিট হিসেবে বড় রান করা দরকার আমাদের, এখানে আরও উন্নতি লাগবে। কারণ বোলাররা দারুণ করে যাচ্ছে।
*টেস্ট ম্যাচে বড় দলের বিপক্ষে ভালো করা, ২ দিনে খেলা শেষ হয়ে যাওয়াটা ট্রেন্ড কিনা
প্রথমবার ২ দিনে খেলা শেষ হয়েছে এরকম নয়। এখানে অনেকবারই এভাবে ২ বা ৩ দিনে খেলা শেষ হয়েছে। এটা হতেই পারে। দল হিসেবে আমাদের ধারাবাহিক হতে হবে যদি সামনে আগাতে চাই। ব্যাটিংয়ে আমাদের ঠিকভাবে আগাতে হবে কারণ বোলাররা ভালো করে যাচ্ছে। আমাদের আরও শিখতে হবে যে, কীভাবে ভালো ক্রিকেট খেলে যেতে পারি। এমন অভিজ্ঞতা আগেও হয়েছে আমাদের। এই অভিজ্ঞতা সামনে আগাতে কাজে দেবে।
*কী কী শিখলেন এখান থেকে
অনেক কিছুই। পেস এন্ড বাউন্স অনেক চ্যালেঞ্জ ছিল। এই অভিজ্ঞতা কাজে দিবে অবশ্যই। তাদের বোলিং আক্রমণ দারুণ মানসম্পন্ন ছিল। চেষ্টা করব উন্নতি করতে। দক্ষিণ আফ্রিকার বিশ্বকাপে এই অভিজ্ঞতা কাজে দেবে। এখানে আমরা ২৩ বছর পরে এসেছি। এমন কন্ডিশনে এই বোলিং আক্রমণের বিরুদ্ধে এত বছর খেলা সহজ নয়। যদি আমরা নিয়মিত আসতে পারতাম তাহলে প্লেয়াররা মানিয়ে নিয়ে ভালো ক্রিকেট খেলতে পারত। ৯০% প্লেয়ার এখানে আগে খেলেনি। ফলে তারা জানে না কীভাবে মানিয়ে নিয়ে এমন বোলিং আক্রমণের বিরুদ্ধে খেলতে হয়। আমরা চাই এমন কন্ডিশনে নিয়মিত খেলতে, ২৩ বছর বা ২৫ বছর পর পর নয়।
**বাংলা
*র্যাঙ্কিংয়ে ছয়ে উঠেছি
তাই নাকি? (হাসি) আমি জানতাম না। ভালো খবর অবশ্যই। তবে ভালো খবরটা আরও ভালো হত যদি এই টেস্টে আমরা ভালো খেলতে পারতাম। ছয় নাম্বারে টেস্টে প্রথম আসতে পারলাম, এটা অনেক বড় অর্জন।
*২ দিনে হেরে যাওয়ার মত উইকেট ছিল কিনা
দ্বিতীয় ইনিংসে আমরা আরও ভালো ব্যাটিং করতে পারতাম। ওরাও যখন ব্যাট করেছে, যদিও ওরা দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করেছে, তবুও অনেক সংগ্রাম করেছে। উইকেট অনেক কঠিন ছিল এটা অবশ্যই মানতে হবে। কিছু বাজে শট ছিল। কারও দিকে আমি আঙুল তুলতে চাই না। দল হিসেবে আমরা ভালো ব্যাট করিনি। আমি সেট হয়ে যেভাবে আউট হয়েছি এটা মেনে নেওয়ার মত না। আমার আরেকটু লম্বা করা উচিত ছিল। সবাই এখানে খুব ভালোভাবে চেষ্টা করেছে। এরকম বোলিং আক্রমণের বিরুদ্ধে এরকম কন্ডিশনে আমরা খেলিই না, কখনও খেলিই নাই। ফলে আসলে কোনো ব্যাটারকে আলাদা করে পয়েন্ট আউট করা আমার মনে হয় না উচিত হবে। এই অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে কীভাবে ভালো করতে পারি সামনে এটা জরুরি। সামনে এমন জায়গায় যেন এরকম ভুল আবার না হয় এটাও জরুরি।
*লিটনের তিন ডাক, টেইলের ব্যাটিং
লিটন ভাই আগে এরকম ৩-৪টা ভালো ইনিংসও খেলেছে। ফলে এই তিন শুন্য আমি সেভাবে দেখছিই না। আমি এখনও মনে করি লিটন ভাই যেভাবে ছয়ে নেমে রান করে দলের জন্য সেটা বেশি কার্যকর হয়। হতে পারে, এরকম কঠিন কন্ডিশনে ভালো বলে অনেক সময় আউট হয়ে যেতে পারে। আমরা তার কোয়ালিটি জানি এবং টেস্ট দলে কীভাবে প্রভাব রাখছেন সেটা আমরা জানি। আশা করি সামনে উন্নতি করবে।
