মুস্তাফিজকে শুধুমাত্র সীমিত ওভারেই খেলানোর পরামর্শ আকিব জাভেদের

আকিব জাভেদের বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের বোলিং কোচ হবার কথা থাকলেও শেষ পর্যন্ত তা হয় নি। তবে বিসিবির হাইপারফরম্যান্স (এইচপি) ইউনিটের বোলিং পরামর্শক হিসেবে ৭ দিনের জন্য ঢাকায় এসেছিলেন এই পাকিস্তানী অভিজ্ঞ পেসার। এই সময়টাতে এইচপি দলের পাশাপাশি আকিব জাভেদ কাজ করেছেন বাংলাদেশের জাতীয় দলের পেসারদের সাথেও। গত শুক্রবার দেশে ফিরে গেছেন আকিব জাভেদ। তবে যাওয়ার আগে মিরপুর একাডেমি ভবনে দেশের শীর্ষস্থানীয় দৈনিক প্রথম আলোকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে অনেক বিষয় নিয়েই কথা বলেন তিনি।


ঢাকায় পা দিয়েই আকিব জাভেদ বলেছিলেন, বাংলাদেশের পেসারদের মধ্যে সবচেয়ে বড় তারকা মাশরাফি। অন্যদিকে রুবেল-তাসকিন-মুস্তাফিজদের উঠতি পেসারদের আদর্শ মনে করেন আকিব জাভেদ। সেই বিষয়টি আরো পরিষ্কার করে বলেন, “আমি একটা ধারণার কথা বলেছিলাম। ধারণাটা হচ্ছে, যদি নিজেদের কোনো নায়ক থাকে, তবে তারাই পারে তরুণদের অনুপ্রাণিত করতে। আমি কথাটা বাংলাদেশের সাম্প্রতিক উন্নতি নিয়ে বলছিলাম। মাশরাফি ১৩ (প্রায় ১৫) বছর ধরে খেলছে। তবে গত কিছুদিনে বাংলাদেশের পেস অগ্রগতিটা হচ্ছে রুবেল-তাসকিন-মুস্তাফিজকে ঘিরে। এরা তিনজন বাংলাদেশের বোলিং আক্রমণকে সামনে এগিয়ে নিচ্ছে। মাশরাফি তার ভূমিকা পালন করছে। সে হয়তো এই তিন বোলারের আদর্শ। তবে রুবেল-তাসকিন-মুস্তাফিজ অনুপ্রাণিত করতে পারে লাখো তরুণকে।”

Advertisment

ঢাকা পৌঁছালেন আকিব জাভেদ

মূলত এইচপি ইউনিটের পেসারদের সাথে কাজ করার জন্যই এসেছিলেন আকিব জাভেদ। ৭ দিনের কার্যক্রম শেষে এইচপি ইউনিটের পেসারদের মূল্যায়ন করে তিনি বলেন, “ফাস্ট বোলারদের উচ্চতা ও শক্তি দুটিই দরকার। এটাতে আরও উন্নতি প্রয়োজন। বলছি না উচ্চতা ৬ ফুট ৬ ইঞ্চি থাকতে হবে। আদর্শ উচ্চতা হচ্ছে ৫ ফুট ১১ ইঞ্চি বা ৬ ফুট। এই উচ্চতার বোলার বাংলাদেশে অনায়াসে পাওয়ার কথা। শুধু একটা ধারা তৈরি করতে হবে। এইচপির ১৭ জন ও জাতীয় দলের আটজন পেসারের সঙ্গে কাজ করেছি। লম্বা ছেলেটা…ইবাদত (হোসেন চৌধুরী) ঘণ্টায় ১৩৮-১৩৯ কিলোমিটার গতিতে বোলিং করতে পারে। তাকে যদি ঠিকভাবে সহায়তা করা যায়, আরও ভালোভাবে গড়ে তোলা যায় বাংলাদেশের বিরাট সম্পদ হতে পারে ও।”


একদিনের ক্রিকেট ও টি-টোয়েন্টিতে গত দুই বছর বেশ সাফল্য দেখিয়েছে টিম টাইগার। তার মূলে ছিল শক্তিশালী বোলিং আক্রমণ। সেটা আরো শক্তিশালী করার জন্য কোন কোন দিকে নজর দেয়ার দরকার? এমন প্রশ্নে আকিব জাভেদ বলেন, “যে তিন বোলারের কথা বলেছি, এরা আসলে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে বাংলাদেশের বোলিংকে অন্য পর্যায়ে নিয়ে গেছে। তবে বাংলাদেশ ভালো মানের লেগ স্পিনারের অভাব আছে। যদি ওই তিন ফাস্ট বোলারের সঙ্গে একজন ভালো লেগ স্পিনার যোগ হয়, বাংলাদেশ যেকোনো দলকেই হারাতে পারবে।”

2015_10_22_11_59_24_evxdeehckv0py26nrg9qyu9t82jv6r_original.jpg

বাংলাদেশের পেস বোলিং মানেই এখন মুস্তাফিজুর রহমান। গত ১ বছরে হঠাত করেই বাংলাদেশের বোলিং এর দুর্বল জায়গাটিই এখন সবচেয়ে শক্তিশালী, শুধুমাত্র মুস্তাফিজুর রহমানের জন্য। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে একের পর এক চমক দেখিয়েছেন কাটার মাস্টার। ভবিষ্যতেও মুস্তাফিজকে সাফল্যের এই ধারাবাহিকতা ধরে রাখার পরামর্শ বা মন্ত্র কি হতে পারে? এমন প্রশ্নে আকিব জাভেদ বলেন, “আমার মনে হয়, তার ফিটনেসের দিকে নজর দেওয়া উচিত। এখনকার ক্রিকেটে চাহিদার সঙ্গে তাল মেলানো খুব কঠিন। দ্রুত টি-টোয়েন্টি থেকে ওয়ানডে, ওয়ানডে থেকে টেস্টে মানিয়ে নিতে হয়। আমার মতে, আপাতত সীমিত ওভারের ক্রিকেটেই খেলুক মুস্তাফিজ। নিয়মিত স্ট্রেংথ ও কন্ডিশনিং ক্যাম্প করতে হবে। এমন প্রতিভা দ্রুত হারিয়ে ফেললে বিরাট ক্ষতি হবে বাংলাদেশের ক্রিকেটের। আমার তো আশা, সে অন্তত ১০-১২ বছর খেলবে।”

এদিকে কাউন্টিতে প্রথমবারের মতো খেলতে গিয়ে দ্বিতীয় ম্যাচ খেলেই ইঞ্জুরীতে পড়েছেন মুস্তাফিজ, করতে হবে অস্ত্রপাচার। পুরোপুরি সুস্থ হতে ৫-৬ মাস সময় লাগতে পারে। যার ফলে বাংলাদেশের হয়ে ইংল্যান্ড সিরিজে মাঠে নামা হচ্ছে না কাটার মাস্টারের।