সাকিব-রিয়াদের ঘটনায় আম্পায়ারিং ছেড়ে দিচ্ছেন মনিরুজ্জামান

আম্পায়ারদের সাথে ক্রিকেটারদের ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণে সম্মানহানির শঙ্কায় আম্পায়ারিং ছেড়ে দিচ্ছেন বলে দাবি করেছেন বাংলাদেশি আম্পায়ার মুনিরুজ্জামান। সম্প্রতি ঢাকা প্রিমিয়ার লিগে (ডিপিএল) দুই সিনিয়র ক্রিকেটার সাকিব আল হাসান ও মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের আম্পায়ারদের প্রতি মেজাজ হারানোর ঘটনাকে নিজের সিদ্ধান্তের পেছনে দায়ী করেছেন তিনি। 

সাকিব-রিয়াদের ঘটনায় আম্পায়ারিং ছেড়ে দিলেন মনিরুজ্জামান

Advertisment

মুনিরুজ্জামান ইতোমধ্যে তার আম্পায়ারিং ছাড়ার সিদ্ধান্ত জানিয়েছেন বিসিবির আম্পায়ার্স বিভাগকে। ক্রিকেট বিষয়ক সংবাদমাধ্যম ক্রিকবাজকে তিনি বলেন, ‘অনেক হয়েছে, আমি আর আম্পায়ারিং করতে চাই না। আমার আত্মসম্মানবোধ আছে এবং তা নিয়েই বাঁচতে চাই।’

বিসিবির এই আম্পায়ার সাবেক একজন ক্রিকেটার। সদ্য সমাপ্ত ডিপিএলে তিনি ১৩টি ম্যাচে অফিসিয়াল হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। যদিও তিনি বিসিবির বেতনভুক্ত আম্পায়ার নন। ম্যাচ পরিচালনার জন্য তিনি শুধু আম্পায়ারদের জন্য বরাদ্দ ম্যাচ ফি পেতেন।

তার সাথে কোনো ক্রিকেটারের মেজাজ হারানোর ঘটনা না ঘটলেও ‘সম্মান রক্ষার্থে’ আম্পায়ারিং ছেড়ে দেওয়ার ঘোষণায় ক্রিকেট অঙ্গনে মিশ্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে।

মুনিরুজ্জামান বলেন, ‘আম্পায়ারদের ভুল হতেই পারে। কিন্তু তাদের সাথে যদি এরকম আচরণ করা হয় তাহলে আম্পায়ারিং করার কোনো মানে হয় না, আমি তো শুধু টাকার জন্য আম্পায়ারিং করছি না। সাকিবের ম্যাচে আমি ছিলাম না। কিন্তু সে যা করেছে তা হজম করা আমার জন্য কষ্টের। রিয়াদের ম্যাচে আমি টিভি আম্পায়ার ছিলাম এবং কাছ থেকে দেখেছি। এটি আমাকে বাকরুদ্ধ করে ফেলে এবং আমি আম্পায়ারিং ছাড়ার সিদ্ধান্ত নেই।’

সাকিব-রিয়াদের ঘটনায় আম্পায়ারিং ছেড়ে দিলেন মনিরুজ্জামান

গত ১১ জুন ডিপিএলের সপ্তম রাউন্ডের খেলায় মুখোমুখি হয় আবাহনী লিমিটেড ও মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাব। এলবিডব্লিউর আবেদনে সাড়া না দেওয়ায় ম্যাচ চলাকালে আম্পায়ারের ওপর মেজাজ হারিয়ে দুইবার স্ট্যাম্প ভেঙে ফেলেন সাকিব। এই ঘটনায় তাকে ৩ ম্যাচ নিষিদ্ধ করার পাশাপাশি ৫ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়।

এরপর গত ২৩ জুন ডিপিএলের হাই ভোল্টেজ ম্যাচে গাজী গ্রুপ ক্রিকেটার্স মুখোমুখি হয়েছিল প্রাইম ব্যাংক ক্রিকেট ক্লাবের। রুদ্ধশ্বাস ম্যাচে আম্পায়ার গা।জী গ্রুপের আবেদনে সাড়া দেননি। এতে ক্ষেপে যান দলটির অধিনায়ক রিয়াদ। মিড অন থেকে পিচের কাছে ছুটে গিয়ে জোরালো আবেদনেও সাড়া না পাওয়ায় মাটিতে বসে পড়েন। এরপর আম্পায়ারের সিদ্ধান্তে অসন্তোষ প্রকাশ করে শিশুসুলভ আচরণ করতে থাকেন- ঘাসে দুই হাত আছড়ে মারার পর মাটিতে গড়াগড়ি খাচ্ছিলেন।

রিয়াদের এই আচরণ ভালো ঠেকেনি আম্পায়ারদের কাছে। আচরণবিধির ২.৮ নম্বর ধারা ভঙ্গ করায় রিয়াদকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

মুনিরুজ্জামান অবশ্য সাকিবের ঘটনার সেই ম্যাচে দায়িত্বে ছিলেন না। রিয়াদ যে ম্যাচে আচরণবিধি ভেঙে শাস্তি পেয়েছিলেন, সেই ম্যাচে মুনিরুজ্জামান ছিলেন টিভি আম্পায়ারের ভূমিকায়।