বিলম্বিত কোয়াবের নতুন কমিটি, মুখ খুললেন দুর্জয়

0
430

গেল বছর দেশের ক্রীড়াঙ্গনে সবচেয়ে আলোচিত বিষয় ছিল বেশ কয়েক দফা দাবিতে দেশের শীর্ষস্থানীয় ক্রিকেটারদের ধর্মঘট। এর মধ্যে একটি দাবি ছিল- (কোয়াব) বর্তমান কমিটির পদত্যাগ ও নতুন কমিটি গঠন।

গেল বছর দেশের ক্রীড়াঙ্গনে সবচেয়ে আলোচিত বিষয় ছিল বেশ কয়েক দফা দাবিতে দেশের শীর্ষস্থানীয় ক্রিকেটারদের ধর্মঘট। এর মধ্যে একটি দাবি ছিল- ক্রিকেটারদের কল্যাণে গঠিত সংগঠন ক্রিকেটার্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (কোয়াব) বর্তমান কমিটির পদত্যাগ ও নতুন কমিটি গঠন।

Advertisment

একদল লোক যখন একই লক্ষ্যে একই কাজ করে যান, তাদের একটি গোষ্ঠী বা সংগঠন হতেই পারে। ১৯৯৯ সালে যেভাবে গঠিত হয়েছিল কোয়াব। ক্রিকেটারদের সুখে-দুঃখে পাশে থাকার জন্য গঠন করা হয়েছিল সংগঠনটি। অথচ কোয়াবই হয়ে ওঠে খেলোয়াড়দের অসন্তোষের কারণ





কোয়াব নেতারা নতুন কমিটির আশ্বাস দিলেও এখনো কেউ পদত্যাগ করেননি। কোয়াবের সর্বশেষ কার্যনির্বাহী কমিটি গঠিত হয় ২০০৮ সালে। নামকাওয়াস্তে সক্রিয়তা নিয়ে এখনো সেই কমিটির অধীনেই সংগঠনটি। অক্টোবরে খেলোয়াড়দের ধর্মঘটের সময় বলা হয়েছিল- ৬-৭ মাস আগে সর্বশেষ কমিটির মেয়াদ শেষ হয়েছে। যদিও দীর্ঘ ১১ বছরেও কমিটিতে কোনো পরিবর্তন আসেনি। সংগঠনে যারা নেতৃস্থানীয় ব্যক্তি, তাদের সবার পরিচিতি ক্রিকেটার হিসেবে, তবে তারা ‘সাবেক ক্রিকেটার’।

ধর্মঘটে খেলোয়াড়দের দাবি ছিল- কোয়াবের নতুন নির্বাচন দিতে হবে এবং এর নেতৃত্বে থাকবেন বর্তমান খেলোয়াড়রাও। সেই দাবির পর কোয়াব নেতৃবৃন্দ জানিয়েছিলেন- শীঘ্রই নতুন কমিটি গঠন করা হবে। অথচ ক্রিকেট অঙ্গনকে উত্তাল করে তোলা সেই ধর্মঘটের দুই মাসেরও বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও এখনো নেই কোনো দৃশ্যমান উদ্যোগ।






মঙ্গলবার (৭ জানুয়ারি) এ নিয়ে সাংবাদিকদের সামনে মুখ খোলেন কোয়াবের সভাপতি ও সাবেক অধিনায়ক নাঈমুর রহমান দুর্জয়। তিনি জানান, শীর্ষস্থানীয় ক্রিকেটাররা সময় দিতে পারছেন না বলেই কোয়াব নিয়ে আলোচনার টেবিলে সাড়াশব্দ নেই।

দুর্জয় বলেন, ‘আলোচনা হচ্ছে। আমরা ২-৩ বার বসেছিও বর্তমান ক্রিকেটারদের সাথে। প্রস্তাব দিয়েছি, গঠনতন্ত্র দেখিয়েছি। সেই অনুযায়ী কাজ করে আমাদের ফিডব্যাক দেওয়ার কথা। এখনো ফিডব্যাক পাইনি।’

