মিজানুরে ম্লান আশরাফুলের ‘রেকর্ড’ শতক

0
908

চলমান ডিপিএলের রেলিগেশন লিগের দ্বিতীয় ম্যাচে মিজানুর রহমানের ১০৪ বলের দূর্দান্ত ১১৫ রানের ইনিংসে চড়ে আশরাফুলদের কলাবাগানের বিপক্ষে ৩৩ বল বাকি থাকতেই ৬ উইকেটের জয় পেয়েছে ব্রাদার্স ইউনিয়ন।

সদ্য সমাপ্ত এনসিএলে টানা তিন শতক হাঁকান মিজানুর রহমান।

Advertisment

২৫৩ রানের লক্ষ্যমাত্রায় ব্যাট করতে নেমে শুরু থেকেই দারুণ খেলতে থাকেন মিজানুর। ইনিংসের ১১তম ওভারে ১৬ রান করেন জুনায়েদ সিদ্দিকী ও দলীয় ১১৮ রানে ১৬ রান করা মাইশুকুর রহমানের উইকেট হারালেও মিজানুরের ব্যাটে জয়ের পথে এগোতে থাকে ব্রাদার্স।

বলের চেয়েও বেশি হারে রান করতে থাকা মিজানুর শতক পূর্ণ করে নেন দলীয় ১৫০ রান পূর্ণ হওয়ার আগেই। ৮৫ বল খেলে শতক পূর্ণ করার পথে খেলেন ৯টি চার ও ৬টি ছয়ের মার। শতক পূর্ণ করে ইনিংসকে বেশি দূর নিয়ে যেতে ব্যর্থ হন তিনি। শতকের পর আরও ২ চারের সাহায্যে মাত্র ১৫ রান যোগ করে জাইমুল হাসানের শিকারে পরিণত হয়ে সাজঘরে ফেরেন তিনি।

১০ বলের ব্যবধানে অলক কাপালি ও সেট ব্যাটসম্যান মিজানুরের উইকেট নিয়ে কিছুটা চাপ সৃষ্টির আভাস দিলেও ইয়াসির আলি ও নাজমুস সাদাতের ব্যাটিং দৃঢ়তায় শেষ পর্যন্ত তাও সফল হয়নি ব্রাদার্সের বোলারদের পক্ষে। ৪৯ বল খেলে ২ চার ও ২ ছক্কায় ৪৫ রানের ইনিংস সাজিয়ে দলকে জিতিয়ে মাঠ ছাড়েন ইয়াসির আলি। আর ৩ চারে ৩৯ বল মোকাবেলায় ৩২ রানে অপরাজিত থাকেন নাজমুস সাদাত।

কলাবাগানের বোলারদের মধ্যে ৮ ওভার বল করে ৪৭ রান দিয়ে জাইমুল হাসান নেন তিনটি উইকেট। আর সমান ওভার বল করে ৪৯ রানের বিনিময়ে মুক্তার আলী নেন একটি উইকেট।

এর আগে সাভারে অবস্থিত বিকেএসপির চার নম্বর মাঠে টস জিতে আগে ব্যাট করতে আসা কলাবাগান দলীয় ৫ রানে ফয়সাল আহমেদের উইকেট হারালে ক্রিজে আসেন আশরাফুল। আগের দুই ম্যাচে শতকের দেখা পাওয়া এ ব্যাটসম্যান আজও খেলতে থাকেন দলের হাল ধরে।

দ্বিতীয় উইকেট জুটিতে ওয়ালিয়ুল করিমকে সাথে নিয়ে স্কোরবোর্ডে যোগ করেন ১১৬ রানের জুটি। ৬ চার ও ৫ ছয়ে অর্ধশতক পূর্ণ করে ব্যক্তিগত ৭৯ রানে সোহরাওয়ার্দী শুভর ঘূর্ণি জাদুতে ধরাশায়ী হয়ে শাখাওয়াত হোসেনের হাতে ক্যাচ দিলে শেষ হয় করিমের ইনিংস। একই সাথে বিচ্ছিন্ন হয় আশরাফুল-করিম জুটির। সাথীকে হারালেও অবিচল থাকেন আশরাফুল।

শুরুতে ধীরগতিতে খেলা ডানহাতি এ ব্যাটসম্যান অর্ধশতকের দেখা পান ১০২ বল মোকাবেলায়। অর্ধশতকের পথে খেলেন ৪টি চারের মার। কচ্ছপ গতির অর্ধশতকের পর খোলস ছেড়ে বের হয়ে আসেন তিনি। পরবর্তী ৩৫ বল মোকাবেলায় করেন আরও ৫০ রান। মোট ১৯৩ মিনিট ক্রিজে থেকে ১৩৭ বল খেলে ১০ চারে ১০২ রানের ইনিংস খেলে শেষ পর্যন্ত ক্রিজে অপরাজিত থাকেন তিনি। আর এতেই বাংলাদেশের ক্রিকেট ইতিহাসে প্রথম ব্যাটসম্যান হিসেবে লিস্ট ‘এ’ ক্রিকেটে টানা তিন শতকের বিরল রেকর্ড গড়লেন এক সময়কার জাতীয় দলের নির্ভরতার প্রতীক আশরাফুল।

তার সাথে মুনিম শাহরিয়ারের ৪১ বলের ৩৫ ও ফারুখ হোসেনের ২২ বলের দ্রুতগতির ২৮ রানে চড়ে নির্ধারিত ৫০ ওভার শেষে ৩ উইকেটে ২৫২ রানের লড়াকু পুঁজি পায় কলাবাগান।

ব্রাদার্স ইউনিয়নের বোলারদের মধ্যে সোহরাওয়ার্দী শুভ ১০ ওভার বল করে ২ মেডেনসহ ৫৩ রান দিয়ে নেন ২ উইকেট। তাছাড়া ৭ ওভার বল করে ১ মেডেনসহ ৪৬ রান দিয়ে খালেদ আহমেদ পান ১টি উইকেট।

সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড-
কলাবাগান ৫০ ওভারে ২৫২/৩
(আশরাফুল ১০২, ওয়ালিউল ৭৯; সোহরাওয়ার্দী ৫৩/২)
ব্রাদার্স ৪৪.৩ ওভারে ২৫৩
( মিজানুর ১১৫, ইয়াসির ৪৫*, নাজমুস ৩২*; জাইমুল ৪৭/৩)
ফলাফলঃ
৩৩ বল হাতে রেখে ব্রাদার্স ইউনিয়ন ৬ উইকেটে জয়ী।


আরও পড়ুনঃ ওয়ার্নারকে মুস্তাফিজের আবেগি বার্তা