Scores

বিশ্বকাপে সালমাদের প্রাপ্য সম্মান ও সমর্থন দিবেন তো ভক্তরা?

নারীদের টি টোয়েন্টি বিশ্বকাপ শুরু হতে বাকি নেই বেশি দিন। ২১ তারিখ অস্ট্রেলিয়ায় মাঠে গড়াবে নারীদের টি টোয়েন্টি বিশ্বকাপ। এইবারের টি টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশ নারীদলের সাথে একই গ্রুপে রয়েছে নারী ক্রিকেটের পরাশক্তি দুই দল অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ড। সাথে রয়েছে এশিয়ান জায়ান্ট ভারত ও শ্রীলঙ্কা।

বিশ্বকাপে সালমাদের প্রাপ্য সম্মান ও সমর্থন দিবেন ভক্তরা?
বিশ্বকাপের আগের ফটোশুটে অধিনায়করা। ছবি আইসিসি

বাংলাদেশ নারীদল চতুর্থবারের মতো টি টোয়েন্টি বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ করবে। টি টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশ নারীদলের মোট জয় ২টি। ২টি জয়ই এসেছিল ২০১৪ সালে ঘরের মাঠে অনুষ্ঠিত নারী টি টোয়েন্টি বিশ্বকাপে আয়ারল্যান্ড ও শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে।

Also Read - ইয়াসির-আশরাফুলের দুর্দান্ত ব্যাটিংয়ে ফাইনালে পূর্বাঞ্চল


বাংলাদেশের নারীরা বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম ম্যাচে মাঠে নামবে আগামী ২৪ ফেব্রুয়ারি ভারতীয় নারী দলের বিপক্ষে পার্থের ওয়াকা স্টেডিয়ামে। অস্ট্রেলিয়ার মতো দেশে এই প্রথম বাংলাদেশের কোন খেলার নারী দল বৈশ্বিক কোন আসরে বাংলাদেশকে প্রতিনিধিত্ব করবে এই বিশ্বকাপে। নারীদের খেলাধুলার ইতিহাসে এক ঐতিহাসিক আসর হতে যাচ্ছে এটি। কারন মেলবোর্নের ফাইনালে ধারনা করা হচ্ছে প্রায় ১ লাখ দর্শক উপস্থিত থাকবে নারী বিশ্বকাপের ফাইনাল দেখতে নারী দিবসের দিন। যা এর পূর্বে যে কোন নারীদের খেলায় দর্শক উপস্থিতির রেকর্ড ভেঙ্গে দিবে বলে প্রত্যাশা আইসিসির।

সেই রেকর্ড হোক না হোক বাংলাদেশ দল যে এইবার বিশ্বকাপে গ্রুপ পর্বে কিছু ম্যাচ খেলার মধ্য দিয়ে ইতিহাস তৈরী করবে তা প্রায় নিশ্চিত।কারন এই প্রথম কিছু দলের সাথে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে প্রথম দেখা হবে বাংলাদেশের নারীদের ।

বাংলাদেশে নারী ক্রিকেট বেশ পুরোনো নয়। নানান প্রতিবন্ধকতা পেরিয়ে বাংলাদেশের নারী ক্রিকেট দল হয়েছে ও বাংলাদেশের নারীরা কম সুযোগ সুবিধার পরও টি টোয়েন্টি বিশ্বকাপে যে খেলার সুযোগ তৈরী করে নিয়েছে তা মোটেও ছোট ব্যাপার নয়। নারী ক্রিকেটের দুই বড় দল হচ্ছে অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ড। অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে এর আগে বাংলাদেশ দল কখনো কোন ম্যাচই খেলেনি । তাদের খেলোয়াড়দের সুযোগ সুবিধা ও বেতন বাংলাদেশের নারীদের তুলনায় যোজন যোজন এগিয়ে রয়েছে। তাদের খেলোয়াড়রা সকলেই নিয়মিত নারীদের বিগ ব্যাশ ও ইংল্যান্ডে নারীদের টি টোয়েন্টি লীগ ক্রিকেটে খেলে থাকে।

ভারত ও দক্ষিণ আফ্রিকার মত দলগুলোও বিশ্বকাপের আগে অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডে সিরিজে খেলে এসেছে। তাদের খেলোয়াড়দেরও বিগ ব্যাশ খেলার অভিজ্ঞতা রয়েছে। সুযোগ সুবিধা বা প্রস্তুতি এই বিচারে এশিয়ান নারী দলগুলোর তুলনায় কয়েক গুন এগিয়ে অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডের মত দলগুলো।

এশিয়ার কথা বিবেচনা করলেও ভারতের নারী দলের সুযোগ সুবিধা বাংলাদেশ নারীদলের তুলনায় কয়েক গুন বেশি। নিজেদের সীমাবদ্ধতার মাঝেও ভারতীয় নারী দলকে হারিয়ে গত এশিয়া কাপে চ্যাম্পিয়ন হয় বাংলাদেশ নারী দল। যোগ্যতা দিয়েই সালমারা প্রমাণ করেন সীমাবদ্ধতার পরও তাদের চেষ্টার কমতি নেই। তবে বিশ্বকাপে ২০১৮ সালে খুব একটা ভালো করতে পারেনি সালমারা। এর কারন নিয়মিত দেশের বাইরে বড় আন্তর্জাতিক দলগুলোর বিপক্ষে না খেলার অভিজ্ঞতা। সেই কারনে বিশ্বকাপের পর দর্শকদের সমর্থনেও ভাটা পরে কিছুটা।

বছর ঘুরে আবার একটি বিশ্বকাপের সামনে বাংলাদেশ। প্রতিপক্ষ বড় দলগুলোর ( অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড) বিপক্ষে কখনোই এর আগে খেলার সুযোগ হয়নি বাংলাদেশের। নিজেদের ক্যারিয়ারের সবচাইতে বড় ম্যাচ খেলবেন সালমা, জাহানারারা এই বিশ্বকাপে। ফলাফল যাই হোক এলিস পেরি, আলিসা হিলিদের মত তারকা ঠাসা দলের বিপক্ষে বিশ্বকাপে খেলাটাই বাংলাদেশের জন্য হবে এক নতুন অভিজ্ঞতা। নারী দলের চেষ্টা অবশ্যই থাকবে নিজেদের সেরাটা দিয়ে ভালো ফলাফল আনার।

এই বিশ্বকাপে ফলাফল যাই হোক তারপরও দর্শকরা কি যথেষ্ট সম্মান ও সমর্থন দিবেন নারী দলকে? বাংলাদেশে নারীদের ক্রিকেট খেলা খুব একটা সহজ নয়। শত প্রতিবন্ধকতা পেরিয়ে বিশ্বের দরবারে এই নারীরা যোগ্যতা অর্জন করেছেন বাংলাদেশকে তুলে ধরার। তাই দর্শকদের কাছেও হয়তো তাদের প্রত্যাশা থাকবে ফলাফল যাই হোক না কেনো বিশ্ব সেরা দলগুলোর বিপক্ষে তাদের যথাযথ সম্মান ও সমর্থন দেওয়ার।

নিউজটি বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন

Related Articles

পেরির কান্নায় কাঁদলো ক্রিকেট বিশ্ব

ঐতিহাসিক ম্যাচে পেরিদের মুখোমুখি জাহানারা-সালমারা

ভারতকে ‘১৪২’ এ আটকে দিলো বাংলাদেশ

ঐতিহাসিক আসরের বাকি মাত্র ১০০ দিন

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে কঠিন প্রতিপক্ষের সামনে বাংলাদেশ