বারবার কেন ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ হারাচ্ছে বাংলাদেশ?

0
862

২০১৬ সালে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ২৫তম ম্যাচ। ব্যাঙ্গালোরে মুখোমুখি বাংলাদেশ ও স্বাগতিক ভারত। ১৪৭ রানের সাদামাটা লক্ষ্য তাড়ায় নেমে শেষ ওভারে দেশের দুই সিনিয়র এবং সেরা ব্যাটারই ছিলেন ক্রিজে। দুই প্রান্তেই দুই অভিজ্ঞ ব্যাটার থাকায় যা হওয়ার কথা প্রায় তা-ই হতে যাচ্ছিল।

স্কটল্যান্ড বাংলাদেশ
স্কটল্যান্ডের কাছে হেরে বিশ্বকাপে প্রথম ম্যাচেই ধাক্কা খায় টাইগাররা।

শেষ ওভারে হার্দিক পান্ডিয়ার ওভারে জয়ের জন্য দরকার ছিল ১১ রান। যার প্রথম ৩ বল থেকেই চলে আসে ৯! পরের তিন বল থেকে ১ রান আসলেও টাই, আর তখন জয়ের জন্য দরকার মাত্র ২ রান। এমন অবস্থান থেকে পাড়ার দলও বোধহয় জয় ছাড়া ফিরতে পারত না।

Advertisment

কিন্তু দলটা বাংলাদেশ! মুশফিক পরপর দুটো চার হাঁকানোর পর জয় থেকে ২ রান দূরে থাকতেই করতে থাকেন বিজয়ের উদযাপন। আর সেই উদযাপনে ঘি ঢালতে পরের বলে ছক্কা হাঁকাতে গিয়ে ধরা পড়েন শিখর ধাওয়ানের হাতে। তখনও আশা ছিল, ভালোভাবেই ছিল, কেননা স্ট্রাইকে তখন আরেক সেট ব্যাটার মাহমুদুল্লাহ। কিন্তু রিয়াদও কাটা পড়লেন।

ইতিহাস ঘাটলেও এমন ম্যাচ খুঁজে পাওয়া কঠিন। অথচ নজিরবিহীন দৃষ্টান্তের জন্ম দিয়ে পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে থাকা একটি ম্যাচ ১ রানে হেরে আসে বাংলাদেশ।

অন্য যেকোনো দল হলে এই পরিস্থিতি থেকে শিক্ষা নিয়ে পরবর্তীতে কাজে লাগাত। কিন্তু বাংলাদেশ ভুল থেকে কমই শিখেছে। যার প্রমাণ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের চলমান সপ্তম আসর। প্রথম পর্ব থেকে শুরু করে মূল পর্ব পর্যন্ত বাংলাদেশ ৪টি ম্যাচ খেলেছে। আর প্রায় প্রতিটি ম্যাচেই হাতের মুঠো থেকে ফসকে গেছে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ।

বাংলাদেশ বনাম ওমান, টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ২০২১
বোলারদের সঠিক ব্যবহার নিয়েও উঠছে প্রশ্ন।

প্রথম পর্বের ম্যাচগুলো থেকে শিক্ষা নিলে অন্তত শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে জয় নিয়েই মাঠ ছাড়তে পারত মাহমুদুল্লাহ রিয়াদের দল। কিন্তু বাংলাদেশ প্রায় প্রতিটি ম্যাচেই ডমিনেটের জায়গা থেকে ফিরে এসেছে। স্কটল্যান্ডের বিরুদ্ধে ম্যাচ নিয়ে অনেক কথাই হয়েছে। সহযোগী দেশ স্কটল্যান্ডের তো দাঁড়াবারই কথা ছিল না! অথচ বাংলাদেশ ম্যাচটাই হেরে গেছে। যে স্কটল্যান্ড ১০০ করতে পারবে কিনা তা নিয়েই সকলে সন্দিহান ছিলেন, তারাই স্কোরবোর্ডে ১৪০ রান জড়ো করে ফেলে।

মজার ব্যাপার হল- স্কটল্যান্ড কিন্তু ৫৩ রান তুলতেই হারিয়ে ফেলেছিল ৬ উইকেট। তবুও আমরা ঠিকমতো চেপে ধরতে পারিনি। প্রতিপক্ষের বেশ কয়েকটা উইকেট পড়ে গেলেই বাংলাদেশ দলের মাঝে একটা আত্মতৃপ্তি চলে আসে, যার সুযোগ নেয় প্রতিপক্ষ দল এবং তা কাজেও লাগায়। আর স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে হেরে গিয়ে তার চরম মূল্য দিতে হয়েছে বাংলাদেশকে।

