ফিজিও সর্বোচ্চ চেষ্টাই করেছেন : নিজামউদ্দিন

বাংলাদেশ দলের খেলা থাকলে সাধারণত সমর্থকদের আশা ভরসার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকে পঞ্চপান্ডব খ্যাত পাঁচ ক্রিকেটার। এদেরই একজন সাকিব আল হাসান। তাই চোটের কারণে তার দল থেকে ছিটকে পড়ায় বেশ বড়সর ধাক্কাই লেগেছে ক্রিকেট পরিবারে।

হাসপাতালে চিকিৎসারত আছেন সাকিব।

প্রশ্ন উঠছে নানাজনের বিরুদ্ধে। কেন ফিজিও বুঝতে পারেনি পরিস্থিতির ভয়াবহতা বাড়তে থাকার কথা। কেনইবা এই অবস্থায়ও তাকে এশিয়া কাপে যাওয়ার জন্য অনুরোধ করলেন নাজমুল হাসান পাপন। তবে ঘুরেফিরে যার দিকে অভিযোগের তীরটা শক্ত অবস্থান নিয়েছে সে দলের ফিজিও থিহান চন্দ্রমোহন।

Also Read - অস্ত্রোপচার নাও লাগতে পারে সাকিবের!

এ নিয়ে খুব শীঘ্রই জবাবদিহি’র মুখোমুখি করা হবে তাকে।  আঙুল দেখামাত্র একজন চিকিৎসক বুঝলেন সাকিবের পুঁজ বের করা কতটা জরুরি। অথচ দলের ফিজিও সেটি বোঝেননি দুই সপ্তাহেও। কেন এমনটা হলো তার কারণ দর্শাতে হবে তাকে। এমনটাই বলেছিলেন বিসিবির ক্রিকেট পরিচালনা বিভাগের প্রধান আকরাম খান।

তবে এতসব বিষয়ের মধ্যে থিহানের পক্ষ নিয়ে কথা বললেন বিসিবির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা নিজামউদ্দিন চৌধুরী। সাকিবের ইনজুরির বিষয় থিহান সর্বোচ্চ চেষ্টাই করেছেন বলে মত তার। তিনি বলেন, “একজন পেশাদার ফিজিও তো চাইবেই তাঁর স্কোয়াডের সবাই সুস্থ থেকে পারফর্ম করুক। সে ক্ষেত্রে তাঁর যে ব্যবস্থাপনা পরিকল্পনা থাকে সেই অনুযায়ী কাজ করে থাকে। আমাদের যে চোটগুলো হচ্ছে সেগুলো কোনো কোনো ক্ষেত্রে সময় লাগছে। সময় লাগার কারণেই পরবর্তী সিরিজ গুলোতে তাদের বিবেচনা করা হচ্ছে না এবং আমাদের সমস্যার সম্মুখীন হতে হচ্ছে।”

বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের প্রধান নির্বাহি কর্মকর্তা নিজামউদ্দিন চৌধুরি

এ অবস্থায় পরবর্তী হোম সিরিজে দল সাজানো নিয়ে মাথাব্যথা তৈরী হচ্ছে টিম ম্যানেজমেন্টে।  এ বিষয়ে তিনি বলেন, “ইনজুরি ম্যানেজমেন্ট নিয়ে সব সময় চিন্তা করে ক্রিকেট বোর্ড। এসব দেখার জন্য আমাদের আলাদা বিভাগ রয়েছে, ফিজিওরা আছেন। এটা নিয়ে কাজ করছেন। শুধু মাত্র জাতীয় দল নয়, এইচপি ও এইজ গ্রুপের যে সব ক্রিকেটার রয়েছে, তাদের নিয়ে একটা পরিকল্পনা মেনেই কাজ করা হয়। সামনে যেহেতু দুটি ব্যাক টু ব্যাক সিরিজ হচ্ছে, এর আগে আমাদের এনসিএল আছে। যাদের এর মধ্যে পাওয়া যায় তাদের নিয়েই নির্বাচকেরা কাজ করবে। ”

উল্লেখ্য, এ বছরের শুরুতে শ্রীলঙ্কা ও জিম্বাবুয়ের সঙ্গে ত্রিদেশীয় সিরিজের ফাইনালে ফিল্ডিং করতে গিয়ে চোট পান সাকিব। হাড়ে কোনো চিড় ধরা না পড়লেও বাঁ হাতের কনিষ্ঠার গোড়া মচকে যায়, ক্ষতিগ্রস্ত হয় টিস্যু। প্রয়োজন ছিল অস্ত্রোপাচারের। এশিয়া কাপে না খেলে এই সময় অস্ত্রোপচারের কথা থাকলেও দলের প্রয়োজনে এবং ফিজি ‘র দেয়া সবুজ সংকেতে ব্যাথানাশক ইনজেকশন ওপর ভর করেই পারি জমান দুবাই।

পাকিস্তান ম্যাচের আগ পর্যন্ত সব ঠিকঠাক চললেও এরপর আর সহায় হয়নি ইনজেকশন। এশিয়া কাপের মাঝপথেই যাত্রা সমাপ্তি করে ফিরে আসতে হয় দেশে।  আঙুলের অস্ত্রোপচার করাতে যেদিন সাকিবের যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার কথা, সেদিন হঠাৎ চোট পাওয়া হাতে প্রচণ্ড ব্যথা অনুভব করেন তিনি। ব্যথানাশক খেয়েও লাভ হচ্ছে না! গায়েও জ্বর জ্বর ভাব। দ্রুত অ্যাপোলো হাসপাতালে গেলে জানতে পারেন, চোট পাওয়া বাঁ হাতের কড়ে আঙুল থেকে সংক্রমণ (ইনফেকশন) ছড়িয়ে পড়েছে। পুঁজ জমে ভয়াবহ অবস্থা। পুঁজ সময়মতো না বের করা গেলে হয়তো হাতটাই অকেজো হয়ে যেতে পারত সাকিবের।

Related Articles

সাব্বিরের নিষেধাজ্ঞার সুপারিশে পাপনের ‘হ্যা’

ক্রিকেটারদের ‘ব্যক্তিগত চুক্তি’র জন্যই রবির সরে যাওয়া!