মিরপুর টেস্টে আর ঘুরে দাঁড়াতে পারলো না বাংলাদেশ দল। তৃতীয় দিন শেষে চাপে থাকা বাংলাদেশ শেষ পর্যন্ত চতুর্থ দিনেও ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি। ওয়েস্ট ইন্ডিজকে ১৭০ রানের লক্ষ্য দিয়ে ৮ উইকেটের বড় ব্যবধানে ম্যাচ হেরেছে টাইগাররা। ঘরের মাঠে সব বিভাগেই হতাশাজনক পারফরম্যান্সের খেসারত দিয়ে ম্যাচ হেরেছে বাংলাদেশ দল। ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে এসেছিলেন দলের অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত। অধিনায়কের কণ্ঠে হতাশাই বেশি ঝরেছে। ঘুরে দাঁড়ানোর বিশ্বাসের কথাও শুনিয়েছেন। শান্তর সংবাদ সম্মেলনের সব কথা একসাথে দেখুন এবং পড়ুন। [গুগল নিউজে বিডিক্রিকটাইম ফলো করুন]
সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশের টেস্ট অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত। *১৭০ রান আসলেই ডিফেন্ড করার মতো ছিল কিনা
আমরা যখন ১৭০ রান ডিফেন্ড করতে নামি, সবার মধ্যে বিশ্বাস ছিল এই রান ডিফেন্ড করা যাবে। এখানে তাদেরকেও (ওয়েস্ট ইন্ডিজ) একটু কৃতিত্ব দিতে হবে। আমরা এই উইকেটে আরেকটু ভালো বল করতে পারতাম। আমরা খুব বেশি ভালো বল করিনি।
*ফাইনালের ভাবনা ছিল কিনা এমন উইকেটের পেছনে
না এরকম কোনো চিন্তা ছিল না। ম্যাচের আগেও বলেছি যে ফাইনালের চেয়ে একেকটা ম্যাচ ধরে আমরা চিন্তা করছি। প্রতিপক্ষের কী শক্তি আছে, দুর্বলতা আছে, সেভাবেই সব সেট করা হয়েছে। প্রথম দুই দিনে উইকেট প্রায় ভালোই ছিল। দুই দলই ভালো করতে পেরেছে। তবে আমার মনে হয় না ফাইনালের জন্য এমন কন্ডিশন করা হয়েছে।
*পেস এখন আমাদের শক্তি, স্পিন উইকেটে ব্যাটিং কলাপ্স, কন্ডিশনে ভুল করেছি কিনা
তখন আসলে (ওয়েস্ট ইন্ডিজ) ভালো বল করেছে। তবে এ ধরনের কন্ডিশনে উইকেটে এমন পরিস্থিতি আসে। তবে তখন ৩ উইকেটের জায়গায় যদি ১ উইকেট যেত, তাহলে ভালো হত, তবে হয়নি। পেস আক্রমণের সাথে স্পিনাররাও কিন্তু দেশে এবং দেশের বাইরে ভালো করছে। মিরাজ এবং তাইজুল ভাইও ভালো করছে। দুজনের মধ্যেই ভালো কম্বিনেশন ছিল। ওয়েস্ট ইন্ডিজের শক্তি দুর্বলতা ভেবেই কিন্তু উইকেট বানানো। আমরা কীভাবে রাজত্ব করতে পারি সেখান থেকেই উইকেট সেভাবে বানানো। স্পিনাররা সবসময় আমাদের ম্যাচ জেতায় এমন উইকেটে। এই আত্মবিশ্বাস আমাদের আগেও ছিল, এখনও আছে। দুর্ভাগ্যজনকভাবে আজকে হয়নি। তবে কন্ডিশন নিয়ে মনে হয় না আমরা ভুল করেছি।
*স্পিনারদের বোলিংয়ে ঠিক কোথায় ভুল হয়েছে
মনে হয় যে লেন্থটা ভালোভাবে ধরতে পারিনি। চতুর্থ ইনিংসে মাত্র ২ উইকেট নিয়েছি। ম্যাচ হারলেও যদি ৭-৮ উইকেট নিতে পারতাম, তাহলে হয়ত বুঝতাম যে রান কম করেছি। এখানে আমরা মনে হয় একটু এলোমেলো ছিলাম।
