Score

রোমাঞ্চকর জয়ে সেমিফাইনালের স্বপ্ন বাঁচিয়ে রাখলো বাংলাদেশ

চলমান ইমার্জিং এশিয়া কাপ ২০১৮ আসরের গ্রুপ ‘বি’ এর ম্যাচে হংকংয়ের বিপক্ষে ২৮ রানের ব্যবধানে জয় লাভে প্রতিযোগিতার সেমিফাইনালে যাওয়ার সম্ভাবনা বাঁচিয়ে রাখলো বাংলাদেশ ইমার্জিং ক্রিকেট দল।

 

রোমাঞ্চকর জয়ে সেমিফাইনালের আশা টিকিয়ে রাখলো বাংলাদেশ
ছবি: এসিসি

মোসাদ্দেকের শতকে বাংলাদেশের ২৮৬ রানের চ্যালেঞ্জিং সংগ্রহের পর নিজাকাত খানের ব্যাটে দারুণ শুরু পায় হংকং। ৯ চার ও ৩ ছক্কায় তার ৯৫ বলের ৯২ রানের ইনিংসে প্রতিপক্ষকে শক্ত জবাব দেওয়ার ভিত পায় হংকং। নাঈম হাসানের বলে তার আউটের পর সে পথে দলকে এগিয়ে নিতে থাকেন বাবর হায়াত।

ব্যাট হাতে সতীর্থদের কাছ থেকে প্রত্যাশা অনুযায়ী সমর্থন না পেলেও ম্যাচজুড়ে একাই লড়ে যান তিনি। শুধু লড়ার জন্যই না ম্যাচ জয়ের জন্য নিজের সর্বোচ্চটা ঢেলে দেন তিনি। তবে শেষ পর্যন্ত তাকে থামতে হয় ম্যাচের ৪৯তম ওভারের তিন নম্বর বলে। খালেদ আহমেদের বলে নাজমুল হোসেন শান্ত’র হাতে ক্যাচ দিলে শতক বঞ্চিত হন তিনি। আউট হওয়ার আগে ৫ চার আর ৩ ছক্কায় ৯৫ বলে ৯১ রান করেন তিনি। তার বিদায়ের সাথে সাথে লড়াইয়ের শেষ সম্বল হারায় দলটি।

Also Read - শন মার্শের লজ্জার রেকর্ড

আর এতে নির্ধারিত ৫০ ওভার শেষে ৭ উইকেটের বিনিময়ে ২৫৮ রানে থামে হংকংয়ের ইনিংস। আর এর ফলে নিশ্চিত হয় বাংলাদেশের ২৮ রানের জয়টি।

রোমাঞ্চকর জয়ে সেমিফাইনালের আশা টিকিয়ে রাখলো বাংলাদেশ
উইকেট শিকারের পর বাংলাদেশের ক্রিকেটারদের উদযাপন। ছবি: এসিসি

টাইগার বোলারদের মধ্যে মোসাদ্দেক হোসেন ও খালেদ আহমেদ দুটি করে উইকেট লাভ করেন। তাছাড়া শরিফুল ও নাঈম হাসান প্রত্যেকেই একটি করে উইকেট লাভ করেন।

এর আগে মোসাদ্দেক হোসেনের ৮ চার ও ৩ ছক্কায় ৮৬ বলের তাণ্ডব ছড়ানো ১০০ রানের ইনিংসের সাথে জাকির হাসান, ইয়াসির আলিদের ব্যাটিং দৃঢ়তায় ২৮৬ রানের পুঁজি পায় বাংলাদেশ।

করাচির সাউদেন্ড মাঠে টস জিতে প্রথমে ব্যাট করার সিদ্ধান্তের পর দলীয় ৯ রানে মিজানুর রহমানের উইকেট হারানোর পর টাইগারদের দ্বিতীয় উইকেট জুটিতে খেলায় ফেরান জাকির হাসান ও নাজমুল হোসেন শান্ত। দুজনে মিলে গড়েন ৮০ রানের জুটি।

আত্মবিশ্বাসীরূপে শান্তকে এদিন দেখা গেলেও বড় সংগ্রহ গড়তে আবারও ব্যর্থ হন তিনি। ৫২ বল মোকাবেলায় ২ চারে ৩৬ রান করে এহসান খানের বলে সরাসরি বোল্ড হলে আবারও ভেস্তে যায় তার বড় ইনিংসের সম্ভাবনা। তার বিদায়ে ৮৯ রানে দ্বিতীয় উইকেটের পতন ঘটে বাংলাদেশের।

