Scores

মুরালির ব্যাটিং তান্ডবে বাংলাদেশের স্বপ্নভঙ্গ , সাকিবের আগমনী বার্তা

বিশ্বব্যাপী করোনাভাইরাসের কারণে সকল ধরনের ক্রিকেট আপাতত বন্ধ। আইসিসিও তাদের বিভিন্ন বাছাইপর্বের খেলা আগামী জুন মাস পর্যন্ত বন্ধ রেখেছে। লম্বা সময় ক্রিকেট ভক্তদের জন্য থাকছেনা কোনো ক্রিকেট। এই বিশাল ক্রিকেট বিরতিতে চলুন দেখে নেওয়া যাক বাংলাদেশের খেলোয়াড়দের পুরনো কিছু সাফল্য ও স্মরনীয় ম্যাচের কথা।

 

Also Read - বিশ্বকাপ ফাইনালের জার্সি নিলামে তুললেন বাটলার


মুরালির ব্যাটিং তান্ডবে বাংলাদেশের স্বপ্নভঙ্গ , সাকিবের আগমনী বার্তা

বাংলাদেশ দল নিজেদের প্রথম টুর্নামেন্ট জিতে গত বছর আয়ারল্যান্ডে ফাইনালে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে হারিয়ে। তবে এই শিরোপা জয় হয়তো ১০ বছর আগে ২০০৯ সালেই সম্ভব হতো যদি অকল্পনীয় কিছু না ঘটাতেন একজন পুরোদস্তুর বোলার।

২০০৯ সালের জিম্বাবুয়ে – শ্রীলঙ্কা বাংলাদেশ ত্রিদেশীয় সিরিজে শিরোপা জিতার মতোই পারফরম্যান্স করেছিলো বাংলাদেশ দল, তবে শেষের দিকে এসে কিছু ভুলে তা হাতছাড়া হয়ে যায়। ত্রিদেশীয় সিরিজের রাউন্ড রবিনের শুরুটা ভালো হয়নি বাংলাদেশ দলের। জিম্বাবুয়ের কাছে ওয়ানডে হেরে বেশ সমালোচনায় পড়তে হয় বাংলাদেশ দলকে।

জিম্বাবুয়ের ২০৫ রানের জবাবে ১৬৭ রানেই অলআউট হয়ে যায় বাংলাদেশ দল। দলের হয়ে তরুন অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসান নেন বল হাতে ৩ উইকেট, ব্যাট হাতেও সাকিব করেন দলীয় সর্বোচ্চ ৫২ রান। জিম্বাবুয়ে পরের ম্যাচে শ্রীলঙ্কার কাছে হারে। রাউন্ড রবিনের শেষ ম্যাচে বাংলাদেশের সামনে তখন শ্রীলঙ্কা। ঘরের মাঠে ত্রিদেশীয় সিরিজের ফাইনাল খেলতে হলে শ্রীলঙ্কাকে হারালেই হতো না বোনাস পয়েন্ট সহ জেতার ব্যাপার ছিলো বাংলাদেশের সামনে।

তার আগে শ্রীলঙ্কার সাথে আগে মাত্র একবার জেতার অভিজ্ঞতা ছিলো। আগের ৮ দেখায় ওয়ানডেতে শুধু হারই ছিলো। তাই চ্যালেঞ্জটা বেশ বড় ছিলো। রুবেল হোসেনের বোলিং তান্ডবে শ্রীলঙ্কা মাত্র ১৪৭ রানেই অলআউট হয়ে যায়। বাংলাদেশের কাছে তখন সুযোগ ছিলো বোনাস পয়েন্ট নিয়ে জিতে ফাইনাল নিশ্চিত করার। কিন্তু যখন জয় পাওয়াই কঠিন ছিলো, সেখানে বোনাস পয়েন্ট হয়তো কিছুটা বাড়তি স্বপ্নই ভেবেছিলেন কেউ কেউ বাংলাদেশের ইনিংসের আগে।

