Scores

পেয়েছিলেন বাংলাদেশের নাগরিকত্ব, তবে বিদায় নিতে হয় অপমানজনকভাবে!

বিশ্বব্যাপী করোনাভাইরাসের কারণে সকল ধরনের ক্রিকেট আপাতত বন্ধ। আইসিসি তাদের বিভিন্ন বাছাইপর্বের খেলা আগামী জুন মাস পর্যন্ত বন্ধ রেখেছে। লম্বা সময় ক্রিকেট ভক্তদের জন্য থাকছেনা কোনো ক্রিকেট। এই বিরতিতে তাই চলুন জেনে নেওয়া যাক বাংলাদেশ ক্রিকেটের আলোচিত কিছু ম্যাচ, ঘটনা ও খেলোয়াড়দের কিছু ব্যক্তিগত সাফল্য ব্যর্থতার ব্যাপারে। সেই ধারাবাহিকতায় আজকের আলোচনায় থাকছেন বাংলাদেশ দলের সাবেক কোচ ওয়েস্ট ইন্ডিজ কিংবদন্তি গর্ডন গ্রিনিজের কথা।

 

পেয়েছিলেন বাংলাদেশের নাগরিকত্ব , তবে বিদায় হয় অপমানজনক ভাবে!
বিশ্বকাপে মাহমুদের সাথে আলোচনায় গ্রিনিজ। ছবি: এএফপি

 

Also Read - সৌম্যর ব্যাটের নিলাম শুরু, জেনে নিন ভিত্তিমূল্য


গর্ডন গ্রিনিজের সবচেয়ে বড় পরিচয় তিনি ওয়েস্ট ইন্ডিজের মারকুটে তারকা ব্যাটসম্যান। বিশ্ব ক্রিকেট তাকে এই পরিচয়ে জানলেও বাংলাদেশ ভক্তদের কাছে তার আরো বড় পরিচয় টাইগারদের সাবেক কোচ হিসেবে। বলতে গেলে বাংলাদেশের ক্রিকেট ইতিহাসের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সময়ে কোচিং করানো দেশের অন্যতম সেরা কোচ ছিলেন গর্ডন গ্রিনিজ। পহেলা মে ছিল গর্ডন গ্রিনিজের ৬৯তম জন্মদিন।

গ্রিনিজ বাংলাদেশের কোচ হওয়ার সুযোগ পান ১৯৯৬ সালে। ১৯৯৬ সালে বাংলাদেশের কোচ হওয়ার সুযোগ পাওয়ার পিছনে বড় হাত ছিলো সাবের হোসেন চৌধুরীর। তিনিই গর্ডন গ্রিনিজকে বাংলাদেশের কোচ হিসেবে নিয়ে আসেন।

ক্যারিবীয় একজন তারকা ক্রিকেটার বিশ্বের আরেক প্রান্তে সহযোগি একটি দেশের কোচ হিসেবে এসে কতটুকু সফলতা পাবেন তা নিয়ে অনেকের সন্দেহ ছিল। তবে বাংলাদেশে এসে গ্রিনিজ পুরোপুরি নিজেকে মানিয়ে নেন এই দেশের পরিবেশ ও ক্রিকেটের সাথে। আকরাম খান, খালেদ মাহমুদ সুজন, মিনহাজুল আবেদিন নান্নু, আতাহার আলি খানদের নিয়ে গড়ে তুলেন এক শক্তিশালী বাংলাদেশ দল যার বিশ্বকাপ খেলার সামর্থ্য ছিল। তার আসার আগে ১৯৯৬ বিশ্বকাপে কোয়ালিফাই করতে না পারার হতাশা ছিল সকলের মনেই। পরবর্তী লক্ষ্য ছিল ১৯৯৯ বিশ্বকাপ। বিশ্বকাপের বাছাইপর্বে ১৯৯৭ সালে মালেয়শিয়া যায় বাংলাদেশ দল। সেই আসরে চ্যাম্পিয়ন হয়ে বিশ্বকাপে খেলার সুযোগ পায় বাংলাদেশ দল।

