সুজনকে কৃতিত্ব দিলেন মুনিম; উন্নত অনুশীলনের সুযোগের প্রত্যাশা

0
1534

২০১৬-১৭ সালে গাজী গ্রুপ ক্রিকেটার্সের সাথে ঢাকা প্রিমিয়ার লিগে পথচলা শুরু মুনিম শাহরিয়ারের। চলতি আসরের আগে গাজী গ্রুপ, কলাবাগান ও আবাহনীতে খেলা এই ব্যাটসম্যান এবারের সাফল্যের জন্যে সৃষ্টিকর্তার পরেই সবচেয়ে বেশি কৃতিত্ব দিয়েছেন খালেদ মাহমুদ সুজনকে। নিজের পরিকল্পনা নিয়েও কথা বলেছেন বিডিক্রিকটাইমের সাথে।

সুজনকে কৃতিত্ব দিলেন মুনিম; উন্নত অনুশীলনের সুযোগের প্রত্যাশা
মুনিম শাহরিয়ার

ময়মনসিংহ থেকে উঠে আসা এই ব্যাটসম্যান গত কয়েক বছর ধরে ডিপিএলের নিয়মিত মুখ হলেও এভাবে শিরোনামে আসতে পারেননি। আগের আসরগুলো মিলিয়ে ডিপিএলে খেলেছিলেন ১৩টি ম্যাচ। যেখানে সর্বোচ্চ ৮৮ রানের ইনিংস আছে তার। সবমিলিয়ে প্রায় ৮০ স্ট্রাইকরেটে করেছেন ২৪৩ রান।

Advertisment

ডিপিএলের চলতি আসর দিয়েই টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে আসর মুনিমের। খেলছেন আসরের অন্যতম সেরা ও দেশের ঐতিহ্যবাহী ক্লাব আবাহনী লিমিটেডে। সুযোগ পেয়েই কাজেও লাগিয়েছেন দারুণভাবে। ৮ ইনিংসে করেছেন ২৬৫ রান। স্ট্রাইক রেট ১৪৮.৮৭। খেলেছেন প্রাইম ব্যাংকের বিপক্ষে ৫০ বলে ৯০ রান ও শেখ জামালের বিপক্ষে ৪০ বলে ৭৪ রানের ইনিংস।

তিনি বলেন, ‘গাজী গ্রুপ, কলাবাগান ও আবাহনীতে (দুই আসর) ডিপিএল খেলা হলো। আগে ধারাবাহিক পারফর্ম করতে পারিনি। একটা ভালো হতো আবার বাকিগুলো খুব বেশি ভালো হতো না। এবার টি-টোয়েন্টি খেলা আর আবাহনীর মতো দলে খেলছি, সবাই জাতীয় দলের খেলোয়াড়; স্বাভাবিকভাবেই ভালো লাগছে। আল্লাহর প্রতিও অশেষ শুকরিয়া যে অনেকদিন পরে একটা ইতিবাচক আবহ এসেছে, আবার নতুন করে সব শুরুর চিন্তা করছি। আল্লাহ তা’লা যা দিবেন তাই আলহামদুলিল্লাহ, খুব বেশি ভাবছি না।’

সুজনকে কৃতিত্ব দিলেন মুনিম; উন্নত অনুশীলনের সুযোগের প্রত্যাশা

আবাহনীতে সুযোগ পেয়ে তার খেলার উন্নতির কথাও অকপটে স্বীকার করেছেন, ‘শেখার তো কোনো শেষ নেই। আবাহনীতে খেলা মানেই নতুন কিছু শেখা। ক্রিকেট নিয়ে নতুন নতুন আলাপ আলোচনা করা, তাদের অভিজ্ঞতা জানা, নিজের কিছু জানার থাকলে সেটা বলা ও তাদের কাছে থেকে জিনিসগুলো যখন জানা যায়, তখন সেটা খুবই ভালো একটা প্রভাব ফেলে।’

