Scores

নাটকীয় ম্যাচে সুপার ওভারে জয় চিটাগংয়ের

নিজেদের তৃতীয় ম্যাচে সুপার ওভারে নাটকীয় জয় পেয়েছে চিটাগং ভাইকিংস। সুপার ওভারের শেষ বলে তিন রান প্রয়োজন হলে মাত্র একরান নিতে সক্ষম হন স্টার্লিং।

দুপুরে টস জিতে বোলিংয়ের সিদ্ধান্ত নেন চিটাগং ভাইকিংসের অধিনায়ক মুশফিকুর রহিম। টস হেরে ব্যাটিংয়ে এবারও দারুণ শুরু করেন খুলনা টাইটান্সের দুই ওপেনার জুনায়েদ সিদ্দীকি ও পল স্টার্লিং। দুই ব্যাটসম্যান মিলে প্রথম দুই ওভারেই স্কোরবোর্ডে ৩০ রান যোগ করেন। তৃতীয় ওভারে নাইম হাসানকে বোলিংয়ে আনেন চিটাগং অধিনায়ক মুশফিক। আর তাতেই দেখা মিলে সাফল্যের।

১৮ রান করা স্টার্লিংকে ফেরান নাইম। দলীয় আরও ১০ রান যোগ করতেই ৪১ রানে সাজঘরে ফিরে যান জুনায়েদ সিদ্দীকি। ২০ রান করা সিদ্দীকিকে ফেরান রবি ফ্রাইলিঙ্ক। তৃতীয় উইকেট জুটিতে ঘুরে দাঁড়ায় খুলনা টাইটান্স। দলপতি মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ ও মালান। দলকে ধীরে ধীরে বড় সংগ্রহের দিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে থাকেন এই দুই ব্যাটসম্যান। বেশ দায়িত্বশীলই ব্যাটিং করেন এই দুই ব্যাটসম্যান।

Also Read - বিপিএলে আর খেলা হচ্ছে না স্মিথের


দুইজন মিলে গড়েন ৭৭ রানের জুটি। তাদের জুটি ভাঙেন আবু জায়েদ রাহী। ব্যক্তিগত ৪৫ রান করে রাহীর বলে আউট হন মালান। কার্লোস ব্র্যাথওয়েট নাজমুল হোসেন শান্ত বড় স্কোর না পেলেও মাহমুদউল্লাহর ৩১ বলে ৩৩ রানে ভর করে ১৫১ রান সংগ্রহ করে খুলনা।

টাইটান্সে দেওয়া ১৫১ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরুতেই উইকেট হারায় চিটাগং ভাইকিংস। দলীয় ১২ রানে জুনায়েদ খানের বিদায় নেন মোহাম্মদ শেহজাদ। আশরাফুলের পরিবর্তে একাদশে সুযোগ পাওয়া ইয়াসীর আলীর সঙ্গে কিছুটা প্রতিরোধ গড়ার চেষ্টা করেন ক্যামরন ডেলপোর্ট। ইয়াসীরের সঙ্গে ৩৯ রানের জুটি গড়েন ডেলপোর্ট। ব্যক্তিগত ১৬ রানে তাইজুলের বলে সাজঘরে ফিরেন ডেলপোর্ট।

তার বিদায়ে ভাইকিংসের হাল ধরেন অধিনায়ক মুশফিকুর রহিম ও ইয়াসীর। কিছুটা প্রতিরোধ গড়ার চেষ্টা করলেও সেটি থামে দলীয় ৮৬ রানে। ব্যক্তিগত ৪১ রান করা ইয়াসীরকে ফেরান শরিফুল। কোন রান না করেই বিদায় নেন সিকান্দার রাজা। ৮৭ রানে ৪ উইকেট পড়াতে দলের চাপ এসে পড়ে মুশফিকের কাঁধে। দায়িত্বটা ঠিকঠাক পালনও করছিলেন মুশফিক। মোসাদ্দেককে নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ ৩২ রানের জুটি গড়েন মুশফিক। মোসাদ্দেক ১২ রানে বিদায় নেওয়ার পর দলীয় আরও ২ রান যোগ করতেই ৩৪ রান করা মুশফিককে আউট করেন শরিফুল।

মুশফিকের বিদায়ে চাপে পড়ে ভাইকিংস। শেষ ওভারে ১৯ রানের প্রয়োজন হলে সেই ওভারে দ্বিতীয় বলে ছয় মেরে তৃতীয় বলে আউট হন নাইম হাসান। পরের দুই বলে দুইটি ছয় মেরে চিটাগংকে জয়ের কাছে নিয়ে যান ফ্রাইলিঙ্ক। শেষ বলে এক রান প্রয়োজন হলে সেটি নিতে ব্যর্থ হন ফ্রাইলিঙ্ক। ফলে ম্যাচটি গড়ায় সুপার ওভারে।

সুপার ওভারে আগে ব্যাট করতে আসে চিটাগং ভাইকিংস। প্রথম বলেই চার মারেন ডেলপোর্ট। দ্বিতীয় বলে একরান নেয় ডেলপোর্ট। শেষ পর্যন্ত ১১ রান করতে সক্ষম হয় চিটাগং ভাইকিংস। জবাবে ব্যাটিং করতে নেমে দ্বিতীয় বলেই চার মারেন মালান। তৃতীয় বল বলের সঙ্গে ব্যাট স্পর্শই করতে পারেননি মালান তবে রান নিতে গিয়ে আউট হন ব্র্যাথওয়েট। শেষ বলে ৩ রানের প্রয়োজন হলে মাত্র একরান নেয় স্টার্লিং। ফলে সুপার ওভারে জয় পায় চিটাগং ভাইকিংস।

সংক্ষিপ্ত স্কোরঃ

খুলনা টাইটান্স ১৫১-৬ (ওভার ২০)

মালান ৪৫, মাহমুদউল্লাহ ৩৩: সানজামুল ২-৩৭

চিটাগং ভাইকিংস ১৫১-৮ (ওভার ২০)

ইয়াসীর ৪১, মুশফিক ৩৩: ব্র্যাথওয়েট ২-৩৩

ফলাফলঃ সুপার ওভারে জয়ী চিটাগং ভাইকিংস

আরও পড়ুনঃ

নিউজটি বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন


Related Articles

বিপিএলে ঠিকানা বদলাচ্ছেন তামিম ইকবাল

খুলনাকে হারিয়ে শেষ চারে ঢাকা, রাজশাহীর বিদায়

রান-ফোয়ারার ইনিংসে কেন বল করেননি তাইজুল?

জয় দিয়ে শেষ করতে চান মাহমুদউল্লাহ

কুমিল্লার রান-পাহাড়ের চাপে পিষ্ট খুলনা