নেদারল্যান্ডসের বিরুদ্ধে বাঁচা-মরার লড়াইয়ে বৃষ্টি হানা দেয় বাংলাদেশের জয়ের পথে। তবে শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশ ম্যাচটি জিতে যায় বৃষ্টির বাধা পেরিয়ে। আকরাম খান পরবর্তীতে এক সাক্ষাৎকারে জানান ম্যাচ শেষে সেইদিন বাচ্চাদের মতো কেঁদেছিলেন গ্রিনিজ, সবচেয়ে বেশি কেঁদেছিলেন তিনিই। একজন তারকা ক্রিকেটার বাংলাদেশের জন্য এইভাবে কাঁদতে পারে অনেকে ধারণা করতে পারেননি।

মালেয়শিয়া থেকে বাংলাদেশে ফেরার পর বিশাল সংবর্ধনা পায় পুরো দল। কোচ গর্ডন গ্রিনিজকে দেওয়া হয় সম্মানসূচক বাংলাদেশের নাগরিকত্ব। ৯৯ বিশ্বকাপেও কোচ ছিলেন গ্রিনিজ। তবে তার বিদায়টা ভালোভাবে হয়নি।

বিশ্বকাপের আগে থেকেই গ্রিনিজের সাথে ম্যানেজমেন্টের সমস্যার কথা শোনা যায়। বাংলাদেশ বিশ্বকাপে স্কটল্যান্ড ও পাকিস্তানকে হারায়। পাকিস্তানকে হারানোর দিনই গ্রিনিজকে বরখাস্ত করা হয়। ম্যাচের মাঝপথে গ্রিনিজকে বরখাস্ত করা হয়। তাই ম্যাচ শেষে জয়ের উদযাপনে দলের সাথেও ছিলেননা গ্রিনিজ। যেই কোচের অধীনে এত অর্জন তাকে চুক্তি শেষ হওয়ার আগেই বিদায় অনেকেই মেনে নিতে পারেননি।

টাইগারদের গর্ডন-দর্শন
২০১৮ সালে টাইগারদের সাথে গর্ডন গ্রিনিজ।

কেন এই সফল কোচকে বিদায় করা হয় এইভাবে? জানা যায় গ্রিনিজ বাংলাদেশের টেস্ট স্ট্যাটাসের বিরুদ্ধে ছিলেন। গ্রিনিজ চাননি এত জলদি বাংলাদেশ টেস্ট ক্রিকেট খেলুক। তখনো দেশে প্রথম শ্রেণীর ক্রিকেট পুরোদমে শুরু হয়নি। তাই গ্রিনিজ চেয়েছিলেন আগে প্রথম শ্রেণীর ক্রিকেটে ভালো অভিজ্ঞতা হওয়ার পরে বাংলাদেশ টেস্ট খেলুক। এই বিষয় নিয়ে বোর্ডের কয়েকজনের সাথে তার মতবিরোধ হয়। যার ফলে চুক্তি শেষ হওয়ার আগেই বিদায় নিতে হয় গ্রিনিজকে। লন্ডন থেকে নিজের দেশে ফিরে যান তিনি।

পরবর্তীতে ওয়েস্ট ইন্ডিজ দলের সাথে বাংলাদেশে এসেছিলেন গ্রিনিজ। ৯৯ সালে যথাযথ বিদায় দিতে না পারলেও, ২০১৮ সালে ঢাকায় বিসিবি সংবর্ধনা দেয় গ্রিনিজকে। নিজের পুরনো শিষ্যদের সাথেও তার সাক্ষাৎ হয় সেই সংবর্ধনায়। তবে এরপরও বলতেই হয় গ্রিনিজের বিদায় ১৯৯৯ সালেই আরো সম্মানের সাথেই হতে পারতো।

নিউজটি বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন

Related Articles

গ্রিনিজের অসম্মানজনক বিদায় এখনো পোড়ায় আকরামকে

টাইগারদের সাবেক কোচের বিশেষ অর্জন

বিশ্বকাপে অঘটন ঘটাবে বাংলাদেশ!

গ্রিনিজের কাছে বাংলাদেশ ‘বাড়ির বাইরে আরেক বাড়ি’

বাংলাদেশে আসছেন গর্ডন গ্রিনিজ