এই ফর্মের জন্য মুনিম সবচেয়ে বেশি কৃতিত্ব দিয়েছেন আবাহনীর কোচ খালেদ মাহমুদ সুজনকে। তিনি বলেন,

‘খালেদ মাহমুদ সুজন স্যারের কথা বলতে গেলে, আল্লাহর পরে উনি না থাকলে হয়ত আমি আজ এই অবস্থানে থাকতাম না। উনি আমার সবকিছু বলতে গেলে। উনি আমাকে বলেছেন, নিজের স্বাধীনতা নিয়ে খেলতে। এইজন্যই আল্লাহর রহমতে আমি ভালো করতে পেরেছি। এখনো আরও অনেক দূর বাকি।’

এছাড়া মুশফিকুর রহিম ও মোসাদ্দেক হোসেন সৈকতের কথাও বিশেষভাবে বলেছেন এই ডানহাতি ব্যাটসম্যান,

‘এরপরে আমাদের অধিনায়ক ও অন্যতম সেরা ব্যাটসম্যান মুশফিকুর রহিম ভাই। উনি তো অবশ্যই অনেক বেশি সমর্থন দেন। মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত- যার কথা না বললেই না, প্রত্যেকটি ব্যাপারেই উনি সবসময়ই আমাকে সমর্থন করেছেন। মুশফিক ভাই, সৈকত ভাই, শান্ত, সাইফউদ্দিন আরও যারা যারা আছেন, সবার কাছে থেকেই শিখছি এবং যথেষ্ট সমর্থনও পাচ্ছি।’

‘এই দারুণ ফর্মের জন্য কৃতিত্ব দিতে হলে আমি মহান আল্লাহকেই দিবো। আর তারপরে যিনি কৃতিত্ব পাবেন আমার শ্রদ্ধেয় কোচ সুজন স্যার; আমাদের একাডেমির কোচরাও আছেন এবং সৈকত ভাই, মুশফিক ভাইকে।’

আবাহনীতে সুযোগ পাওয়াকে কেন বিশেষভাবে দেখছেন সেটাও জানিয়েছেন বিডিক্রিকটাইমকে,

‘আমার ব্যাটিংয়ে সাধারণ কোথাও খেলা হলে সেভাবে কোনো প্রতিযোগী থাকে না। কিন্তু উনাদের সাথে খেললে নিজের অবস্থানটাও বোঝা যায়। ওদের ব্যাটিং দেখে নিজের ব্যাটিং নিয়েও চিন্তা করা যায়। সবমিলিয়ে পজিটিভ একটা প্রভাব পড়েছে ব্যাটিংয়ে- এটা অবশ্যই বলতে হয়।’

সব ক্রিকেটারের মতোই মুনিমের চোখও জাতীয় দলে। তবে তার আগে ঘরোয়া ক্রিকেট ও হাইপারফরম্যান্সের মতো দলগুলোতে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে চান। অনুশীলনের জন্য আরও উন্নত সুযোগ পেলে নিজেকে ঝালিয়ে নেওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন তিনি। মুনিমের ভাষায়,

‘সব ক্রিকেটারেরই লক্ষ্য থাকে জাতীয় দল। আমারও আলাদা কোনো ভাবনা নেই। যেহেতু মোটামুটি ভালো হচ্ছে, সামনে আরও সুযোগ পেলে ভালো করতে চেষ্টা করব। জাতীয় দলে খেলব কি খেলব না এটা নির্বাচকদের ওপর নির্ভর করছে। আমি আপাতত নিজেকে আরও ঝালিয়ে নিতে চাই। যদি আরও ভালো অনুশীলনের সুযোগ পাই, হাইপারফরম্যান্স ও ঘরোয়া টুর্নামেন্টগুলো যদি খেলতে পারি তাহলে নিজেকে গুছিয়ে নিয়ে জাতীয় দলের জন্য চিন্তা করব। আপাতত জাতীয় দল নিয়ে ভাবছি না, নিজের খেলাটাকে উপভোগ করছি। আলহামদুলিল্লাহ, দেখা যাক ভবিষ্যতে কী হয়।’