প্রথমে বাবা-মাকে ফোন দিয়েছিঃ তাসকিন

বোলিংয়ের নিষেধাজ্ঞা থেকে মুক্তি পেয়েছেন বাংলাদেশের পেসার সেনসেশন তাসকিন আহমেদ ও বাঁহাতি স্পিনার আরাফাত সানী। আজ (২৩ সেপ্টেম্বর) বিকেলে আইসিসি তাদের অফিশিয়াল ওয়েবসাইটে জানায়, বোলিং অ্যাকশনের ত্রুটি সংশোধন করে পুনরায় অস্ট্রেলিয়ার ব্রিসবেনে দেয়া পরীক্ষায় তাসকিন আহমেদ ও আরাফাত সানীর বোলিং অ্যাকশন বৈধ প্রমাণিত হয়েছে। এখন থেকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বোলিং করতে কোনো ঝামেলা নেই এই দুই ক্রিকেটারের। এদিকে ইতিবাচক ফলাফল পেয়ে উচ্ছ্বসিত তাসকিন আহমেদ।

taskin-ahmed-bangladesh-cricket-1459003310-800

Advertisment

বিকেলে ফলাফল প্রকাশের পর থেকেই সব জায়গায় আনন্দের পরিবেশের সৃষ্টি হয়। এদিকে ফলাফল পেয়েই বাবা-মায়ের সাথে ফোনে কথা বলেছেন তাসকিন। সেই অনুভূতির কথা জানিয়ে এই ক্রিকেটার বলেন, “প্রথমে বাবা-মাকে ফোন দিয়েছি। দুজনই খুবই খুশিতে আত্মহারা। দুজনই খুব টেনশনে ছিল। অনেকদিন পর তারা মন খুলে হাসতে পারছে।”

আর এই ফলাফল ঈদের চেয়ে বড় খুশি বয়ে এনেছে তাসকিনের কাছে। তাসকিন নিজের অনুভূতি প্রকাশ করে বলেন, “আলহামদুল্লিল্লাহ। অনেক খুশি। পরীক্ষার পর সত্যি বলতে একদিনও ঘুমাতে পারিনি! যেদিন থেকে নিষিদ্ধ হয়েছি, শুধু রাস্তা ঘাটে নয়, ঘরেও নিজের কাছে নিজেকে অনেক ছোট মনে হয়েছে। যদিও আমি কোনো অপরাধ করিনি। কিন্তু রাস্তায় বের হলে মনে হতো আমি বিরাট কোনো অপরাধ করেছি! সবাই অদ্ভুত অদ্ভুত সব প্রশ্ন করত। যেগুলোর উত্তর দিতে খুব কষ্ট হতো। আল্লাহর রহমতে আজ অনেক বড় দিন আমার জন্য। বোলিং নিষেধাজ্ঞা উঠে গেছে। কদিন আগে ঈদ গেল, তার চেয়ে বেশি খুশির দিন মনে হচ্ছে আজ।”

ভারতে অনুষ্ঠিত টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ চলাকালীন সময়ে তাসকিন আহমেদ ও আরাফাত সানির বোলিং অ্যাকশনে সন্দেহ প্রকাশ করেন আম্পায়াররা। এরপর ভারতের চেন্নাইয়ের শ্রী রামচন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয় ল্যাবরেটরিতে পরীক্ষা দেন এই দুই ক্রিকেটার। পরে রিপোর্টের ভিত্তিতে আইসিসি তাদের অ্যাকশনে ত্রুটি থাকায় আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে নিষিদ্ধ করে। ফলে বিশ্বকাপের মাঝপথেই দেশে ফিরে আসতে হয় এই দুই ক্রিকেটারকে। দেশে ফিরেই অ্যাকশন শুধরানো শুরু করে তাসকিন ও সানি। আর এই সময়ে জাতীয় দলের কোচিং স্টাফরা তাসকিনকে অনেক সহযোগীতা করেছেন। তাই তাদের ধন্যবাদ দিতে ভুললেন না এই ক্রিকেটার, “জাতীয় দলের কোচিং স্টাফ সবাই খুব সহায়তা করেছে। বিশেষ করে মাহবুবুল আলী জাকি স্যারকে ধন্যবাদ। উনি আমার সঙ্গে ৫ মাস ছিল। সব কোচকে ধন্যবাদ। তবে জাকি স্যারের প্রতি বেশি কৃতজ্ঞ।”

নিষেধাজ্ঞা থাকাকালীন সময়ে নিজের বাজে অভিজ্ঞতার কথা মনে করে তাসকিন বলেন,এটা খুব কষ্টের অভিজ্ঞতা। রাস্তায় বোরোলেই মানুষ জিজ্ঞেস করত, আপনার হাত কি সোজা হয়েছে? আর খেলতে পারবেন? এসব দুঃখজসনক। এই প্রশ্ন আর কেউ করতে পারবে না। আর যেন না করতে পারে সেভাবে খেলার চেষ্টা করতে পারব।”

 

তাসকিনকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করার পর থেকেই এর বিপক্ষে সামাজিক মাধ্যম কিংবা রাস্তায় প্রতিবাদ করে দেশের মানুষরা। তাসকিনদের তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, “দেশবাসির কাছে কৃতজ্ঞ। নিষেধাজ্ঞা দেওয়ার পর আমার জন্য হাজার হাজার মানুষ রাস্তায় দাঁড়িয়েছিলেন। আপনাদের অনেক ধন্যবাদ। খেলার মাধ্যমে চেষ্টা করব আপনাদের মুখে আবার হাসি ফোটাতে।”
গতকাল (২২ সেপ্টেম্বর) আফগানিস্তের বিপক্ষে বাংলাদেশের ১৩ সদস্যের চূড়ান্ত স্কোয়াড ঘোষণা করে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। ১৪ সদস্যের দল গঠন করার রীতি থাকলেও আফগানিস্তানের বিপক্ষে একজন কম নিয়েই দল সাজায় বিসিবি। এর কারণ হিসেবে বাংলাদেশের প্রধান নির্বাচক মিনহাজুল আবেদিন জানান, তাসকিনের জন্যই একটি আসন রেখেছে তারা। আর আফগানিস্তান সিরিজে সুযোগ পেলেই নিজের সেরাটা দিয়েই ফেরার অপেক্ষা এই পেসারের। তিনি বলেন, “আফগানিস্তান সিরিজে সুযোগ পেলে শতভাগ দেওয়ার চেষ্টা করব। সবাই আমার কাছে অনেক আশা করে। আমি লাকি আমার কোনো সিরিজ মিস হয়নি। দলের অন্যতম সেরা বোলার মুস্তাফিজ নেই। চেষ্টা করব তার শূন্যতা পূরণের।”

উল্লেখ্য, ২৫ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হচ্ছে বাংলাদেশ-আফগানিস্তান তিন ম্যাচের একদিনের সিরিজ। তাসকিনের এই সিরিজে খেলতে আর কোনো বাঁধা রইলো না!