শ্বাসরুদ্ধকর ম্যাচে সুপার ওভারে জিতল কুমিল্লা

0
721

চলতি বিপিএলে রান বন্যার ম্যাচে ১৪০ রানকে লো-স্কোরিং ম্যাচ বলা যায়। এমন ম্যাচেও দেখল সুপার ওভারের রোমাঞ্চ। যেখানে সুপার ওভারে সিলেট থান্ডারের করা ৭ রান টপকে জয়ের স্বাদ পায় কুমিল্লা ওয়ারিয়র্স।

সুপার ওভারে জিতল কুমিল্লা।

Advertisment

সুপার ওভারে আগে ব্যাট করে আন্দ্রে ফ্লেচার ও রাদারফোর্ডের ব্যাটে মোটে ৮ রানের টার্গেট দাঁড় করে সিলেট। এ রানের জবাব দিতে কুমিল্লার হয়ে ব্যাট করতে নামেন সৌম্য সরকার ও ডেভিড উইজ। তবে ০ রান করে সৌম্য আউট হয়ে গেলে খানিক শঙ্কায় পড়ে কুমিল্লা। পরে শঙ্কা কাটিয়ে নাভিদ-উল হকের করা সুপার ওভার থেকে পঞ্চম বলের সময় জয়ের বন্দরে পৌঁছে যায় কুমিল্লা ওয়ারিয়র্স। এই ম্যাচ হারের ফলে আনুষ্ঠানিকভাবে বিপিএলে বিদায় ঘণ্টা বাজল সিলেট থান্ডারের।

এদিন মূল ম্যাচে আগে ব্যাট করে সিলেটের সামনে ১৪১ রানের লক্ষ্য দাঁড় করে কুমিল্লা। এর জবাব দিতে নেমে ভূতুরে শুরু হয় সিলেটের। ইনিংসের প্রথম ওভারে ০ রানে থাকা জনসন চার্লসকে আউট করেন স্পিনার সানজামুল ইসলাম। দ্বিতীয় ওভারে আঘাত হানেন মুজিব উর রহমান। ২ রানে ফেরান আরেক ওপেনার রনি তালুকদারকে।

এরপর দৃশ্যপটে আসেন পেসার আল-আমিন হোসেন। ইনিংসের সপ্তম ওভারে প্রথমবারের মত বল করতে এসে মোহাম্মদ মিঠুন (১৩) ও রাদারফোর্ডের (১৫) উইকেট তুলে নেন তিনি। পরের ওভারেই ১ রান করে ডেভিড ইউজের শিকারে পরিণত হন আন্দ্রে ফ্লেচার। ফলে মাত্র ৩৩ রান তুলতেই ৫ উইকেট হারিয়ে বসে সিলেট।

তবে শেষ চেষ্টা করেছিলেন সোহাগ গাজী। নাজমুল হোসেন মিলনকে নিয়ে ষষ্ঠ উইকেটে গড়েন ৭০ রানের পার্টনারশিপ। এরই এক ফাঁকে তুলে নেন টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে নিজের প্রথম ফিফটি। ২৯ বলে পাওয়া অর্ধশতকটি ডানহাতি এই ব্যাটসম্যান সাজিয়েছেন ৩টি চার ও ৪টি ছয়ের সাহায্যে।

পরে মিলন ২৩ বলে ১৩ ও গাজী ৫২ রান করে আউট হলে শেষ ওভারে সিলেটের জয়ের জন্য প্রয়োজন হয় ১৫ রান। শেষ বলে ৩ রান। সেসময় আল-আমিন ওয়াইড ডেলিভারিতে ১ রান দিলে শেষ বলে দুই রান নিতে যেয়ে রান আউট হন মনির হোসেন। ফলে সমান ১৪০ রানে থামে সিলেট থান্ডারের ইনিংস। কুমিল্লার হয়ে মুজির উর রহমান ৪ ও পেসার আল-আমিন হোসেন নেন ২টি উইকেট।

এর আগে টসে হেরে কুমিল্লার হয়ে ইনিংস শুরু করতে আসেন দুই ব্যাটসম্যান উপুল থারাঙ্গা ও স্ট্যিয়ান ভ্যান জিল। যেখানে প্রথম চার ওভারে ৪২ রান যোগ করেন দুজন। ১০ রানে থাকা ভ্যান জিলকে আউট করে ওপেনিং পার্টনারশিপ ভাঙেন পেসার এবাদত হোসেন। তিন নম্বরে ব্যাট করতে এসে সুবিধা করতে পারেননি সৌম্য, ফিরেছেন ৫ রান করে।

এরপর ইয়াসির আলী (৫) ও ডেভিড উইজ (১০) দ্রুত আউট হয়ে গেলে ১১০ রান তুলতে ৫ উইকেট হারিয়ে বসে কুমিল্লা। সুবিধা করতে পারেননি সাব্বির রহমানও। অনেকটা টেস্টের ধরণে ব্যাটিং করে ২৫ বলে ১৭ রানের ইনিংস খেলে যান সাব্বির। যেখানে ছিল না কোনো বাউন্ডারির মার! শেষদিকে মাহিদুল ইসলাম অঙ্কনের ১৪ বলে ১৯ রানের কল্যাণে নির্ধারিত ২০ ওভার শেষে ৯ উইকেট হারিয়ে ১৪০ রানের সংগ্রহ দাঁড় করে কুমিল্লা ওয়ারিয়র্স।

সংক্ষিপ্ত স্কোর:

কুমিল্লা ওয়ারিয়র্স: ১৪০/৯ (২০ ওভার)
থারাঙ্গা ৪৫, অঙ্কন ১৯*, সাব্বির ১৭; রাদারফোর্ড ৩/১৯, এবাদত ৩/৩৩, গাজী ২/২৩।

সিলেট থান্ডার: ১৪০/১০ (২০ ওভার)
গাজি ৫২, নাভিন ১৫, মনির ১৬; মুজিব ৪/১২, আল-আমিন ২/২৯।

ফল: সুপার ওভারে কুমিল্লা বিজয়ী।