ভারতের বিস্ময়বালক বৈভব সূর্যবংশী। মাত্র ১৫ বছর বয়সেই দুনিয়া কাঁপানো সব ইনিংসে তাক লাগিয়ে দিয়েছেন তিনি। আইপিএল মাতিয়ে ভারতের টি-টোয়েন্টি স্কোয়াডেও জায়গা করে নিয়েছেন। পেয়ে গেছেন আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেকের স্বাদও। [গুগল নিউজে বিডিক্রিকটাইম ফলো করুন]
ভারতের পেস বোলিং কোচ মরনে মরকেল। ঘরের মাঠে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে পাঁচ ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজে মাঠে নামছে ভারত। সিরিজের স্কোয়াডে রাখা হয়েছে বৈভব সূর্যবংশীকে। পেস ইউনিটে আছেন মায়াঙ্ক যাদব, প্রিন্স যাদবদের মত তরুণরাও। প্রথম ম্যাচে মাঠে নামার আগে তরুণদের প্রতি বার্তা দিয়েছেন ভারতের পেস বোলিং কোচ মরনে মরকেল। ম্যাচ খেলার সুযোগ না পেলেও তরুণদের শেখার ব্যাপারে জোর দিয়েছেন মরকেল।
সংবাদ সম্মেলনে মরকেল জানিয়েছেন, ‘বৈভবের প্রতিভা সম্পর্কে আমরা সবাই জানি। আমার মনে হয়, এই পরিবেশে কোয়ালিটি প্লেয়ারদের সাথে সে যত বেশি সময় কাটাবে এবং এই স্ট্যান্ডার্ডের অনুশীলনে যত বেশি সময় দেবে, তার ক্রিকেটের জন্য ব্যাপারটা ততই ভালো হবে। যদি সে ম্যাচ খেলার সুযোগ না-ও পায়, তারপরও সে বাসে, ডাগআউটে কিংবা হোটেলে অনেক অভিজ্ঞ খেলোয়াড়ের সঙ্গে সময় কাটাচ্ছে। আমার মনে হয়, এ ধরনের ড্রেসিংরুম শেয়ার করা, প্লেয়ারদের সঙ্গে কথা বলা এবং তারা কীভাবে নিজেদের প্রসেস অনুসরণ করে, কীভাবে ইনিংসের পরিকল্পনা সাজায়, সেসব সরাসরি দেখা তার জন্য খুব গুরুত্বপূর্ণ হবে।’
সূর্যবংশীর সাথে নিজের কাজের অভিজ্ঞতাও জানিয়েছেন মরকেল। পেস বোলিং কোচ জানিয়েছেন, ‘আমি সবসময় তাকে (বৈভবকে) চ্যালেঞ্জ দিই। আমি বলি, ‘অনুশীলনে দেখো, এই খেলোয়াড়টি কী করছে। উইকেট যখন কঠিন থাকে, তখন প্রথম ১৫ বল সে কীভাবে মোকাবিলা করে? সে কী ধরনের গেম প্ল্যান তৈরি করেছে?’’
