ক্রিকেট জগতের আরেক কিংবদন্তি শচীন টেন্ডুলকার বলেছেন, ‘স্যার গ্যারি যে আর নেই, এটা মেনে নেওয়া সত্যিই খুব কঠিন। বছরের পর বছর আমাদের কাটানো স্মৃতিগুলো মনে করছি, ২০০৩ সালের বিশ্বকাপে টুর্নামেন্ট সেরা খেলোয়াড়ের ট্রফিটা তার হাত থেকে নেওয়া থেকে শুরু করে, শততম সেঞ্চুরির মাইলফলকে পৌঁছানোর পর তার দেওয়া আন্তরিক অভিনন্দন পর্যন্ত। তিনি সবসময়ই অসাধারণ অমায়িক ছিলেন। কয়েক বছর আগে লন্ডনে আমাদের দেখা হওয়ার সেই দিনগুলোতে বারবার ফিরে যাাচ্ছে আমার মন। আমরা শুধু বসে খেলা নিয়ে গল্প করছিলাম। এই মুহূর্তে এটা ভেবে আমার খুব কষ্ট হচ্ছে যে, সেটাই ছিল আমাদের শেষ দেখা। তিনি সত্যিই ছিলেন ‘একমাত্র ও অদ্বিতীয়’। তার অভাব ভীষণভাবে অনুভব করব। শান্তিতে থাকুন, স্যার গ্যারি।’
ভারতের ব্যাটিং গ্রেট বিরাট কোহলিও চুপ থাকেননি। কোহলি লিখেছেন, ‘ক্রিকেট তার সর্বকালের সেরাদের একজনকে হারিয়েছে। শান্তিতে থাকুন, স্যার গ্যারফিল্ড সোবার্স, আপনার লিগ্যাসি প্রজন্মের পর প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করে যাবে।’
বর্তমান সময়ের তুমুল জনপ্রিয় ধারাভাষ্যকার ইয়ান বিশপ লিখেছেন, ‘অন্য সবার মতই স্যার গ্যারফিল্ড সেন্ট আবার্ন সোবার্সের প্রয়াণে আমার হৃদয়ও ভারী হয়ে আছে। তিনি আর আমাদের মাঝে নেই, ব্যাপারটা দুঃখের। তবে তিনি আমাদের মাঝে এসেছিলেন, ব্যাপারটা আনন্দের। তাকে ঘিরে আমাদের যে স্মৃতিগুলো আছে, সেগুলো এই খেলার জন্য দীর্ঘদিন উপকার বয়ে আনবে। শান্তিতে থাকুন।’
ভারতীয় দিলীপ ভেংসারকার সোবার্সের খেলা দেখেননি। তবে গল্প শুনেছেন। সেখান থেকেই সোবার্সের খেলায় মুগ্ধতা। দিলীপের মতে, ‘সত্যি বলতে, আমি সামনাসামনি তার খেলা কখনও। কিন্তু তার গল্প অনেক শুনেছি। অবশ্য তার ক্লিপ এবং তার ব্যাটিংয়ের যে চলচ্চিত্রগুলো রেকর্ড করা হয়েছে, সেগুলোও দেখেছি। আমি বলব, সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ অলরাউন্ডার তিনি।’
ইংলিশ গ্রেট জিওফ বয়কট জানিয়েছেন, ‘তিনি একজন মহতারকা এবং খুবই সহজ-সরল স্বভাবের একজন মানুষ ছিলেন। আমি তাকে কখনও অভিযোগ করতে বা অন্য ক্রিকেটারদের নিয়ে খারাপ কথা বলতে শুনিনি। বড় মনের মানুষ ছিলেন, নিজের সময় ও পরামর্শ দিয়ে উদার ছিলেন। যারা তাকে তার সেরা সময়ে দেখেছেন, তাদের কাছে এই মহান ব্যাটার, সর্বকালের সেরা অলরাউন্ডার, একজন আইকন, ‘জীবনে একবারই আসে’ এমন একজন ব্যতিক্রমী ক্রিকেটারের চমৎকার স্মৃতি থাকবে।’
ভারতীয় অফস্পিনার হরভজন সিংয়ের মতে, ‘ক্রিকেট বিশ্ব তার অন্যতম উজ্জ্বল রত্নকে হারালো। স্যার গ্যারি সোবার্স ছিলেন কিংবদন্তির চেয়েও বেশি কিছু, তিনি ছিলেন গ্রেটনেসের জীবন্ত প্রতিমূর্তি, যিনি তার অসাধারণ প্রতিভা ও বিনয় দিয়ে প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করেছেন। স্যার, বিশ্বজুড়ে ক্রিকেটপ্রেমীদের হৃদয়ে আপনার কীর্তি চিরকাল বেঁচে থাকবে। শান্তিতে থাকুন, স্যার গ্যারি সোবার্স। আপনাকে কখনও ভোলা যাবে না।’
আরেক ভারতীয় ভিভিএস লক্ষ্মণ জানিয়েছেন, ‘স্যার গারফিল্ড সোবার্সের প্রয়াণে গভীরভাবে শোকাহত। তিনি ছিলেন এই খেলার সত্যিকারের এক কিংবদন্তী, যার অসাধারণ দক্ষতা, আভিজাত্য এবং ক্রীড়াসুলভ মনোভাব বিশ্বজুড়ে প্রজন্মের পর প্রজন্ম ক্রিকেটারকে অনুপ্রাণিত করেছে। ক্রিকেটের সমৃদ্ধ ইতিহাসে তার কীর্তি চিরকাল থেকে যাবে। তার পরিবার, প্রিয়জন এবং সমগ্র ক্রিকেট সমাজের প্রতি আন্তরিক সমবেদনা।’
স্বীকৃত ক্রিকেটে ওভারে ছয় ছক্কা হাঁকানো প্রথম ক্রিকেটার ছিলেন স্যার গ্যারি সোবার্স। তার কাউন্টি ক্রিকেটের কীর্তির ৩৯ বছর পর ২০০৭ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে এক ওভারে ছয় ছক্কা হাঁকান যুবরাজ সিং। সোবার্সের প্রয়াণে যুবরাজ জানিয়েছেন, ‘এক ওভারে ছয়টি ছক্কা হাঁকানো প্রথম ব্যক্তি হিসেবে স্যার গারফিল্ড সোবার্স বিশ্বকে দেখিয়েছিলেন যে, শ্রেষ্ঠত্বের কোনো সীমা নেই। ক্রিকেট বিশ্বে তিনি কী ছিলেন, তা ভাষায় প্রকাশ করা কঠিন। মাঠে এমন সব কাজ করেছেন, যা বেশিরভাগ লোকে কেবল স্বপ্নই দেখতে পারে। তিনি সেসব করেছেন সাবলীলতা, নম্রতা ও আনন্দের সঙ্গে।’
শ্রীলঙ্কার বিশ্বকাপ জয়ের নায়ক অর্জুনা রানাতুঙ্গা বলেছেন, ‘ক্রিকেটে অনেকেই উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলেছেন, কিন্তু স্যার গ্যারির কীর্তির সমকক্ষ কেউ নেই। তিনি নিঃসন্দেহে সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ ক্রিকেটার ছিলেন। আমার যৌবনে স্যার গ্যারির সঙ্গে সাক্ষাৎ হওয়াটা আমার জন্য অত্যন্ত সৌভাগ্যের ছিল। কারণ তার অবিরাম পথনির্দেশনা না থাকলে, আমি হয়তো আজকের এই ক্রিকেটার হতে পারতাম না। ১০ বছর আগে তার ৮০তম জন্মদিনের অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকার সৌভাগ্য আমার হয়েছিল। এই মাসের শেষে তার ৯০ বছর বয়স হতো। স্যার গারফিল্ড ছিলেন এক অনন্যসাধারণ নেতা। তিনি অনেকের কাছেই মেন্টর ছিলেন, কিন্তু আমার কাছে তিনি ছিলেন একজন প্রিয় বন্ধু। যখন অন্য কেউ আমার মধ্যে সম্ভাবনা দেখেনি, তখন স্যার গ্যারিই তা দেখেছিলেন। আমার অর্জনগুলো তার কীর্তিরই প্রতিফলন।’
ভারতের হয়ে ১৯৮৩ বিশ্বকাপ জেতা অলরাউন্ডার মদন লাল জানিয়েছেন, ‘এমন অলরাউন্ডার আর কখনও জন্মায়নি, ভবিষ্যতেও আর কেউ আসবে না। বোলার, ব্যাটসম্যান এবং ফিল্ডার হিসেবে, একজন সত্যিকারের অলরাউন্ডার কেমন হওয়া উচিত, গ্যারি সোবার্স সেই মানদণ্ড স্থাপন করেছেন। খেলার প্রতিটি বিভাগেই তিনি ছিলেন অনন্য। একারণেই তাকে বিশ্বের সর্বশ্রেষ্ঠ অলরাউন্ডার হিসেবে গণ্য করা হতো। কিংবদন্তির চেয়েও বেশি কিছু ছিলেন স্যার গ্যারি - তিনি ছিলেন শ্রেষ্ঠত্বের এক জীবন্ত সংজ্ঞা, যিনি তার অসাধারণ প্রতিভা এবং বিনয় দিয়ে প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করেছেন। স্যার, বিশ্বজুড়ে ক্রিকেটপ্রেমীদের হৃদয়ে আপনার কীর্তি চিরকাল বেঁচে থাকবে।’
সোবার্সের সাথে ভালো যোগাযোগ ছিল ভারতীয় সুনীল গাভাস্কারের। ১৯৭১ সালে সোবার্সের দল ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষেই অভিষেক সিরিজে ৭৭৪ রানের অবিস্মরণীয় এক কীর্তি গড়েছিলেন গাভাস্কার। সোবার্সের বিদায়ে গাভাস্কার জানিয়েছেন, ‘ক্রিকেট খেলাটির সবচেয়ে দুঃখের দিন সম্ভবত এটি। এই পৃথিবীতে বিচরণ করা সেরা ক্রিকেটারটি আমাদের ছেড়ে চলে গেছেন। ক্রিকেটার স্যার গ্যারি সোবার্সের শ্রেষ্ঠত্ব কোনো ভাষায় পুরোপুরি প্রকাশ করা সম্ভব নয় এবং ছেলেবেলায় কেউ প্রথমবার ব্যাট বা বল হাতে তুলে নেওয়ার সময় যা যা স্বপ্ন দেখে, সোবার্স ছিলেন সেসবেরই মূর্ত প্রতীক।’
স্যার গ্যারফিল্ড সোবার্স, আপনাকে শ্রদ্ধা, আপনাকে ধন্যবাদ।
বাংলাদেশের ক্রিকেটসহ আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের সব ধরনের খবর সবার আগে পেতে এখানে ক্লিক করে সাবস্ক্রাইব করুন BDCricTime Videos চ্যানেলটি।