Scores

স্বপ্নের মতো শুরু, আর দুঃস্বপ্নের মতো শেষ

বিশ্বব্যাপী করোনাভাইরাসের কারণে সকল ধরনের ক্রিকেট আপাতত বন্ধ। আইসিসি তাদের বিভিন্ন বাছাইপর্বের খেলা আগামী জুন মাস পর্যন্ত বন্ধ রেখেছে। লম্বা সময় ক্রিকেট ভক্তদের জন্য থাকছেনা কোনো ক্রিকেট। এই বিরতিতে তাহলে চলুন জেনে নেওয়া যাক বাংলাদেশ ক্রিকেটের স্মরণীয় কিছু ম্যাচ ও খেলোয়াড়দের অর্জনের ব্যাপারে। সেই ধারাবাহিকতায় আজকের গল্প বড় তারকা হওয়ার সকল যোগ্যতা থাকার পরও শেষ পর্যন্ত সেই পর্যায়ে না যেতে পারা একজন ক্রিকেটারের গল্প।

 

নাফিসের শুরুটা ছিলো স্বপ্নের মতো, শেষটা ...
কেনিয়ার বিপক্ষে ম্যাচ সেরার পুরস্কার হাতে নাফীস।

 

Also Read - মোসাদ্দেকের ভাবনায় তৃতীয় লিঙ্গের মানুষ


বাংলাদেশ দলের বড় তারকা বলতে প্রথমেই উঠে আসে সাকিব আল হাসান, তামিম ইকবাল, মাশরাফি বিন মুর্তজা, মুশফিকুর রহিম ও মাহমুদউল্লাহ রিয়াদদের নাম। তবে এই নামগুলো ছাড়াও আরেকটি নাম বড় তারকা হওয়ার সকল যোগ্যতা থাকলেও শেষ পর্যন্ত সেই লেভেলে পৌঁছাতে পারেননি, এমন একজন খেলোয়াড় হচ্ছেন শাহরিয়ার নাফীস।

আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে তার অভিষেক হয় ২০০৫ সালে। সেই সময় বাংলাদেশে আশরাফুল ও আরো কয়েকজন খেলোয়াড় ছাড়া খুব বেশি তারকা ক্রিকেটার ছিলনা আন্তর্জাতিক মানের বিচারে। তবে ব্যাটসম্যান শাহরিয়ার নাফীস অল্প বয়সেই জানান দেন তার প্রতিভার। সেই সময় ওয়ানডেতে বাংলাদেশি একজন ব্যাটসম্যানের শতকের দেখা পাওয়া ও ম্যাচ জেতা বিরল কিছু পাওয়ার মতো ব্যাপার ছিলো।

নাফীস সেই সময়ে ২০০৬ সালে একাই করেন ৩ ওয়ানডে শতক। ওপেনিংয়ে নেমে দারুণ সব স্ট্রোকের প্রদর্শন করতেন তিনি। ২০০৬ সালে প্রথম বাংলাদেশি ব্যাটসম্যান হিসেবে এক বছরে ১০০০ রানের কোটা পার করেন ওয়ানডেতে। ২০০৬ সালে ২৮ ইনিংসে মোট ১০৩৩ রান করেন নাফীস ৩ শতক ও ৪ অর্ধশতকের সাহায্যে। মনে হচ্ছিল বাংলাদেশ একজন আন্তর্জাতিক মানের ধারাবাহিক ব্যাটসম্যান অবশেষে পেয়েই গেল।

বাংলাদেশের হয়ে চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতে প্রথম শতকও করেন বাঁহাতি এ ওপেনার। পরবর্তীতে ২০০৭ এ ধারাবাহিক রান না পেলেও পারফরম্যান্স সেই সময়ের বিচারে খুব একটা খারাপ ছিলনা।

শুধু ওয়ানডে নয়, টেস্টেও খারাপ খেলেননি তিনি। ফতুল্লায় অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ১৩৮ রানের ইনিংসকে এখনো বাংলাদেশের টেস্ট ইতিহাসের অন্যতম সেরা ইনিংসের মাঝে একটি হিসেবে বিবেচনা করা হয়। সেই টেস্টে তখনকার সেরা বোলর শেন ওয়ার্নের বিপক্ষেই ১০টি বাউন্ডারি হাকান নাফিস। যদিও শেষ পর্যন্ত অল্পের জন্য বাংলাদেশ টেস্টটি জিততে পারেনি। দ্বিতীয় টেস্টেও নাফীস ধারাবাহিকতা ধরে রাখেন ও খেলেন ৭৯ রানের একটি ইনিংস।

ভালো শুরুর পরও কেন ব্যর্থ হলেন নাফীস? এর অনেকগুলো কারণের একটি হয়তো লুকিয়ে রয়েছে ২০০৮ সালেই। ২০০৮ সালে আরো বাংলাদেশি খেলোয়াড়দের সাথে বিদ্রোহী লীগ আইসিএলে নাম লেখান তখনকার তারকা ব্যাটসম্যান শাহরিয়ার নাফীস। খেলোয়াড়রা সেই বিদ্রোহী লীগে খেলার জন্য অনেকে অবসরও নিয়ে নেন। দশ বছরের নিষেধাজ্ঞার শাস্তি দেওয়া হয় তখন বোর্ড থেকে।

নাফিসের শুরুটা ছিলো স্বপ্নের মতো, শেষটা ...
ফতুল্লায় অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে নাফীসের সেঞ্চুরি উদযাপন।

২ বছর পর নিজের ভুল বুঝে ফিরে আসেন তিনি। তবে তখন কি অনেক দেরি হয়ে গিয়েছিল! সেই দুই বছরে এখনকার তারকারা দলে স্থায়ী জায়গা করে নেন। একসাথে এত সিনিয়র ও তারকা খেলোয়াড় আইসিএলে চলে যাওয়ায় নতুন খেলোয়াড়রা সুযোগ পান ও দলে স্থায়ী জায়গা করে নেন। তাই পরবর্তীতে নাফীস জাতীয় দলে ফিরলেও নিজের হারানো স্থায়ী জায়গাটা ফিরে পাননি।

টেস্টে ভালো সুযোগ পেয়েছিলেন। ২০১১ সালে পাকিস্তানের বিপক্ষে ৯৭ রানের একটি ইনিংসও খেলেন। তবে ধারাবাহিকতা না থাকায় জাতীয় দলে জায়গাটা স্থায়ী করতে পারেননি। বিপিএলে এরপর নিয়মিত খেলেছেন। তবে সেখানেও সেই ২০০৬ এর নাফীসের ব্যাটের ধার দেখা যায়নি।

এখনো ঘরোয়া খেলা চালিয়ে যাচ্ছেন নাফীস। খেলার পাশাপাশি ধারাভাষ্যকারের চেয়ারেও তাকে শোনা গিয়েছে একাধিক সময়। তবে ২২ গজের নাফীসকে ভক্তরা ধারাভাষ্য কক্ষের চাইতে মাঠেই যে সফলতা পেতে আরো দেখতে চাইবে তা হয়তো বলার অপেক্ষা রাখেনা।

নিউজটি বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন

Related Articles

স্বস্তি ফিরে পেয়েছেন সৌম্য সরকার

২৪ অক্টোবর শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে মাঠে নামবে বাংলাদেশ

বাংলাদেশসহ ৪টি সিরিজ চূড়ান্ত করল নিউজিল্যান্ড

শ্রীলঙ্কা সফরে কমছে টেস্ট, যোগ হচ্ছে টি-২০!

ডিসেম্বর-জানুয়ারিতে বিপিএল আয়োজনের চেষ্টা করবে বিসিবি