SCORE

“পারফরম্যান্স ছাড়া যেকোনো ক্রিকেটারই মূল্যহীন”

জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে আসন্ন ওয়ানডে সিরিজে অভিষেক হতে যাচ্ছে ঘরোয়া ক্রিকেটের উজ্জল মুখ ফজলে রাব্বি মাহমুদের। দীর্ঘ সাধনার পর প্রথমবারের মতো জাতীয় দলে ডাক পেয়েছেন তিনি। এ নিয়ে বিডিক্রিকটাইমের সাথে কথা বলেছেন এ খেলোয়াড়। জানিয়েছেন, কীভাবে শুরু ক্রিকেটের এই যাত্রা। আলাপচারিতায় উঠে এসেছে আরও অনেক গল্প।

৩০ বছর খুব বেশি বয়স নয় : বাশার

বিডিক্রিকটাইম : কেমন আছেন?

ফজলে রাব্বি : হ্যাঁ আলহামদুলিল্লাহ ভালো আছি।

Also Read - 'হ্যাশট্যাগ মি টু'-তে এবার ফাঁসলেন ভারত ক্রিকেটের শীর্ষ কর্তা

বিডিক্রিকটাইম : এতদিন পরে হলেও জাতীয় দলে ডাক পাওয়ায় কেমন লাগছে?

ফজলে রাব্বি : ভালো লাগছে।  তারা আমাকে ডেকেছে এজন্য ধন্যবাদ জানাই।

বিডিক্রিকটাইম : আপনার দলে আসাটা একপ্রকার অপ্রত্যাশিতই ছিল। কারণ বিসিবি যেভাবে তোড়জোড় শুরু করেছিল বা প্রধান নির্বাচক যেভাবে মিজানুর রহমানের খেলা দেখতে রাজশাহী ছুটে গিয়েছিলেন সেভাবে আপনার দলে আসার কোনো আভাস কিন্তু পাওয়া যায়নি। সেক্ষেত্রে যখন শুনলেন আপনি সেই নতুন মুখ- তখন অনূভূতি কেমন ছিল?

ফজলে রাব্বি : ভালো… তবে সত্যি কথা বলতে ওরকম কোনো অনুভূতি তখন আমার মধ্যে ছিল না। ওই একটা ‘ফিলিংলেস অনুভূতি’ আরকি।  আমি তখন ফেরীতে, পিরোজপুরে ফিরছিলাম। ন্যাশনাল টিমে খেলতে যাচ্ছি- এতটুকুই। ফোন পাচ্ছিলাম অনেকের, সবাইকেই বলছিলাম দোয়া করার জন্য।

বিডিক্রিকটাইম : এই বয়সে দলে ডাক পাওয়ার বিষয়টিকে কীভাবে দেখছেন?

ফজলে রাব্বি : আসলে আগের যারা আছে তাদের প্রায় সবারই অভিষেক হয়েছে বিশ, একুশ কিংবা বাইশ বছরে। এখন ভাই বাইশ বছরের যে উচ্ছ্বাস থাকবে সেটাতো ত্রিশে থাকবে না। এরজন্যই তেমন কিছু অনুভব করছিলাম না। মূলত ক্রিকেট খেলতে খেলতেই এতদূর এসেছি। একজন প্রফেশনাল ক্রিকেটার হিসেবে আমি মনে করি যেখানেই খেলি, পারফর্ম করতে হবে। পারফরম্যান্স ছাড়া যেকোনো ক্রিকেটারই ভ্যালুলেস (মূল্যহীন)।

বিডিক্রিকটাইম : ক্রিকেট যাত্রার শুরুর গল্পটা যদি বলতেন।

ফজলে রাব্বি : আসলে ক্রিকেট তো ছোটবেলা থেকেই খেলি।  বাবার চাকরির জন্য খুব ছোটবেলায় পিরোজপুর থেকে বরিশাল চলে যাই। সেখানে টেপ টেনিস খেলতে খেলতেই এলাকার বড় ভাইরা আমাকে স্টেডিয়ামে নিয়ে যায়। তো ওখান থেকেই শুরুটা আসলে। এরপর থেকে বরিশালের হয়েই খেলছি।

বিডিক্রিকটাইম : বাবার অপছন্দ সত্ত্বেও ক্রিকেট চালিয়ে গিয়েছিলেন…

ফজলে রাব্বি : হ্যাঁ, আসলে ঐসময় যেরকম হয় আরকি। একপ্রকার জোড় করে লুকিয়ে লুকিয়েই খেলতাম বলা চলে।  তবে পড়াশোনা বাদ দিয়ে এমন কিছু করিনি। দুইটাই ব্যালেন্স করে চলতাম। তাই তেমন সমস্যা হয়নি।

বিডিক্রিকটাইম : পেসার থেকে ব্যাটসম্যান হওয়ার যাত্রা কেমন ছিল?

ফজলে রাব্বি : আসলে খেলা শুরুর প্রথম বছর পেস বোলার হিসেবেই খেলেছি। পাশাপাশি ব্যাটিংও করতাম। তো ঐখানে প্রায় এক-দেড় ঘন্টা বোলিং করার পর সবাই ভালো হচ্ছে বলে উৎসাহ দিত। কিন্তু এক-দেড় ঘন্টা বোলিং করে আমার খুব ক্লান্ত লাগত। তাই যখন বুঝলাম পেস বল আমাকে দিয়ে হবে না তখন ব্যাটিংয়ের পারফরম্যান্স ভালো থাকায় সেটার দিকেই নজর দিলাম। তখন তো ওরকম কোনো লেভেলে খেলিনি। তাই বোলার থেকে ব্যাটসম্যান হওয়া নিয়ে দলের কোনো চাপের মধ্যে পড়তে হয়নি।

বিডিক্রিকটাইম : পরবর্তীতে কখনও পেস বল করার ইচ্ছা আছে?

ফজলে রাব্বি : (ঠাট্টার ছলে) না না না, অনেক কষ্ট। হয়তো নেটে দু’য়েকটা বল করতে পারি। কিন্তু পেস বলা করা অনেক কষ্ট।

বিডিক্রিকটাইম : বলাবাহুল্য সাকিব আল হাসানের পরিবর্তেই আপনাকে নেওয়া হয়েছে। সেহেতু দলের এমন অবস্থায় তার জায়গা কতটুকু পূরণ করতে পারবেন বলে মনে করেন?

ফজলে রাব্বি : সত্যি কথা বলতে সাকিব ভাইয়ের জায়গা আমি নিতে পারব না। সাকিব ভাইতো একজনই। আমি শুধু পারি আমার সামর্থ্য অনুযায়ী সেরাটা দেওয়ার চেষ্টা করতে। দলের প্রয়োজনে যতটুকু দেওয়া যায় আরকি। আমি মূলত ব্যাটিং অলরাউন্ডার; অর্থাৎ ব্যাটিং করি আগে, পরে বোলিং দরকার হলে করি। কিন্তু তা দিয়ে সাকিব ভাইয়ের জায়গা তো পূরণ করা সম্ভব না। হয়তো আমার একটা জায়গা আমি তৈরী করতে চেষ্টা করব। সাকিব ভাইয়ের সাথে তুলনা আমার কাছে মনে হয় শুধুই বোকামি। তার ঘাটতি কতটুকু পূরণ করতে পারব সেটা তো বলতে পারছি না। এখন পারফরম্যান্সের উপর নির্ভর করে।

বিডিক্রিকটাইম : যেহেতু তামিম ইকবালের যোগ্য সঙ্গী এখনও কেউ নেই, সেক্ষেত্রে পরবর্তীতেও দলে থাকার সুযোগ হলে সে বিষয়ে কতটুকু ফোকাস করবেন?

