টাইগারদের বিশাল জয়

ডাম্বুলায় সিরিজের প্রথম ওয়ানডেতে লঙ্কানদের ৯০ রানে হারিয়ে সিরিজে ১-০ তে এগিয়ে গিয়েছে টাইগাররা। তামিম ইকবালের শতক আর সাকিব-সাব্বিরের অর্ধশতকে বড় স্কোর পায় বাংলাদেশ। এরপর টাইগারদের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে ২৩৪ রানেই থামে স্বাগতিকরা।  টস জিতে বাংলাদেশকে ব্যাট করতে পাঠায় লঙ্কানরা।

Tamim+Iqbal+Banglad0esh

ব্যাট করতে নেমে বাংলাদেশের শুরুটা অবশ্য সুখকর ছিল না। দলীয় ২৯ রানের মাথায় দারুণ ফর্মে থাকা সৌম্য সরকার নিজের নামের প্রতি সুবিচার করতে না পেরে সাজঘরের পথ ধরেন। ব্যক্তিগত ১০ রানের মাথায় সুরাঙ্গা লাকমলের বলে উইকেটরক্ষক দীনেশ চান্দিমালের হাতে ক্যাচ তুলে দেন তিনি।

Also Read - প্রথম ওয়ানডেতে বাংলাদেশের রানের পাহাড়


এরপর সাব্বির রহমানকে নিয়ে প্রতিরোধের চেষ্টা করেন ওপেনার তামিম ইকবাল। এতে সফলও হন তিনি। ২য় উইকেটে সাব্বিরকে নিয়ে ৯০ রানের জুটি গড়েন বাঁহাতি ওপেনার। হাফসেঞ্চুরি তুলে নেওয়ার পর সাব্বিরকে উপুল থারাঙ্গার ক্যাচে পরিণত করেন আসেলা গুনারত্নে।

এর পরপরই মুশফিক ক্রিজে এসে দুর্ভাগ্যজনকভাবে আবারও সাজঘরে ফিরে যান। ১২০ রানের মধ্যে টপ অর্ডারের তিন ব্যাটসম্যানকে হারিয়ে কিছুটা চাপে পড়ে যায় বাংলাদেশ।

তবে বাংলাদেশকে এসময় ম্যাচে ফেরায় দুই বন্ধু তামিম ইকবাল ও সাকিব আল হাসানের ১৪৪ রানের দুর্দান্ত জুটি। এই ফাঁকে তামিম তুলে নেন ওয়ানডে ক্যারিয়ারের ৮ম সেঞ্চুরি, সাকিব অর্জন করেন ক্যারিয়ারের ৩৩তম হাফসেঞ্চুরি। ৭২ রান করা সাকিবের বিদায়ের একটু পরই ১২৭ রান করা তামিম প্যাভিলিয়নে ফেরেন। যদিও ততক্ষণে দলের বড় সংগ্রহের ভিত রচনা হয়ে গেছে বাংলাদেশের।

শেষদিকে মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত ও মাহমুদউল্লাহর ঝড়ো ব্যাটিংয়ে লঙ্কানদের সামনে ৩২৫ রানের বড় লক্ষ্য দাঁড় করায় সফরকারীরা। সৈকত ৯ বলে ২৪ এবং মাহমুদউল্লাহ ৭ বলে ১৩ রান করে অপরাজিত থাকেন।

শ্রীলঙ্কার পক্ষে সুরাঙ্গা লাকমল ২টি এবং লাহিরু কুমারা, লক্ষণ সান্দাকান ও আসেলা গুনারত্নে ১টি করে উইকেট শিকার করেন।

জবাবে ব্যাট করতে নেমে শুরুটা ভাল হয় নি লঙ্কানদের। বিনা রানেই উইকেট হারিয়ে বসে লংকানরা। গুনাথিলাকাকে লেগ বিফোরের ফাঁদে ফেলেন মাশরাফি। শেষদিকে রান খরচ করলেও প্রথম দিকে দেখা যায় পুরনো মাশরাফিকে। প্রথম ছয় ওভারে মাত্র উনিশ রান দেন তিনি। অন্যপ্রান্তে মেন্ডিসকে শুভাগত হোমের ক্যাচ বানান অভিষেক ম্যাচ খেলতে নামা মেহেদি হাসান মিরাজ। প্রথম দশ ওভারে মাত্র ৩০ রান দেয় বাংলাদেশ।

এগারোতম ওভারে অভিজ্ঞ থারাঙ্গাকে আউট করেন তাসকিন আহমেদ। এরপর গুনারত্নাকে সাথে নিয়ে চাপ সামাল দিতে শুরু করেন চান্দিমাল। প্রায় থিতু হয়ে আসা গুনারাত্নে ফিরিয়ে তাদের জুটি ভাঙ্গেন সাকিব আল হাসান। রিভার্স সুইপ করতে গিয়ে ধরা পড়েন মোসাদ্দেকের হাতে।

এরই মধ্যে নিজের ফিফটি তুলে নেন চান্দিমাল। তবে তার ইনিংসটি বড় হতে দেননি মিরাজ। মিরাজকে সুইপ করতে গিয়ে সৌম্যের হাতে ধরা পরেন তিনি। ১২১ রানেই অর্ধেক ইনিংস শেষ হয়ে যায় শ্রীলঙ্কার।

এরপর দুই তরুণ খেলোয়াড় পাথিরানা ও সিরিবর্ধনা ভয়ংকর হয়ে উঠতে শুরু করে। কাটার মাস্টার মুস্তাফিজের বলে ম্যাচের ক্যাচ নিয়ে সিরিবর্ধনাকে ফেরান শুভাগত। পাথিরানাকে স্লোয়ার বলে কাবু করেন কাপ্তান মাশরাফি।

এরপর থিসারা পেরেরার ঝড়ো ফিফটি কেবল ব্যবধানই কমিয়েছে। শেষ ব্যাটসম্যান হিসেবে আউট হওয়ার আগে ৩৫ বলে পেরেরা করেন ৫৫ রান।

বাংলাদেশের হয়ে তিন উইকেট নেন মুস্তাফিজ, দুটি করে উইকেট নেন মাশরাফি ও মেহেদি হাসান মিরাজ। একটি করে উইকেট [আম সাকিব ও তাসকিন। এদিন বাংলাদেশের ফিল্ডিং ছিল অসাধারণ। প্রায় সবাই নিজের সর্বোচ্চ দিয়ে ফিল্ডিং করেন। নেয়া হয় কয়েকটি ভাল ক্যাচ। ম্যান অফ দি ম্যাচ হয়েছেন তামিম ইকবাল।

সিরিজে লঙ্কানদের হোয়াইট ওয়াশ করতে পারলে ছয়ে উঠবে টাইগাররা। আর সরাসরি খেলবে ২০১৯ বিশ্বকাপ।

সংক্ষিপ্ত স্কোরঃ

বাংলাদেশঃ ৩২৪/৫ (তামিম ১২৭, সাকিব ৭১; লাকমাল ২/৪৫)

শ্রীলংকাঃ ২৩৪/১০ ( চান্দিমাল ৫৯, পেরেরা ৫৫; মুস্তাফিজ ৩/৫৬ )

  • রাইয়ান কবির, প্রতিবেদক, বিডিক্রিকটাইম
নিউজটি বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন