মুশফিক নয়, জিম্বাবুয়ে টেস্টে বাংলাদেশের অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহই

0
816

যদিও সাম্প্রতিক এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ ব্যাপারে আগে থেকেই ইঙ্গিত দিয়ে রেখেছিলেন, বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন এবার নিশ্চিত করে জানালেন যে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে আসন্ন দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজে মাহমুদউল্লাহ রিয়াদই পাবেন বাংলাদেশ দলকে অধিনায়কত্বের দায়িত্ব।

টেস্টের অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহই
সাকিবের অনুপস্থিতিতে অহিনায়কত্বের দায়িত্ব মাহমুদউল্লাহর কাঁধেই।

জাতীয় দৈনিক ‘দ্য ডেইলি স্টার’-কে পাপন জানিয়েছেন, শেষ পর্যন্ত তিনি অধিনায়ক হিসেবে মাহমুদউল্লাহকে বেছে নিলেও, দ্বিতীয় অপশন হিসেবে মুশফিকুর রহিমের নামও তার হাতে ছিল। বস্তুতঃ বিসিবির ক্রিকেট অপারেশন্স কমিটি তার কাছে মুশফিকের নামই প্রস্তাব করেছিল। কিন্তু বিভিন্ন বিষয় বিবেচনায় এনে তিনি সিদ্ধান্ত নেন যে বাংলাদেশ টেস্ট দলে নিয়মিত অধিনায়ক সাকিব আল হাসানের অনুপস্থিতিতে অধিনায়কত্বের জায়গাটি নেবেন তার ডেপুটি মাহমুদউল্লাহই।

“আমার হাতে দুইটি অপশন ছিল — মাহমুদউল্লাহ আর মুশফিক। মুশফিক অধিনায়ক হলেও মন্দ হতো না। তারা (ক্রিকেট অপারেশন্স কমিটি) আমার কাছে মুশফিকের নাম নিয়েই এসেছিল। কিন্তু তখন আমি তাদের বলেছি, ‘আপনারা যদি মুশফিককে অধিনায়ক বানাতে চান, তবে তাকেই অধিনায়ক হিসেবে রেখে দিতে হবে’,” বলেন পাপন।

Advertisment

“‘আপনারা জিম্বাবুয়ে সিরিজের জন্য মুশফিককে অধিনায়কত্ব দেবেন, কিন্তু এরপর আবার সাকিব যদি ওয়েস্ট ইন্ডিজ সিরিজের সময় ফিরে আসে আর বলে যে সে খেলবে, তখন কী হবে? আমরা কি তখন মুশফিককে বলব যে তোমাকে আবার অধিনায়কত্ব ছাড়তে হবে? সেটা মুশফিকের জন্য অপমান হবে, এবং আমি চাইনি কিছুতেই যেন সেটি হোক।

“আমাকে যদি বলেন মুশফিককে নিয়মিত অধিনায়ক বানাতে, তবে আমি সেটি নিয়ে বোর্ড মিটিংয়ে কথা বলব। সেটি একদমই ভিন্ন একটি ইস্যু, এবং আমি নিশ্চিত যে তেমনটি হলে আমি সম্মতিই দিতাম। কিন্তু আপনারা একজনকে দায়িত্বে বসাবেন আবার কিছুদিন পর তার থেকে দায়িত্ব কেড়ে নেবেন, মুশফিকের সাথে সেটি হতে পারে না,” তিনি যোগ করেন।

এদিকে মুশফিককে ফের বাংলাদেশ দলের অধিনায়কের পদে বসানোর ব্যাপারে কথা বলতে গিয়ে এক পর্যায়ে পাপন এ কথাও জানান যে, বিসিবির দায়িত্বে থাকাকালীন তার জন্য সবচেয়ে কঠিন সিদ্ধান্ত ছিল মুশফিকের অধিনায়কত্ব ছিনিয়ে নেয়া। পাপনের ভাষ্যমতে, এটি নাকি তার জীবনেরই সবচেয়ে কঠিন সিদ্ধান্তগুলোর একটি ছিল!

“এটি ছিল আমার জীবনের সবচেয়ে কঠিন সিদ্ধান্তগুলোর একটি। দ্বিতীয়টি ছিল সাকিবকে সাজা দেয়া। কিন্তু এটির চেয়ে কঠিন আর কিছুই ছিল না, কারণ মুশফিকই ছিল বাংলাদেশের জন্য সফলতম অধিনায়ক।”