পাপুয়া নিউগিনির সাথেও একই অবস্থা। বড় লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে খর্বশক্তির পাপুয়া নিউগিনি ৫৪ রান তুলতে ৮ উইকেট খুইয়ে ফেলে। কিন্তু দিনশেষে তারাই থামে ৯৭ রান জড়ো করার পর। রান রেটের হিসেবের খরায় পড়ে গেলে কিন্তু এই হেঁয়ালিপনা বাংলাদেশের বড় বিপদ ডেকে আনতে পারত। অর্থাৎ প্রতিটি ম্যাচেই দারুণ খেলে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেয় বাংলাদেশ, কিন্তু তা ধরে রেখে দল ক্রমাগত চাপ সৃষ্টি করতে পারছে না। ফলে কিছু কিছু ম্যাচ হাত ফসকে যাচ্ছে। যেমনটা হলো শ্রীলঙ্কার সাথেও।

বোলিং নিয়ে রিয়াদের সিদ্ধান্তে ভুল দেখছেন না নাফীস
শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে আশা জাগিয়েও জিততে পারেনি বাংলাদেশ।

শ্রীলঙ্কা ১৭২ রান তাড়া করতে নেমে শুরুতে চাপে পড়লেও সেখান থেকে ঘুরে দাঁড়ায়। পাল্টা আক্রমণে বাংলাদেশকে দারুণভাবে ম্যাচে ফেরান সাকিব আল হাসান। ৯.৪ ওভারে ৭৯ রানে ৪ উইকেট হারিয়ে রীতিমতো দিশেহারা ছিল শ্রীলঙ্কা। কিন্তু তখনই হাতের লাগাম আলগা করে ফেলেন অধিনায়ক রিয়াদ। নিয়মিত এবং পরীক্ষিত বোলারদের বাদ দিয়ে পার্ট টাইমারদের দিয়ে বল করিয়ে ডেকে আনেন সর্বনাশ। এ নিয়ে হয়ত অনেক যুক্তিতর্কও সম্ভব। তবে বোলিং পরিকল্পনায় আরও দূরদর্শী হওয়ার সুযোগ ছিল- তা অস্বীকার করার কোনো উপায় নেই। ক্যাচ হাতছাড়ার ব্যাপার তো আছেই, কিন্তু ম্যাচের গুরুত্বপূর্ণ সময়ে যদি ম্যাচের নিয়ন্ত্রণই হারিয়ে ফেলেন কিংবা চাপ প্রয়োগ থেকে সরে আসেন তাহলে তো প্রতিপক্ষ সুযোগ নিবেই! বাংলাদেশ সুযোগ কাজে না লাগালেও শ্রীলঙ্কা সুযোগ কাজে লাগাতে ভুল করেনি।

মনে রাখতে হবে, বিশ্বকাপে যারাই খেলছে, সবাই যার যার যোগ্যতা দিয়েই খেলছে। এখানে কাউকে ছোট করে দেখার বা আত্মতৃপ্তিতে ভোগার সুযোগ নেই। কারণ সামান্য সুযোগকে কাজে লাগানোর জায়গাই হচ্ছে বিশ্বমঞ্চ। সবাই এখানে হাফ চান্সকে ফুল চান্সে পরিণত করে। অথচ আমরা সুযোগ থাকা সত্ত্বেও সুযোগকে কাজে লাগাতে পারছি না। সামনের ম্যাচগুলোয় যাতে কোনোভাবেই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ হাতছাড়া না হয় তাতে খেয়াল রাখা জরুরী, তাহলেই কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছে যাওয়া সম্ভব। তা না হলে বাংলাদেশের ক্রিকেট প্রেমীদের আক্ষেপের দহন আরও বাড়তে পারে!

বল বাই বল লাইভ স্কোর পেতে আর নয় বিদেশি অ্যাপ। বাংলাদেশ ক্রিকেটের সাম্প্রতিক খবর এবং বল বাই বল লাইভ স্কোর আপনার মুঠোফোনে পেতে এখনি প্লে-স্টোর থেকে BDCricTime সার্চ করে ডাউনলোড করুন বাংলাদেশের নাম্বার ওয়ান ক্রিকেট অ্যাপটি। অথবা ডাউনলোড করতে ক্লিক করুন এখানে। ভালো লাগলে অবশ্যই রেটিং দিয়ে উৎসাহী করুন।