যখন ১৭০ রান টার্গেট দিবেন আম্পায়ার্স কলে ৫ বারের মধ্যে ৩ বার আপনার (পক্ষে আসা) দরকার হবে। এটা হয়নি, ক্রিকেটের পার্ট। আম্পায়ারকে দোষও দিতে পারবেন না। শুরুতেই যে আউটটা পাইনি, পেয়ে গেলে হয়ত মোমেন্টাম পেয়ে যেতাম। তবে এগুলো ক্রিকেটের পার্ট। এসব অজুহাত দিতে চাই না।
৪-৫ বার এরকম হলে স্বাভাবিকভাবে একটু তো ডিমোটিভেটেড লাগে।
*হৃদয়ের আউট নিয়ে, যেমন শট, আলাপ হয় কিনা এসব ব্যাপারে
এই ম্যাচে প্রথম ইনিংসেই আমরা ব্যাকফুটে চলে যাই। ২১৩ রান নিয়ে প্রথম দিন শেষ করার পর ২৭২ রানে অলআউট, সেখানেই পিছনে চলে গেছি। প্রথম ইনিংসেই ভুল করে ফেলেছি, যদি আরও বড় করতে পারতাম খেলাটা আরও ভালো হত।
একেকজনের খেলা একেকরকম। কাউকেই জাজ করতে চাই না আলাদা করে। সবাই জানি সে (হৃদয়) কতটা সামর্থ্যবান। প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটেও সে দুর্দান্ত। পুরো বিশ্বাস আছে সে ভালোভাবে কামব্যাক করবে এবং রান করবে। সে ইতোমধ্যে প্রমাণ করেছে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে সে কতটা ভালো প্লেয়ার।
*আইসিসির বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের পয়েন্ট টেবিল নিয়ে
কথা ইতোমধ্যে হয়েছে (হৃদয়ের সাথে), কীভাবে আরও ভালো খেলবে। যেকোনো কিছুই থাকতে পারে এর কারণ। সে খুব স্মার্ট একজন ছেলে, খুব দ্রুত শিখে। এমন পরিস্থিতি সামনে আসলে সে আরও ভালো করবে বলে বিশ্বাস করি। *স্পিন উইকেটে সুইপ শট, সাইড শট খেলা যেত কিনা আরও বেশি
স্পিনে উইকেটে অবশ্যই ভালো অপশন। অবশ্যই নিতে পারতাম, নেওয়া উচিত ছিল। একেক জন যেভাবে ব্যাট করেছে, সেটই হতে পারেনি। সুযোগ ছিল না সেরকম যে এগুলো খেলবে। অবশ্যই স্পিনের বিপক্ষে ভালো অপশন (সুইপ শট)।
*প্রস্তুতি নিয়ে
আমার কাছে মনে হয় আমরা ভালো প্রস্তুতি নিয়েছিলাম। একেক ফরম্যাটের খেলা এগুলো থাকবেই। তবে পেশাদার ক্রিকেটার হিসেবে এরকম একেক সময়ে একেক ফরম্যাটের খেলা আসবেই। সেভাবে মানিয়ে নিয়েই সবাইকে খেলতে হবে। প্রস্তুতি ভালো ছিল, প্রতিটি প্লেয়ার কাজ করেছে যেখানে করা দরকার, এরপরেই ম্যাচ খেলতে এসেছে।
*স্পিনে শক্তি
আমরা কখনও স্পিনে ভালো খেলি, কখনও পেস ভালো খেলি। আমাদের আরও ভালোভাবে তাদের স্পিন হ্যান্ডেল করা দরকার ছিল। তবে আমরা পারিনি। আমার বিশ্বাস আমাদের করা দরকার ছিল আরও ভালোভাবে। *ওয়ারিকানের ৯ উইকেট
আমি কাউকে ছোট করছি না, তবে আমার মনে হয় সে (ওয়ারিকান) যতটা না ভালো বল করেছে, তার চেয়ে আমরা বেশি খারাপ ব্যাট করেছি, একদম সত্যি কথা বলতে গেলে। তাকে অসম্মান করছি না তবে আমরা আরেকটু বেটার হ্যান্ডেল করতে পারতাম। তাইজুল ভাই অনেক দিন ধরেই ভালো করে আসছেন। এই ম্যাচে একটু কম ভালো করেছেন। অনেক দিন ধরেই তিনি সেরা, আশা করি সামনে কামব্যাক করতে পারবেন।
*মুশফিক না থাকা