লোয়ার অর্ডারের ব্যাটাররা অনেক ভালো করেছে। গত সিরিজেও তারা ভালো করেছে। তারা উন্নতি করছে, এটা ইতিবাচক দিক। মুশফিক ভাই তাদের নিয়ে খেলছিলেন। অনেক সময় লিটন ভাই খেলে। অনেক সময় মিরাজ খেলে। আজকে আসলে একা কিছু করা সম্ভব ছিল না। এখানে লোয়ার অর্ডাররা ব্যাট করার সুযোগ পেয়েছে। তারা এই বোলিংয়ের বিরুদ্ধে ভালো করেছে এটা সামনে কাজে দিবে। আমি এটা এভাবেই দেখছি। এখানে সুন্দর প্ল্যান ছিল। এই পরিস্থিতিতে একা কিছু করা সম্ভব ছিল না।
*ডারউইনের চেয়ে ভিন্ন কন্ডিশনে, বেশি ক্যাজুয়াল ছিলাম কিনা
ক্যাজুয়াল ছিলাম না। খুবই হতাশাজনক ব্যাটিং। আমরা ব্যাটিং ভালো করিনি। এত বছর পরপর এসে এরকম বোলিং এরকম কন্ডিশনে খেলা অনেক কঠিন। আমরা এত বছর পর এসে অজুহাত দিচ্ছি না। এখানে অনেক দল আছে যারা নিয়মিত খেলে তারাও কলাপ্স করে। আমরা দেখি। খারাপ খেলেছি, অনেক কঠিন ছিল অবশ্যই। প্লেয়াররা সবাই চেষ্টা করেছে। অবশ্যই আমরা আরেকটু ভালো ক্রিকেট খেলতে পারতাম।
*এই টেস্ট হারার পর কীভাবে উদযাপন
(হাসি) আপনারা কি ভুলে গেছেন প্রথম টেস্ট? আমি ভুলি নাই। আশা করি দেশের মানুষও ভুলে নাই। অনেক বড় অর্জন। তবে এই ম্যাচ আমরা ভালো ক্রিকেট খেলিনি। এটা হতেই পারে। সবাই চেষ্টা করেছে। আমরা কোন দলকে হারিয়েছি, এই ম্যাচ দেখলে বোঝা যাবে। ওরা যেভাবে কামব্যাক করেছে। টসে জিতে ফিল্ডিংও নিয়ে নিল, নরমালি ওরা করে না শুনলাম অনেক জায়গায়। এই অনেক কিছুই আমরা ওদেরকে চ্যালেঞ্জের মুখে দিয়েছি। ব্যাটিংয়ে তাদেরকে দুইশতে অলআউট করে দিয়েছি। সব মিলিয়ে অবশ্যই উদযাপন করা উচিত। এই টেস্ট ম্যাচ থেকে শেখা উচিত যে কীভাবে আমরা ভালো করতে পারি।
*৫ দিনের খেলা ২ দিনে শেষ হওয়া আইডিয়াল কিনা
ধন্যবাদ প্রশ্নটা করার জন্য। আমরা যখন উপমহাদেশে খেলি এক দিনে ১৮-১৯ উইকেট পড়লে সবাই অনেক কথা বলে। এই ম্যাচে প্রথম দিনে ১৮ উইকেট পড়েছিল। উইকেট চ্যালেঞ্জিং ছিল দেখেই ১৮ উইকেট পড়েছে। শুধু যদি এমন হইত আমাদের পড়েছে ওদের পড়ে নাই, এটা হলেও বুঝতাম। আমি বলব কঠিন চ্যালেঞ্জ ছিল। ওরা যেভাবে ব্যাট করেছে, আমাদের বোলাররা যেভাবে বল করেছে দেখলেই বুঝবেন ওরা কতটা টাফ টাইমের মধ্য দিয়ে গিয়েছে। যদিও দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করেছে। এরকম চ্যালেঞ্জ থাকবেই। ব্যাটার হিসেবে আমাদের এটাও মেনে নিতে হবে। আর একটা জিনিস বলতে চাই, যখন আমরা উপমহাদেশে খেলব তখন যেন এই জিনিসগুলো আমরা ভুলে না যাই।
*প্রথম টেস্টের জয়, প্রত্যাশা বেশি ছিল
হ্যাঁ প্রত্যাশা তো থাকেই। মুমিনুল ভাই অনেক ধারাবাহিক, হয়নি হতেই পারে এরকম। তামিম এরকমই খেলে, যেদিন খেলে অনেক প্রভাব রাখে। আমি একদমই চিন্তিত না। হাসান লাল বলে টানা ভালো করছে এক ম্যাচ এরকম যেতেই পারে। এই ম্যাচ থেকে একটা কথা বারবার বলছি যেন অভিজ্ঞতাটা কাজে লাগাতে পারি সামনে। এই ভুলগুলো যেন না ভুলে যাই। এটাই মেইন ফোকাস থাকা উচিত। প্লেয়াররাও বুঝতে পারছে এরকম কন্ডিশনে আমাদের ব্যাটিং বোলিং কীভাবে করা উচিত।
*ট্রফিটা?