কিছুক্ষণের মধ্যেই ক্রিকেটারদের সংবাদ সম্মেলন
আইনজীবীর সহায়তায় সংবাদ সম্মেলন করে কোয়াব পুনর্গঠনসহ ১৩ দফা দাবি জানিয়েছিলেন ক্রিকেটাররা। ফাইল ছবি

তবে ক্রিকেটাররা তাদের দাবির প্রেক্ষিতে শীঘ্রই কোয়াবের সাথে বসবেন বলে প্রত্যাশা একইসাথে বোর্ড পরিচালকের দায়িত্ব পালন করা দুর্জয়ের,এখনো আমরা আশায় আছি- যেহেতু তারা কোয়াবের সাথে যুক্ত হতে চেয়েছে, আমরা স্বাগত জানিয়েছি। আমার ব্যক্তিগত অফিসেও বসেছি তাদের সাথে। ওরা বলেছে সময় নির্ধারণ করে জানাবে। প্রিমিয়ার লিগের সময় সবাই হয়ত সময় পাবে। বিপিএলের মধ্যেই আলোচনা হওয়ার কথা ছিল, তবে এ সময় ব্যস্ত সূচি থাকে।’

‘বল এখন খেলোয়াড়দের কোর্টে, বলেছি- তোমরাই আমাদের জানাও কখন বসতে চাও।’ 

তবে খেলোয়াড়দের দাবি আর কোয়াবের কার্যক্রমের মধ্যে কিছু সংঘর্ষও খুঁজে পাচ্ছেন দুর্জয়। তার অভিমত, কোয়াবের সাথে যুক্ত আছেন ক্রিকেট সংগঠকরাও। সাবেক ক্রিকেটাররা তো আছেনই। তাদের বাদ দিয়ে যে সংগঠনের কমিটি করা কঠিন, দুর্জয় যেন সেটিই বলতে চাইলেন, ‘আসলে দুইটা জিনিসে কনফ্লিক্ট আছে। কোয়াব কিন্তু শুধু বর্তমান ক্রিকেটারদের সংগঠন নয়। এখানে সাবেক-বর্তমান ক্রিকেটার, এমনকি ক্রিকেট সংগঠকরাও জড়িত; যারা ক্রিকেট সেভাবে খেলেনি কিন্তু ক্রিকেট আয়োজক হিসেবে আমাদের সাথে জড়িয়ে আছেন।’

খেলোয়াড়দের ধর্মঘট চলাকালে কোয়াব নিয়ে অসন্তোষ জানায় ফিকা। ফাইল ছবি

কোয়াব যাদের অধীনে সংগঠনের মর্যাদা পেয়েছে, সেই ফেডারেশন অব ইন্টারন্যাশনাল ক্রিকেটার্স অ্যাসোসিয়েশনও (ফিকা) কোয়াবের কার্যক্রমে নাখোশ। কোয়াব থাকা সত্ত্বেও বর্তমান ক্রিকেটারদের নানাবিধ অভিযোগ আর বোর্ডের সাথে যুক্ত কর্মকর্তাদের কোয়াবের নেতার ভূমিকায় থাকার বিষয়ে ইতিপূর্বে অসন্তোষ প্রকাশ করেছিল ফিকা।

বর্তমানে কোয়াবের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন দুর্জয়। সাধারণ সম্পাদকের ভূমিকায় দেবব্রত পাল- যিনি জাতীয় দলে না খেললেও ঘরোয়া ক্রিকেট খেলেছেন বেশ কিছু ম্যাচ।

প্রথমবারের মত বিডিক্রিকটাইম নিয়ে এলো অ্যান্ড্রয়েড অ্যাপ্লিকেশন। বাংলাদেশ এবং সকল আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের বল বাই বল লাইভ স্কোর, এবং সাম্প্রতিক নিউজ সহ সবকিছু এক মুহূর্তেই পাবেন বাংলাদেশ ক্রিকেটের সবচেয়ে বড় অনলাইন পোর্টাল BDCricTime এর অ্যাপে। অ্যাপটি ডাউনলোড করতে গুগল প্লে-স্টোর থেকে সার্চ করুন BDCricTime অথবা ডাউনলোড করতে এখানে ক্লিক করুন। ভালো লাগলে অবশ্যই রেটিং দিয়ে উৎসাহী করুন।