ফজলে রাব্বি : আমি এখন ওপেনিং তো খুব একটা করি না। এক থেকে ছয় পর্যন্ত সব জায়গায়ই আমাকে পরীক্ষা করছেন নির্বাচকরা। সব জায়গায়ই আল্লাহর রহমতে রান করছি। আমি দুইয়ে নেমেও ভালো করছি, ছয়েও করছি, পাঁচেও করছি। ফার্স্ট ক্লাসে আমি সবসময়ই তিনে ব্যাটিং করি। লাস্ট ইনিংসেও আমি ১৯৫ করলাম তিন নম্বরে নেমেই। তাই ওটা নিয়ে আমি কখনও চিন্তা করিনা। দল যদি মনে করে আমাকে ওপেনিংয়ে নামতে হবে, ওপেনিংয়েই নামব। লাস্ট কয়েক বছরে সব জায়গায় ব্যাটিং করে এখন এমন অবস্থা যে নিজের কাছেই কোনো প্রত্যাশা নেই। যখন যেখানে নামাবে তখন সেখানেই চেষ্টা করব ভালো করার।

পেসার হয়ে ক্রিকেটে এসেছিলেন ফজলে রাব্বি!

বিডিক্রিকটাইম : ভালো কোনো জায়গায় সুযোগ না পেয়ে হতাশায় অনেকেই ক্রিকেট ছেড়ে দেয়। তাদের কোনো বার্তা দিতে চান?

ফজলে রাব্বি : আমার কথা বলতে গেলে- আমি আমার হতাশাকে জয় করেছি। হতাশা আর আমাকে কখনও ছুঁতে পারবে বলে মনে হয় না, কারণ আমি যাই পাই- আলহামদুলিল্লাহ। জাতীয় দলে আমি খেললাম কি খেললাম না, পারফর্ম করলাম কি করলাম না- এটা নিয়ে আমার মাথাব্যথা নেই। একজন প্রফেশনাল ক্রিকেটার হিসেবে আমরা কাজ পারফর্ম করা, আমি সেই চেষ্টাই করি। যারা হতাশায় থাকে তাদেরকেও আমার এই একটাই কথা- যে-ই যে ক্ষেত্রে আছেন, চেষ্টা করুন একটা লক্ষ্য স্থির করতে। যারা হতাশায় থাকে তারা আসলে বুঝতে পারে না যে তার কোথায় যাওয়া উচিৎ বা কী করা উচিৎ। তাই তাদের জন্য বলা যে নিজের একটা লক্ষ্য স্থির করুন আর সেদিকে এগিয়ে যান। ডিটারমিনেশন বা প্যাশন সব ঠিক রেখে শুধু খেলে যান।

বিডিক্রিকটাইম : শেষমেষ আপনার পরিবার আর ছোটবেলার কিছু গল্প শুনে শেষ করতে চাই।

ফজলে রাব্বি : বাবা-মা, ভাইবোন আছেন। আমার জন্ম পিরোজপুরের নাজিরপুরে দীর্ঘা ইউনিয়নের রামনগর গ্রামে। আমরা দুই ভাই, তিন বোন। সবার ছোট আমি। মা গৃহিণী, আর বাবা শিক্ষক ছিলেন। পিরোজপুর থেকেই অবসর নিয়েছিলেন। আমি তখন ছোটই বলা চলে। ২০০০ বা ২০০১ সাল তখন… চার-পাঁচ বছর পর্যন্ত নাজিরপুরে ছিলাম। পরে বরিশালে চলে যাই। সেখানেই আমার বেড়ে ওঠা। সেখানেই ক্রিকেট শুরু করেছিলাম। প্রায় সব ধরনের খেলাই আমি বরিশালের হয়ে খেলেছি। বয়সভিত্তিক থেকে শুরু করে, জেলা দল, বিভাগীয় দল- সব কিছুতেই আমি বরিশালের হয়েই খেলছি।

বিডিক্রিকটাইম : সময় দেওয়ার জন্য আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ। সেইসাথে আগামীর জন্য শুভকামনা রইল।

ফজলে রাব্বি : দোয়া করবেন যেন ভালো পারফর্ম করতে পারি।

প্রতিবেদনটি তৈরীতে সহযোগীতা করেছেন আবীর হাসান।

সম্পাদনা: সিয়াম চৌধুরী

Related Articles

কোন পজিশনে ব্যাট করবেন ফজলে রাব্বি?

৩০ বছর খুব বেশি বয়স নয় : বাশার

পেসার হয়ে ক্রিকেটে এসেছিলেন ফজলে রাব্বি!

“এমন আনন্দে বাড়িতে কখনও ফেরা হয়নি”

রাব্বি-সাইফউদ্দিনকে দলে রাখার কারণ ব্যাখ্যা নান্নুর