ম্যাচ খেলার সুযোগ সবসময় পাওয়া যাবে না। তবুও তরুণদের শেখার ব্যাপারে হাল না ছাড়ার আহ্বান জানিয়েছেন মরকেল। ভারতের স্কোয়াডে জায়গা পাওয়াই বেশ কঠিন। সেখানে ম্যাচ খেলার জন্যও সুযোগের অপেক্ষা করতে হয়। নিয়মিত ক্রিকেটারদের কেউ চোটে পড়লে সুযোগ মেলে তরুণদের। সব বিবেচনা করেই বাস্তবতা মেনেই সামনে আগানোর পরামর্শ দিলেন মরকেল।
পেস বোলিং কোচের ভাষ্য, ‘যেকোনো তরুণ খেলোয়াড়ের ক্ষেত্রে, সে ম্যাচ খেলার সুযোগ পাক কিংবা সেই সুযোগ কিছুটা কম পাক - তাদের শেখানো, তাদের বেড়ে উঠতে সাহায্য করা এবং প্রশ্ন করতে উৎসাহিত করা আমাদের দায়িত্ব। আমি সব সময় বাসে তাকে (বৈভবকে) জিজ্ঞেস করি, ‘আজ তুমি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কী শিখেছ? ওই খেলোয়াড়ের ব্যাটিং সম্পর্কে তোমার কী মনে হয়?’ এতে সে বিষয়গুলো নিয়ে ভাবতে শেখে। আমার মনে হয়, পরেরবার সে নেটে এলে সে যে বিষয়গুলো লক্ষ্য করবে, সেগুলো নিজের খেলায়ও কাজে লাগাতে পারবে।’
এশিয়ান গেমসে অভিষেক শর্মা, বৈভব সূর্যবংশীদের ওপেনিংয়ে খেলানো হয়েছে। উইন্ডিজ সিরিজেও তারা থাকবেন কিনা সেই নিশ্চয়তা অবশ্য নেই। সাথে প্রধান কোচ গৌতম গম্ভীরও চাইবেন ঘুরিয়েফিরিয়ে বাকিদের সুযোগ করে দিতে। বিষয়টি খোলাসা করলে মরকেল জানিয়েছেন, ‘এশিয়ান গেমসে তাদের জন্য (অভিষেক ও সূর্যবংশীকে ওপেনিংয়ে নামানো সেরা) কম্বিনেশন ছিল। এই সিরিজে আমাদের জন্য কোন কম্বিনেশন সবচেয়ে ভালো হবে, সেগুলো আমরা ঠিক করব। তারা কি মানিয়ে নেবে, ছড়িয়ে যাবে নাকি আমরা কোনো পরিবর্তন আনব, সত্যি বলতে এখনই এর উত্তর দিতে পারছি না। প্রথম একাদশের ক্ষেত্রে, আমাদের অনেক ক্রিকেটার এইমাত্র এশিয়ান গেমস থেকে ফিরেছে। তাই সবাই জেট ল্যাগ ও ভ্রমণের ধকল কাটিয়ে কেমন অনুভব করছে, সেসব আগে দেখব। এরপর পরিকল্পনা করব।’
২০২৪ এবং ২০২৬ দুই টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপেই চ্যাম্পিয়ন দলের নাম ভারত। পরের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ২০২৮ সালে। সেই বিশ্বকাপও জেতার ছক কষছে টিম ইন্ডিয়া। সেসব বুঝেই পরিকল্পনা করে আগানোর ব্যাপারে জোর দিলেন পেস বোলিং কোচ।
মরনে মরকেল জানিয়েছেন, ‘আমি মোটামুটি নিশ্চিত, (প্রধান কোচ) গৌতম (গম্ভীর) খেলোয়াড়দের ঘুরিয়ে-ফিরিয়ে খেলানোর চেষ্টা করবে। তবে পরবর্তী বিশ্বকাপে ভারতকে জেতানোর জন্য কোন একাদশ সবচেয়ে কার্যকর হবে, সেসব ঠিক করার দায়িত্ব নির্বাচক, কোচ ও অধিনায়কের। সেখানেই সব সময় আমাদের মূল লক্ষ্য।’
দুই তরুণ পেসার প্রিন্স যাদব এবং মায়াঙ্ক যাদবকে নিয়েও দারুণ উচ্ছ্বসিত মরনে মরকেল। পেস বোলিং কোচ হওয়ায় এই দুজনের সাথে বেশ ভালোভাবেই কাজের সুযোগ হয়েছে মরকেলের। সূর্যবংশীর মত না হলেও এই দুই যাদবও আইপিএলে আলো ছড়িয়েছেন। গতির ঝড়ে আইপিএলে রাজত্ব করেছেন মায়াঙ্ক। সেই সুবাদেই খুলেছে জাতীয় দলের দরজা।
