প্রায় চার বছর পর ভারতের স্কোয়াডে ফিরেছেন পেসার ভুবনেশ্বর কুমার। অভিজ্ঞ এই পেসার মাঝের সময়ে জাতীয় দলের বাইরে ছিলেন। সম্প্রতি আইপিএলে আলো ছড়িয়ে ফিরেছেন জাতীয় দলের ডেরায়। [গুগল নিউজে বিডিক্রিকটাইম ফলো করুন]
২ ম্যাচে ৯৯ রান দিয়ে ১ উইকেট নিয়েছেন ভুবনেশ্বর কুমার। আইপিএলের সর্বশেষ দুই আসরে রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুর (আরসিবি) জার্সিতে আলো ছড়িয়েছেন ভুবনেশ্বর। আরসিবির টানা দুই শিরোপা জয়ে রেখেছেন বড় ভূমিকা। আইপিএলে টানা সাফল্যের পুরস্কারই যেন পেলেন ভুবনেশ্বর। নিউজিল্যান্ড সফরের পাঁচ ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজের স্কোয়াডে তাকে রেখেছে ভারত।
সিরিজের প্রথম দুই ম্যাচে তাকে একাদশেও রাখে টিম ইন্ডিয়া। তবে চেনা ছন্দে দেখা যায়নি ভুবনেশ্বরকে। প্রথম ম্যাচে ৪৯ রান খরচা করেও ছিলেন উইকেটশুন্য। পরের ম্যাচে ৫০ রান দিয়ে উইকেট ১টি। ২ ম্যাচ মিলিয়ে ৯৯ রান দিলেও এখনই অভিজ্ঞ এই পেসারের উপর আস্থা হারাতে নারাজ ভারতের পেস বোলিং কোচ মরনে মরকেল।
তৃতীয় ম্যাচের আগে সংবাদ সম্মেলনে মরনে মরকেল জানিয়েছেন, ‘তার (ভুবনেশ্বরের) প্রত্যাবর্তনের বিষয়টি আমি যথেষ্ট সহানুভূতির সঙ্গে দেখছি। কেন এমনটা বলছি, তার কারণ হলো চার বছর পর ফিরে আসায় তাকে ঘিরে প্রত্যাশা থাকবে। আইপিএলে সে অসাধারণ পারফর্ম করেছে। খুব ভালো বোলিং করেছে। প্রথম বিষয় হলো, প্রত্যাশার চাপটা মাথা থেকে সরিয়ে রাখা। দ্বিতীয়ত, দলে নির্বাচিত হওয়ার আগে সে এক মাস ক্রিকেটের সঙ্গে ছিল এবং অনুশীলন করেছে। কিন্তু আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলতে আসা সম্পূর্ণ ভিন্ন এক চ্যালেঞ্জ। এখানে সাফল্য ও ব্যর্থতার ব্যবধান খুবই সামান্য। তাই ব্যস্ত সূচির কারণে সীমিত অনুশীলন নিয়েই তাকে নিজেকে প্রস্তুত করে ফিরতে হয়েছে।’
মরকেল আরও জানিয়েছেন, ‘তার দক্ষতা আছে, অভিজ্ঞতা আছে, সবকিছুই আছে। কিন্তু দিন শেষে ক্রিকেট খেলাটাকে সম্মান করতে হবে এবং কয়েকটি ম্যাচ খেলার মাধ্যমে তাকে নিজের ছন্দ ফিরে পাওয়ার সুযোগ দিতে হবে। স্কোয়াডে যোগ দেওয়ার পর থেকেই তার প্রতি আমাদের বার্তা ছিল - কোনো কিছুর পেছনে ছুটবে না। শুধু নিজের মতো থাকো। হ্যাঁ, প্রত্যাশা থাকবে, কিন্তু প্রতিটি ম্যাচের সঙ্গে তুমি আরও ভালো করবে এবং প্রতিটি ম্যাচেই নিজের ছন্দ ফিরে পাবে। তাই বাইরের কোনো কথাবার্তা নিয়ে ভাবার প্রয়োজন নেই। শুধু নিজের মতো থাকো এবং নিজের স্বাভাবিক খেলাটার সঙ্গে সংযোগ খুঁজে নাও।’
এছাড়া দলের পারফরম্যান্স, ভেন্যু প্রসঙ্গে পেস বোলিং কোচ মরনে মরকেল জানান, ‘আগের ভেন্যু ক্রাইস্টচার্চের কথা যদি বিবেচনা করেন, তাহলে আমার জানামতে সেখানে গড় স্কোর প্রায় ১৮০-১৯০। আমার মনে হয়েছে, প্রথম ম্যাচে নির্দিষ্ট কিছু সময়ে আমাদের পরিকল্পনার বাস্তবায়ন যতটা ভালো হওয়া উচিত ছিল, ততটা হয়নি। কিছু কিছু বলের ক্ষেত্রে বিকল্প বেছে নেওয়া এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণও সঠিক ছিল না। তবে আবারও বলছি, আমরা ছেলেদের নিজেদের সহজাত উপলব্ধির ওপর আস্থা রাখতে এবং সেগুলো বুঝতে সুযোগ দিচ্ছি। এরপর আমরা সেসব নিয়ে আলোচনা করতে পারি। এটাও বলতে হবে, উইকেটটি খুব ভালো ছিল। দারুণ একটি উইকেট প্রস্তুত করার জন্য মাঠকর্মীদের কৃতিত্ব দিতে হবে।’
