বাশারকে স্পর্শ করার হাতছানি মাশরাফিকে

সিরিজের প্রথম ওয়ানডেতে প্রথম বাংলাদেশি ক্রিকেটার হিসেবে ২০০ আন্তর্জাতিক ওয়ানডে খেলার মাইলফলক স্পর্শ করেন মাশরাফি বিন মুর্তজা। দ্বিতীয় ওয়ানডেতে নতুন রেকর্ডের হাতছানি দিচ্ছে  অধিনায়ক মাশরাফিকে। বাংলাদেশের হয়ে সর্বোচ্চ ওয়ানডে ম্যাচ অধিনায়কত্ব করা হাবিবুল বাশারকে স্পর্শ  করতে যাচ্ছেন মাশরাফি।

বাশারকে স্পর্শ করার হাতছানি মাশরাফিকে
দলকে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়ে যাচ্ছেন মাশরাফি। © বিডিক্রিকটাইম

অধিনায়কত্বের দিক দিয়ে সব সময়েই হাবিবুল বাশারকে  এগিয়ে রাখতে পছন্দ করেন মাশরাফি। ম্যাচ জয়ের সংখ্যায় হাবিবুল বাশারকে মাশরাফি ছাড়িয়েছেন আরো আগে। মাশরাফি তখন বলেছিলেন হাবিবুল বাশারের একটি জয় তার দুইটি জয়ের সমান।

Advertisment

হাবিবুল বাশারের অধিনায়কত্বের সময়ের বাংলাদেশের চাইতে বর্তমান বাংলাদেশ শক্তি-সামর্থ্যে অনেক এগিয়ে। ওয়ানডেতে যেকোনো দলকেই হারানোর সামর্থ্য রয়েছে টাইগারদের। এতদিনের পথচলায় বাংলাদেশ এগিয়েছে অনেক। সেই পথচলার শুরুর দিনগুলোর কান্ডারি ছিলেন হাবিবুল বাশার। কঠিন সময়ে শক্ত হাতে দলকে নেতৃত্ব দিয়েছেন। জয় তখন এখনকার মতো পরিচিত ছিল না। অনেক চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করে নেতৃত্ব দিয়েছেন হাবিবুল বাশার।

মাশরাফি বিন মোর্তজার পথচলাটাও মসৃণ নয়। ২০০১ সালে অভিষেক হওয়া মাশরাফির চোটের সাথে ছিল অপ্রত্যাশিত সখ্যতা।  একের পর এক চোট এসে বিঘ্ন করেছে তার পথচলা। তবে লড়াকু মাশরাফি হার মানেননি। ফের যাত্রা শুরু করেছেন পুর্ণোদ্যমে। হয়ে উঠেছেন বিশ্ব ক্রিকেটের এক অনুপ্রেরণাদায়ী চরিত্র।

বাশারকে স্পর্শ করার হাতছানি মাশরাফিকে

২০০৯ সালে প্রথমবার নেতৃত্ব পান। নেতৃত্বের প্রথম টেস্টেই চোট পেয়ে ছিটকে যান মাঠের বাইরে। ২০১০ সালে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ফিরেন মাশরাফি। ঐ বছর নেতৃত্ব দেন ছয় ম্যাচে। তার নেতৃত্বে ঐ বছর ইংল্যান্ডের মাটিতে ইংল্যান্ডকে হারায় বাংলাদেশ। ২০১০ সালেরই অক্টোবরে দেশের মাটিতে প্রথমবারের মতো ওয়ানডেতে নেতৃত্ব দেন নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে। কিন্তু ঐ ম্যাচে চোট পেয়ে পুরো সিরিজ থেকে ছিটকে যেতে হয়েছিল তাকে। পরের বছর আবারো সইতে হয়েছে চোটের ধকল। ঘরোয়া ক্রিকেটে ব্যাটিং করতে গিয়ে পাওয়া চোটের ধাক্কা ছিটকে পড়েন দেশের মাটিতে অনুষ্ঠিত হওয়া বিশ্বকাপ থেকে।

