প্রতিভা ছাড়াই শাস্ত্রী সর্বোচ্চ পর্যায়ে খেলেছে : কপিল

0
1953

ভারতের প্রথম বিশ্বকাপজয়ী (১৯৮৩) দলের সদস্য রবি শাস্ত্রী। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ভারতকে নেতৃত্বও দিয়েছেন। বর্তমানে কোহলিদের প্রধান কোচের দায়িত্ব সামলাচ্ছেন। সেই শাস্ত্রী সম্পর্কে সাবেক ভারতীয় অধিনায়ক কপিল দেব বললেন, শাস্ত্রী কোনো প্রতিভা ছাড়াই দিনের পর দিন সর্বোচ্চ পর্যায়ের ক্রিকেট খেলে গেছেন। সেজন্য অবশ্য শাস্ত্রীর প্রশংসাও করেছেন কপিল।

প্রতিভা ছাড়াই শাস্ত্রী সর্বোচ্চ পর্যায়ে খেলেছে  কপিল

Advertisment

শাস্ত্রীকে হেয় করতে অথবা অন্য কোনো নেতিবাচক কারণে তার প্রতিভা সম্পর্কে প্রশ্ন তোলেননি কপিল। বরং কপিল শাস্ত্রীকে সেই ধরণের ক্রিকেটারদের একজন মনে করেন, যারা প্রতিভা ছাড়াও ক্রিকেট মাঠে চমৎকার কিছু করে দেখাতে পারে।

শাস্ত্রী সম্পর্কে কপিল বলেন, “শাস্ত্রী এমন একজন ক্রিকেটার যার কোনো প্রতিভা ছিল না। কিন্তু দীর্ঘদিন সর্বোচ্চ পর্যায়ে খেলেছে। আমি মনে করি, এটা তার কৃতিত্ব । মাঠে চমৎকার কিছু করে দেখানোর ক্ষমতা ছিল ওর। দুই ধরনের ক্রিকেটার আছে। কেউ হয় প্রচণ্ড প্রতিভাবান অথচ নিজেকে যেভাবে মেলে ধরতে পারে না। আবার কেউ কেউ প্রতিভা নিয়ে আসে না, অথচ বহু দিন ধরে খেলে যায়।”

শাস্ত্রীর তেমন কোন প্রতিভা না থাকা সত্ত্বেও তার ভেতরে ভালো কিছু করে দেখানোর তাড়না থাকার কারণেই দলের সম্পদে পরিনত হয়ে উঠেছিলেন বলে মনে করেন ভারতের প্রথম বিশ্বকাপজয়ী দলের অধিনায়ক কপিল।

কপিল বলেন, “শাস্ত্রীর মধ্যে ভালো কিছু করে দেখানোর তাড়না ছিল। দলের সম্পদ ছিল সে। আমরা প্রায়ই বলতাম, রবি যদি ৩০ ওভার খেলে ১০ রান করে, তবুও ক্ষতি নেই। ৩০ ওভার খেলাই বড় ব্যাপার। বল পুরনো হয়ে গেলে তখন রান করা আমাদের আমাদের জন্য সহজ হয়ে যেত।”

শাস্ত্রীকে কপিল প্রতিভাবান ক্রিকেটার মনে করেন না, সেটা তিনি স্বয়ং শাস্ত্রীকেও সরাসরি বলেছেন, “আমি শাস্ত্রীকেও বলেছি যে, ওর কোনো প্রতিভা নেই। সেজন্যই আমি ওর প্রশংসা করি। খুব ভালো ক্রীড়াবিদ নয় সে। আরেকজন হচ্ছে অনিল কুম্বলে। সেও ভালো ক্রীড়াবিদ ছিল না, কিন্তু কী অসাধারণ পারফরম্যান্স। ওর থেকে ভালো আর কেউ নেই।”

শাস্ত্রীর প্রতিভা ছিল কিনা সেটা হয়ত তর্কের বিষয় হতে পারে। তবে মাঠে কিন্তু শাস্ত্রী সত্যিকার অর্থেই চমৎকার কিছুই করে গেছেন। ১৯৮৩ বিশ্বকাপে খুব বেশি ম্যাচ খেলার সুযোগ পাননি শাস্ত্রী। তবে দুই বছর পরের ১৯৮৫ সালে অলরাউন্ড পারফরম্যান্সে ভারতে আইসিসি চ্যাম্পিয়নস ট্রফি এনে দেন তিনি। চ্যাম্পিয়নস ট্রফির ঐ আসরের সেরা খেলোয়াড় নির্বাচিত হয়েছিলেন ভারতের বর্তমান কোচ।

এছাড়া ভারতের হয়ে ৮০টি টেস্ট খেলে ৩৮৩০ রান এবং ১৫১টি উইকেটের মালিক শাস্ত্রী। একদিনের ক্রিকেটে এই অলরাউন্ডার ১৫০টি ম্যাচ খেলে করেছেন ৩১০৮ রান এবং নিয়েছেন ১২৯টি উইকেট।