দলের অনুশীলনে ব্যস্ত পেস বোলিং কোচ মরনে মরকেল (ডান থেকে দ্বিতীয়)। ছবি : গেটি ইমেজসমরকেলের মতে, ‘দুই দলই যদি ২০০-এর বেশি রান করে, তাহলে সেটি ভালো উইকেটের লক্ষণ। কখনও কখনও বড় ভেন্যুতে, বড় মাঠে আপনি বাড়তি রান নেওয়ার সুযোগ পান। মানুষ সব সময় বলে, না, এখানে তো বাউন্ডারি অনেক বড়। কিন্তু এখানে দুই রান নেওয়ার সুযোগও অনেক বেশি। নিউজিল্যান্ডের দিকে তাকালে দেখবেন, তারা উইকেটের মাঝে খুব ভালো দৌড়ায়। আপনার শট খেলে রান নেওয়ার জায়গাও বেড়ে যায়। তাই বিষয়টি আমাদের সবার জন্য বড় একটি শিক্ষার বিষয়।’
মরনে মরকেল আরও বলেছেন, ‘ছেলেদের কী করতে হবে, সেসব বলে দেওয়ার ক্ষেত্রে আমরা হয়তো তাদের করা বোলিং স্পেলগুলো নিয়েই পর্যালোচনা করতে পারি। দিন শেষে আমাদের যত পরিকল্পনাই থাকুক না কেন, আসল বিষয় হলো সেগুলোর বাস্তবায়ন এবং কীভাবে আমরা আরও ভালোভাবে তা করতে পারি। ম্যানেজমেন্টের সদস্য হিসেবে প্রথম কয়েকটি ম্যাচে আমরা কিছুটা ছাড় দিতে পারি। কারণ ভ্রমণের ব্যস্ত সূচি, জেট ল্যাগ এবং ছেলেদের সঙ্গে মাত্র একটি বা দুটি অনুশীলন সেশন থাকায় কিছুটা ঘাটতি থাকতেই পারে। কিন্তু এখন থেকে আমরা একরকম বলেই দিয়েছি, আর কোনো অজুহাত চলবে না। আমরা নিজেদের মান আরও ওপরে নিতে চাই। আমরা যথেষ্ট ঘুমিয়েছি। আমার মনে হয়, আমরা কিছুটা হলেও এখানকার পরিবেশের সঙ্গে মানিয়ে নিয়েছি। আশা করি, এখন থেকে ছোট ছোট বিষয়গুলোও আমরা আরও ভালোভাবে করতে পারব।’
কিউই কন্ডিশনে ভিন্ন চ্যালেঞ্জের ব্যাপারে মরকেল জানান, ‘এখানকার বাতাস সম্পূর্ণ ভিন্ন এক চ্যালেঞ্জ। আজ সকালে আমি হোটেলে ছিলাম, পুরো ভবনটাই যেন কাঁপছিল। অল্প সময়ের ব্যবধানে পরের ম্যাচ খেলতে নামতে হচ্ছে। এর মধ্যেই ছেলেদের নতুন এই অভিজ্ঞতার সঙ্গে পরিচিত হতে হবে এবং মানিয়ে নিতে হবে। তবে আমাদের কাছে মূল বিষয় হলো এই চ্যালেঞ্জের দিকে তাকিয়ে থাকা, সরাসরি সেটির মোকাবিলা করা এবং কোনো অজুহাত না দেওয়া। এই বাতাস অনেক কিছুতেই প্রভাব ফেলতে পারে। ব্যাটিংয়ে প্রভাব ফেলতে পারে, আপনার দাঁড়ানোর ভঙ্গিতে প্রভাব ফেলতে পারে, ক্রিজে থাকা অবস্থায়ও প্রভাব ফেলতে পারে। আরও অনেক বিষয়েই এর প্রভাব পড়তে পারে। তবে যেমনটা বলেছি, প্রস্তুতি ও অনুশীলনের জন্য আপনার হাতে খুব অল্প সময় থাকবে। সেই সময়ের মধ্যেই বোঝার চেষ্টা করতে হবে, বাতাস আপনাকে কীভাবে প্রভাবিত করতে পারে। কিন্তু ম্যাচ শুরু হয়ে গেলে এসব মাথা থেকে সরিয়ে রাখতে হবে। তখন প্রতিটি বলেই নিজের পরিকল্পনা সঠিকভাবে বাস্তবায়নের চেষ্টা করতে হবে এবং প্রতিটি বলকে গুরুত্বপূর্ণ করে তুলতে হবে।’
সিরিজের প্রথম দুই ম্যাচ জিতে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে গেছে ভারত। সিরিজের তৃতীয় টি-টোয়েন্টি ২৭ অক্টোবর। ওয়েলিংটনে বাংলাদেশ সময় দুপুর ১টায় শুরু হবে ম্যাচ।
বাংলাদেশের ক্রিকেটসহ আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের সব ধরনের খবর সবার আগে পেতে এখানে ক্লিক করে সাবস্ক্রাইব করুন BDCricTime Videos চ্যানেলটি।
বল বাই বল লাইভ স্কোর পেতে আর নয় বিদেশি অ্যাপ। বাংলাদেশ ক্রিকেটের সাম্প্রতিক খবর এবং বল বাই বল লাইভ স্কোর আপনার মুঠোফোনে পেতে এখনি প্লে-স্টোর থেকে BDCricTime সার্চ করে ডাউনলোড করুন বাংলাদেশের নাম্বার ওয়ান ক্রিকেট অ্যাপটি। অথবা ডাউনলোড করতে ক্লিক করুন এখানে। ভালো লাগলে অবশ্যই রেটিং দিয়ে উৎসাহী করুন।