(হাসি) আমি জানি না আসলে।
*হাসানের ফাইফার, সব মিলিয়ে সিরিজ নিয়ে কী বলবেন প্রাপ্তি নিয়ে
অনেক ভালো। আমি নিজেই ডাগআউটে যখন খেলা দেখছিলাম, ভাবছিলাম যে অনেক বড় দলকে হারিয়েছি। প্রথম ম্যাচ জেতার পর আমার সেভাবে এক্সাইটমেন্ট কাজ করেনি। গত দুই দিনে একটু বুঝ আসছে যে অনেক ভালো ম্যাচ জিতেছি। অবশ্যই গর্বের ব্যাপার। এরকম ব্যাপার আমাদের টেস্ট ক্রিকেটের জন্য অনেক সাহায্য করবে। নিউজিল্যান্ডে আমাদের জয় ছিল, অস্ট্রেলিয়াতে হলো, আশা করি সামনে দক্ষিণ আফ্রিকাতে হবে। যদি এমন করতে পারি তাহলে আমাদের টেস্ট ক্রিকেটের জন্য ভালো। এই ইতিবাচকগুলো নিয়ে যাওয়া উচিত। সাথে যে ভুলগুলো হয়েছে, এই কন্ডিশনে কীভাবে ব্যাটিং-বোলিং করতে হবে, এগুলো শিখতে পারলে আমাদের জন্য ভালো হবে।
*নিয়মিত আসা উচিত কিনা
আসা তো উচিতই। উপমহাদেশের দলগুলো সাধারণত এখানে খুব ভালো ক্রিকেট খেলে না। আমরা এত বছর পরে এসে এরকম একটা ফল করলাম। অবশ্যই আমাদের ডাকা উচিত। ডাকলে আমরা নিজেরাও এই কন্ডিশন সম্পর্কে জেনে ভালোভাবে চ্যালেঞ্জগুলো নিতে পারব। ভালো ক্রিকেট খেলব ইনশাআল্লাহ এটা বিশ্বাস করি।
৬ নাম্বারে উঠে এসেছি এটা অনেক ভালো ব্যাপার। টেস্ট ক্রিকেট নিয়ে আমার স্বপ্নের কথা বললে কেউ বিশ্বাস করতে চাইবে না। এটা সিক্রেট থাকুক, যদি কখনও অর্জন করতে পারি তাহলে বলব (হাসি)।
*বাকি ৩ দিন কী করবেন
ঘুমাব, অসুবিধা কী (হাসি)।
*এই কন্ডিশনে স্টার্কের বোলিং
কঠিন তো অবশ্যই এটা আগেই জানতাম। আমি অনেক উপভোগ করেছি। আমার ইচ্ছা ছিল এরকম বোলিংয়ের বিরুদ্ধে খেলব, বড় রান করব। কেমন লাগে, টিভিতে তো দেখি। অবশ্যই অনেক চ্যালেঞ্জ ছিল তবে আমার মনে হয় আমাদের যে ব্যাটিং আছে, যেখানে আছি, যদি এমন নিয়মিত খেলতে পারতাম আমাদের ব্যাটিং আরও উন্নতি করত। শুধু আমি না, সবাই এমন বোলিংয়ের বিরুদ্ধে খেলে অনেক উপভোগ করেছে।
*নাহিদ রানাকে মিস
অবশ্যই মিস করা অস্বাভাবিক কিছু না। সবচেয়ে ভালো দিক নাহিদ রানার জায়গায় যে খেলেছে, সে ১০০% দেওয়ার চেষ্টা করেছে। শরিফুল যেভাবে খেলেছে ইঞ্জুরির পর, এটা প্রমাণ করে যে আমরা কারও উপর নির্ভর না। ইতিবাচক দিক। যারা সুযোগ পাচ্ছে তারাই পারফর্ম করার চেষ্টা করেছে। অবশ্যই নাহিদ রানা থাকলে এমন কন্ডিশনে কেবল বোলিং করে দেখার সুযোগ হত বিশেষ করে স্লিপে যারা ফিল্ডিং করি তাদের দেখার সুযোগ হত, আশা করি সামনে হবে।
*তাসকিনের পেস ড্রপ
আমার মনে হয় এখনও অন্যতম সেরা বোলার। নতুন বলে ব্রেক থ্রু দেয়। অনেক বছর ধরে খেলছে অনেক অভিজ্ঞ এখন। নতুন বলে ভালো সুইং করে ব্যাটারদেরকে টাফ টাইম দেয়। পেস কমেছে অবশ্যই। আমি এখনও বিশ্বাস করি সে অন্যতম সেরা বোলার এবং সে ভালোভাবে কামব্যাক করবে।