তবে সাকিব আল হাসানের মনে নিশ্চয়ই অন্য কিছু চলছিলো। তার ৬৯ বলে ৯২ রানের ব্যাটিং তান্ডবে বাংলাদেশ শুধু জয়ই লাভ করেনা, বোনাস পয়েন্ট সহই ম্যাচটি জিতে নেয়। সেদিন সাকিব শ্রীলঙ্কার মুরালিধরন ও মেন্ডিস সহ তারকা বোলিং লাইন আপের বিপক্ষে যেই দাপট নিয়ে ব্যাটিং করেন তা তখনকার ক্রিকেট বিশ্বে আলোচনার ঝড় তুলে। সেইদিনের ক্রিকইনফোর ধারাভাষ্যে একজন ভারতীয় ভক্ত জানান “এমন ইনিংস যদি সরাসরি দেখার সুযোগ হতো তাহলে নিজেকে সৌভাগ্যবান মনে করতাম।”

সাকিব ম্যাচ সেরা হন ও বাংলাদেশ ফাইনালে চলে যায় শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে শিরোপার লড়াইয়ের জন্য।

দুইদিন পর ফাইনালে বাংলাদেশ আগে ব্যাট করে সুবিধা করতে পারেনি। ১৫২ রানেই অলআউট হয়ে যায়। শ্রীলঙ্কাও ব্যাট করতে নেমে ব্যাটিং

মুরালির ব্যাটিং তান্ডবে বাংলাদেশের স্বপ্নভঙ্গ , সাকিবের আগমনী বার্তা
জয়ের পর উদযাপনে মুরালি, ছবি : ক্রিকইনফো।

বিপর্যয়ে পড়ে। নাজমুল ও মাশরাফির বোলিং তান্ডবে ৬ রানে ৫ উইকেট হারায় শ্রীলঙ্কা। তখন মনে হচ্ছিলো শিরোপা বাংলাদেশ জিতেই যাবে। তবে সাঙ্গাকারা হাল ছাড়েননি। দলকে ১১৪ পর্যন্ত টেনে নিয়ে যান।

তখন শ্রীলঙ্কার স্কোর ছিলো ৬ উইকেটে ১১৪। এমন সময় বোলিংয়ে আসেন সাকিব ও একই ওভারে সাঙ্গাকারার উইকেটসহ দুই উইকেট তুলে ম্যাচ বাংলাদেশের দিকে ঘুরিয়ে দেন। জয় যখন সময়ের ব্যাপার মনে হচ্ছিলো তখনই বাধা হয়ে দাঁড়ান মুরালি। বোলিংয়ের জন্য বিখ্যাত মুরালি ব্যাট হাতেও সেদিন তান্ডব চালান। তার ১৬ বলে ৩৩ রানের ইনিংসে শ্রীলঙ্কা ২ উইকেটে ম্যাচ ও টুর্নামেন্ট জিতে নেয়। স্বপ্ন ভাঙ্গে বাংলাদেশ ও সাকিবের। পুরো টুর্নামেন্টে ব্যাট ও বল দুই জায়গাতেই অসাধারণ পারফরম্যান্সের ফলে সাকিব আল হাসান হন টুর্নামেন্ট সেরা।

 

বাংলাদেশের সেই ফাইনাল হার এখনো অনেক ভক্তকে বেশ পীড়া দেয়। টুর্নামেন্টটি জিততে না পারলেও বাংলাদেশ ক্রিকেটের ইতিহাসে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মোড় সেই আসরটি। প্রতিটি খেলোয়াড়ের জীবনেই কিছু টার্নিং পয়েন্ট থাকে যেখান থেকে পিছনে ফিরে তাকানো হয়না। সাকিবের জন্যও এই আসরটি ঠিক তেমনই একটি জায়গা ছিলো। তার আগেও ভালো খেললেও এতটা অসাধারণ ও ধারাবাহিক ভালো খেলেননি খুব বেশি। তবে এই আসরে তখনকার বিশ্বকাপ রানার্সআপদের বিপক্ষে যেই দাপুটে পারফরম্যান্স দেখান তাতে যেনো ঘোষণা দিয়েই দেন এখন সময় শুধু তারই।

নিউজটি বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন

Related Articles

বিশ্বকাপ নিয়ে দেশে ফিরল আকবর-ইমনরা

চূড়ান্ত হলো টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশের ৩ প্রতিপক্ষ

‘ওসব’ নিয়ে এখন আর চিন্তা করেন না ইমরুল!

বড় দলগুলোর বিপক্ষে খেলার সুযোগ চান রশিদ

ওয়ানডে থেকে ১০ মাসের সাময়িক অবসরে বাংলাদেশ দল!