প্রিন্স কিছুটা নিয়মিত হলেও মায়াঙ্ক নানা কারণে জাতীয় দলে নিয়মিত হতে পারেননি। পারবেন কেমন করে? একের পর এক চোটে যে বারবার আটকে গেছেন মায়াঙ্ক যাদব। তবুও গতিশীল মায়াঙ্কে আস্থা রেখেছে ভারত। বর্তমানে স্কোয়াডে আছেন। উইন্ডিজ সিরিজে ম্যাচ খেলার সম্ভাবনাও জোরালো। দুই তরুণ পেসারের কাছ থেকে নিজের প্রত্যাশার কথাও জানিয়ে দিলেন মরনে মরকেল।
পেস বোলিং কোচ বলেছেন, ‘তারা (প্রিন্স যাদব এবং মায়াঙ্ক যাদব) দুজনই তরুণ এবং এখনও নিজেদের দক্ষতা পরিপক্ব করে তুলছে। মাঝে মাঝে সমস্যা হলো, তাদের অল্প সময়ের জন্য পাওয়া যায়, এরপর তারা আবার চলে যায়। যদিও আমরা যোগাযোগ রাখি এবং নিজেরা সংযুক্ত থাকি, তবু বোলিং কোচ হিসেবে তাদের সঙ্গে ব্যক্তিগতভাবে কাজের ধারাবাহিকতা বজায় রাখা কঠিন। তারা ফিরে এলে আমরা কয়েকটি বিষয় নিয়ে কাজ করি। সামনের দিনে এই জায়গাটা আরও ভালো করার চেষ্টা করতে পারি। এবার সুযোগ পেয়ে তারা কেমন করে, সেসব দেখার জন্য আমি রোমাঞ্চিত।’
পেস বোলিং কোচ মরনে মরকেল। মায়াঙ্কের গতির ব্যাপারে মরকেল বলেছেন, ‘মায়াঙ্কের কথা বললে সবার আগে যে বিষয়টি মনে আসে, তা হলো তার গতি, তার এক্স-ফ্যাক্টর। একজন তরুণ খেলোয়াড়ের জন্য ওই পরিস্থিতি পার করে আবার ভারতের হয়ে খেলার সুযোগ পাওয়া তার মানসিকতারই প্রমাণ। আমার কাছে প্রিন্স কয়েক বছর আগে আইপিএলে একজন নেট বোলার ছিল, এখন সে ভারতের হয়ে খেলছে। দিন শেষে আপনি এমন খেলোয়াড়ই স্কোয়াডে বা ভারতের দলে চান, যাদের মানসিকতা দুর্দান্ত এবং যারা কঠোর পরিশ্রম করে যেতে আগ্রহী। কারণ এই খেলোয়াড়েরাই দলের জন্য পারফর্ম করবে।’
পেস বোলিং কোচের মতে, ‘আমরা অনুশীলন ও নেটে ওই খেলোয়াড়দের কঠোর পরিশ্রম করে যেতে বলব। আপনি কখনও জানেন না, নির্দিষ্ট কিছু কন্ডিশনে বল হয়তো একটু বেশি গ্রিপ করবে এবং তখন কোনো একজন বোলার বেশি কার্যকর হয়ে উঠতে পারে। তখন তারা চার ওভারের বোলার হয়ে উঠতে পারে। তাই সব সময় খেলোয়াড়দের প্রস্তুত রাখা গুরুত্বপূর্ণ। এরপর কন্ডিশন, উইকেটের আচরণ এবং বাউন্ডারির আকার বুঝে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। এখানে আমাদের সুবিধা হলো, মাঠটা বেশ বড়। তাই এই বোলাররা আলোচনায় আরও বেশি করে আসবে।’
ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ ২-১ ব্যবধানে জিতেছে ভারত। সেই সিরিজে হয়েছে রানের বন্যা। টি-টোয়েন্টি সিরিজ তো আরও মারমুখি খেলার মঞ্চ। এখানেও রানবন্যা হওয়ার সম্ভাবনা আছে। সেক্ষেত্রে দুই পেসারসহ পুরো বোলিং ইউনিটকেই পড়তে হতে পারে চ্যালেঞ্জের মুখে।
৬ অক্টোবর লক্ষ্ণৌতে পাঁচ ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজের প্রথম ম্যাচে মুখোমুখি হচ্ছে ভারত এবং ওয়েস্ট ইন্ডিজ। খেলা শুরু হবে বাংলাদেশ সময় সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায়।