মুশফিক ভাই না থাকা বড় মিস অবশ্যই। তবে উনার জায়গায় হৃদয় এসেছে, ক্র্যাম্প করার আগ পর্যন্ত ভালো করছিল। বড় করতে পারেনি ইনিংসটা। পরের ইনিংসে মুমিনুল ভাইকে আমরা মিস করেছি। খারাপ করিনি কিছু কিছু জায়গায় আনলাকি ছিলাম।
আমাদের দ্বিতীয় ইনিংসে আমরা ভালো বল করিনি। ১৭০ কম রান অবশ্যই, তবে আমরা আরেকটু বেটার বল করতে পারতাম।
প্রথম ইনিংসে আমাদের ব্যাটিং ভালো হয়নি। সিনিয়র ব্যাটার হিসেবে আমিও দায়িত্ব নিচ্ছি, আমিও ভালো করিনি। এখানে আরও দায়িত্ব নিয়ে আমার ব্যাট করা উচিত ছিল।
*ক্যাচ মিস করা নিয়ে
মুমিনুল ভাই দ্বিতীয় টেস্ট খেলতে পারবে না আমার মনে হয়। নিয়ম অনুযায়ী উনি পারবে না। মেডিকেল দল উনার সাথে কথা বলেই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। মুশফিক ভাই আমি বিশ্বাস করি উনি খেলতে পারবেন।
ক্যাচিং আমাদের আরও অনেক আগে থেকেই লম্বা সময় ধরেই বড় সমস্যা। স্লিপ ক্যাচিং আসলে আগের চেয়ে আমার মনে হয় ১০-১৫% উন্নতি হয়েছে। এখানে আরও অনেক উন্নতির জায়গা আছে। যারা এসব জায়গায় ফিল্ডিং করে তারা যথেষ্ট প্রস্তুতি নিচ্ছে, অনুশীলন করছে। তবুও ম্যাচের মধ্যে সুযোগ আসলে সুযোগ মিস হচ্ছে। আমার মনে হয় আরও ভালোভাবে আমাদেরকে চিন্তা করে বের করতে হবে যে কীভাবে সুযোগ আসলে আমরা সেই সুযোগগুলো লুফে নিতে পারব এমন গুরুত্বপূর্ণ সময়ে।
**ইংরেজি
*শেষ ৩ ম্যাচে জয়হীন
কঠিন ব্যাপার। আমরা এক ম্যাচ ধরে ধরে এগোতে চাই। দ্বিতীয় ম্যাচে ঘুরে দাঁড়ানো যায় কীভাবে সেই চিন্তা করছি।
মিরপুর টেস্টে তৃতীয় দিনের খেলা শেষে কিছুটা চাপে আছে বাংলাদেশ দল। লিড ১০৬ রানের হলেও হাতে উইকেট মাত্র ৪টি। টার্নিং উইকেট হলেও ম্যাচ জেতা কঠিন হয়ে গেছে বাংলাদেশের জন্য। বাংলা
মিরপুর টেস্টে তৃতীয় দিনের খেলা শেষে কিছুটা চাপে আছে বাংলাদেশ দল। লিড ১০৬ রানের হলেও হাতে উইকেট মাত্র ৪টি। টার্নিং উইকেট হলেও ম্যাচ জেতা কঠিন হয়ে গেছে বাংলাদেশের জন্য। ওয়েস্
মিরপুর টেস্টের দ্বিতীয় দিনে ব্যাট-বলের লড়াইটা হয়েছে সমানে-সমান। দিনের খেলা শেষে ১৩৮ রানে এগিয়ে আছে বাংলাদেশ। তবে ৬ উইকেট হাতে নিয়ে ব্যাটিংয়ে থাকা ওয়েস্ট ইন্ডিজও ছেড়ে কথা বল
মিরপুর টেস্টের দ্বিতীয় দিনে ব্যাট-বলের লড়াইটা হয়েছে সমানে-সমান। দিনের খেলা শেষে ১৩৮ রানে এগিয়ে আছে বাংলাদেশ। তবে ৬ উইকেট হাতে নিয়ে ব্যাটিংয়ে থাকা ওয়েস্ট ইন্ডিজও ছেড়ে কথা বল
মিরপুর টেস্টের প্রথম দিনে আলোকস্বল্পতায় খেলা কিছুটা কম হয়েছে। তবুও দিনটা ভালোই গেছে বাংলাদেশের। ৯৯ রানে অপরাজিত সাদমান ইসলাম। ৩ উইকেট হারিয়ে ২১৩ রান তুলে দিন শেষ করেছে বাংল
ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে মিরপুর টেস্টের ১ম দিন শেষে সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত হন ব্যাটিং কোচ মোহাম্মদ সালাউদ্দিন। দেখে নিন তার পুরো বক্তব্য।[গুগলনিউজে বিডিক্রিকটাইম ফলো করুন] উইকেটে