সতীর্থদের ফিরে যাওয়ার পর অর্ধশতকের খুব কাছে গিয়ে সাজঘরে ফিরেছেন ওপেনার জাকির হাসানও। ১ রানের আক্ষেপ নিয়ে ব্যক্তিগত ৪৯ রানে তানভীর আহমেদের বলে আউট হন তিনি। ফলে ৯৯ রানে তিন উইকেট হারিয়ে কিছুটা চাপে পড়ে বাংলাদেশ।

দলের এমন অবস্থায় চতুর্থ উইকেট জুটিতে হাল ধরেন মোসাদ্দেক হোসেন ও ইয়াসির আলি চৌধুরী। প্রাথমিক বিপর্যয় কাটিয়ে দলকে বড় সংগ্রহের স্বপ্ন দেখাতে শুরু করেন এ দুজন। মোসাদ্দেকের সাথে পাল্লা দিয়ে ইয়াসির রান তুলতে থাকলেও তার ছন্দপতন ঘটে ইনিংসের ৩৮তম ওভারে।

ব্যাটিংয়ের সময় মোসাদ্দেক।
ব্যাটিংয়ে মোসাদ্দেক হোসেন। ফাইল ছবি

যার খেসারত হিসেবে নিজের উইকেট বিসর্জন দিতে হয় তাকে। অর্ধশতক থেকে মাত্র ৫ রান দূরে থেকে বিদায় নেন তিনি। দলীয় ১৮৯ রানে তিনি ফিরে গেলে ভাঙ্গে মোসাদ্দেক ও তার মধ্যকার ৯০ রানের মূল্যবান জুটিটি। আউটের আগে ৪ চার ও ১ ছক্কার সাহায্যে নিজের নামে পাশে ৪৩ বল থেকে ৪৫ রান করেন তিনি।

ইয়াসিরের বিদায়ের পর অর্ধশতক পূর্ণ করে আরও আক্রমণাত্বক রূপ ধারণ করেন মোসাদ্দেক। আগ্রাসী ব্যাট চালিয়ে দ্রুত গতিতে স্কোরবোর্ডে রান তুলতে থাকেন তিনি।

ইয়াসিরের আউট হওয়ার পর ক্রিজে আসা আফিফ ২৫ বলে ২ চারের মারে ২০ রান আউট হলে মোসাদ্দেকের সাথে ক্রিজে যোগ দেন দলনেতা নুরুল হাসান সোহান। এরপর অধিনায়কের সাথে আরও আগ্রাসী ব্যাটিংয়ে মেতে ৮ চার ও ৩ ছক্কায় ৮৫ বল মোকাবেলায় শতক পূর্ণ করে আউট হন মোসাদ্দেক।

তার বিদায়ের পর শেষ দিকে সোহানের মাঝারি মানের ব্যাটিং তান্ডবে নির্ধারিত ৫০ ওভার শেষে ৮ উইকেট হারিয়ে স্কোরবোর্ডে ২৮৬ রান যোগ করতে সক্ষম হয় বাংলাদেশ।

সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড-
বাংলাদেশ: ২৮৬/৮ (৫০ ওভার)
মিজানুর ৮(১৩), জাকির ৪৯(৬৩), শান্ত ৩৬(৫২), মোসাদ্দেক ১০০(৮৬) , ইয়াসির ৪৫(৪৩), আফিফ ২০(২৫), সোহান ১৭(১৩), শরিফুল ৫(৪), নাঈম ০(০)*, তানভির ২(১)*; আইজাজ খান ৬২/৩।

হংকং: ২৫৮/৭ (৫০ ওভার)
নিজাকাত ৯২(৯৫), বাবর ৯১(৯৫); মোসাদ্দেক ৪-০-২৩-২, খালেদ ১০-০-৬৯-২।


আরও পড়ুনঃ আয়ারল্যান্ডে ত্রিদেশীয় সিরিজ খেলবে বাংলাদেশ, সূচি প্রকাশ

Related Articles

মেন্ডিসের কাছে স্বপ্নভঙ্গ বাংলাদেশের

বাংলাদেশের পঞ্চম সাফল্য, ম্যাচে নাটকীয় মোড়

নাঈমের পর আফিফের আঘাত, বিপাকে শ্রীলঙ্কা

শুরুতেই লঙ্কান শিবিরে বাংলাদেশের আঘাত

মিজানুর-ইয়াসিরের অর্ধশতকে বাংলাদেশের লড়াকু সংগ্রহ