২০১৪ সালে একের পর এক ম্যাচ হেরে কোণঠাসা হয়ে গিয়েছিল বাংলাদেশ। নভেম্বরে ফের অধিনায়কত্বের দায়িত্ব পান মাশরাফি। পুরো বছর জয়ের খরা ছিল বাংলাদেশের। টানা ম্যাচ হেরে বাংলাদেশের আত্মবিশ্বাস যেন ছিল তলানিতে। দেয়ালে পিঠ ঠেকা এক দলের দায়িত্ব কাঁধে তুলে নেন মাশরাফি। তার নেতৃত্বেই ঘরের মাঠে জিম্বাবুয়েকে ওয়ানডে সিরিজে হোয়াইটওয়াশ করে ২০১৪ সালের জয়ের খরা কাটানো। অন্ধকার টানেলের শেষপ্রান্তে আলোর ঝলকানি যেমন আলোকিত পথের দিক দেখায়, ঠিক তেমনি মাশরাফিও যেন পথে আনলেন দিশেহারা হওয়া বাংলাদেশের ক্রিকেটকে।

মাশরাফির নেতৃত্বে যেন নতুন যাত্রা শুরু করল বাংলাদেশ। ২০১৫ সালে খোলনলচে বদলে গেল বাংলাদেশ। মাশরাফির নেতৃত্বে ২০১৫ বিশ্বকাপের শেষ আটে জায়গা করে নেওয়ার পর ঘরের মাঠে ভারত, পাকিস্তান, দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে ওয়ানডে সিরিজ জয়। যে ভিত গড়ে দিয়ে গিয়েছিলেন হাবিবুল বাশাররা, তার ওপর সৌধ গড়ার দায়িত্বটাই যেন মাশরাফির নেতৃত্বে  পালন করে আসছে বর্তমান দল।

বাশারকে স্পর্শ করার হাতছানি মাশরাফিকে
টস করতে নামলেই বাশারকে স্পর্শ করবেন মাশরাফি। ছবিঃ এসিসি।

দ্বিতীয় মেয়াদে নেতৃত্ব পাওয়ার পর এখন পর্যন্ত ৬৪ ওয়ানডে খেলেছে বাংলাদেশ। এর মধ্যে ৬১ ওয়ানডেতেই মাশরাফি ছিলেন অধিনায়ক। বিশ্রাম ও স্লো ওভার রেটের কারণে ছিলেন না তিন ম্যাচে।

উইন্ডিজের বিপক্ষে দ্বিতীয় ওয়ানডেতে টস করতে  নামলে ৬৯ তম ম্যাচে অধিনায়কত্ব করবেন তিনি। ৬৯ ম্যাচে অধিনায়কত্ব করা হাবিবুল বাশার জয়ের স্বাদ পেয়েছেন ২৯ ম্যাচে। মাশরাফির নেতৃত্বে ৬৮ ম্যাচের মধ্যে ৩৯টিতে জিতেছে বাংলাদেশ। এছাড়া সাকিব আল হাসানের নেতৃত্বে ৫০ ম্যাচের ২৩ টিতে, মোহাম্মদ আশরাফুলের নেতৃত্বে ৩৮ ম্যাচের ৮ টিতে, মুশফিকুর রহিমের নেতৃত্বে ৩৭ ম্যাচের ১১ টিতে, খালেদ মাসুদের নেতৃত্বে ৩০ ম্যাচের ৪ টিতে, আমিনুল ইসলামের নেতৃত্বে ১৬ ম্যাচের ২ টিতে ও আকরাম খানের নেতৃত্বে ১৫ ম্যাচের ১ টিতে জিতেছে বাংলাদেশ। জয়ের শতকরা হারের দিক দিয়েও সবচেয়ে এগিয়ে আছেন মাশরাফি।

উইন্ডিজ সিরিজের তৃতীয় ওয়ানডে দিয়ে হাবিবুল বাশারকে ছাড়িয়ে যাবেন মাশরাফি। পাশাপাশি প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে বাংলাদেশের জার্সিতে দুইশ’ আন্তর্জাতিক ওয়ানডে খেলার কীর্তি গড়বেন নড়াইল এক্সপ্রেস।


আরো পড়ুনঃ  “সাকিব বিশ্বের সেরা ওয়ানডে ক্রিকেটার”