Scores

হাথুরু নয়, রোডসও নয়, ক্রিকেটাররা চান অন্যরকম কোচ

বাংলাদেশের ক্রিকেটে কোচদের আগমন, অবদান আর প্রস্থান নিয়ে একটি মোটা ডাইরি লেখা সম্ভব। গর্ডন গ্রিনিজের মত কোচ সফল হয়েও সম্মান নিয়ে বিদায় নিতে পারেননি, আবার চন্ডিকা হাথুরুসিংহের মত কোচ ইচ্ছানুযায়ী কড়া হেডমাস্টার হয়েও হুট করে ছেড়ে চলে গেছেন দলকে। কিংবা স্টিভ রোডসের মত কোমল মনের কোচরা নিজ আসনে থিতু হওয়ার আগেই অবস্থান করে ফেলেছেন নড়বড়ে।

হাথুরু নয়, রোডসও নয়, ক্রিকেটাররা চান অন্যরকম কোচ
কোচ হিসেবে রাসেল ডমিঙ্গো কি পারবেন মোসাদ্দেকদের পছন্দসই হতে? ফাইল ছবি: গেটি ইমেজ

২০১৭ সালে অভিজ্ঞ হাথুরুসিংহে চলে যান। স্বাধীনচেতা কোচের বিদায়ের পর ক্রিকেটাররা পেয়েছিলেন রোডসকে। ২০১৯ বিশ্বকাপে বাংলাদেশকে নিয়ে যান সেই রোডসই। কিন্তু বিশ্বকাপ শেষ হতে না হতেই বিদায়ঘণ্টা বাজে ইংলিশ কোচের। তিনি নাকি খেলোয়াড়দের বেশিই আমোদে রাখতে চাইতেন!





Also Read - পোলার্ডের উপর ক্ষেপে হেলমেট-গ্লাভস ছুঁড়ে ফেলেছিলেন মোসাদ্দেক!


হাথুরুসিংহের মত কড়া মাস্টারও সমালোচিত হয়েছেন, রোডসের মত কোমল গুরুও ছাঁটাই হয়েছেন। বাংলাদেশ দলে তাহলে কেমন কোচ প্রয়োজন? হাথুরুসিংহে চলে যাওয়ার পর যে ধাক্কা এসেছিল, দল তা কীভাবে সামলেছে? রোডসের বিদায় কি সত্যিই সেই কারণে হয়েছিল, যে কারণকে গণমাধ্যম ফলাও করে প্রচার করেছিল?

সম্প্রতি বিডিক্রিকটাইম এর মুখোমুখি হয়ে এসব প্রশ্নের খোলামেলা উত্তর দিয়েছেন বাংলাদেশ দলের তরুণ অলরাউন্ডার ও জাতীয় দলের একমাত্র ত্রিদেশীয় ট্রফি জয়ের নায়ক মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত। তিনি মনে করেন, বাংলাদেশ দলের জন্য হাথুরুসিংহের মত কঠিন কোচ থাকাও অনুচিত, আবার কোচকে রোডসের মত এত কোমলও হওয়া যাবে না। কোচের মধ্যে সব বৈশিষ্টের মিশ্রণই চান ক্রিকেটাররা- মোসাদ্দেকের কণ্ঠে যেন ফুটে উঠল এই দাবিই।






মোসাদ্দেক বলেন, ‘কড়া হওয়ারও দরকার আছে, মমতারও দরকার আছে। কোচকে একদম কোমল হলেও হবে না, আবার একদম কড়া হলেও হবে না। যখন যেটা দরকার তখন সেটা করাই শ্রেয়। শুধু কড়াই থাকবে, সফট কর্নার থাকবে না, শুধু চিল্লাচিল্লি করবে- সেটা দলের জন্য ভালো নয়। আবার একদম কোমল মানুষ যদি হয়, যার মধ্যে কড়া ভাবই নেই, এটাও দলের জন্য ভালো হবে না।’

বাংলাদেশ দলের বর্তমান কোচ রাসেল ডমিঙ্গোকে হাথুরুসিংহের কাতারে ফেলা যাবে না। অনেকে তাকে রোডসের মত সরল-সোজা বলেও আখ্যা দিয়ে বসেন! সুযোগ পেলেই শিষ্যদের প্রতি অগাধ আস্থা জানানো ডমিঙ্গো অবশ্য এত নির্ভারও নন, তা স্পষ্ট কথায় কথায় তার উন্নতির জায়গা চিহ্নিতের মাধ্যমে। রোডসের বিদায়ে ডমিঙ্গো এসে থিতু হয়েছেন বাংলাদেশের ক্রিকেটে। রোডস যার বিদায়ে এসেছিলেন, সেই হাথুরুসিংহের ‘দল ফেলে যাওয়া’র ধাক্কা কীভাবে সামলেছিল দেশের ক্রিকেট?

মোসাদ্দেকের দাবি, পঞ্চপাণ্ডবের আগলে রাখার নৈপুণ্যে সেই ধাক্কাটাই আসেনি, ‘একটা কোচ যখন অনেকদিন একটা দলের সাথে থাকে, দলটাকে সে পুরোপুরি বুঝতে পারে। সে জানে, দলের শক্তির জায়গা কোথায়, দুর্বলতা কোথায়। দল সামনের দিকে কেমন করতে পারে, কী সমস্যার সম্মুখীন হতে পারে তা সে-ই ভালো বুঝতে পারবে। এদিক থেকে আমরা ভাগ্যবান, একটা কোচ যাওয়ার পর যে ধাক্কাটা আসে তা আমাদের এখানে আসেনি। আমাদের যে পাঁচজন সিনিয়র ক্রিকেটার, এরকম অন্যান্য দেশে নেই। এটা আমাদের বাড়তি পাওয়া। আমরা জুনিয়র ক্রিকেটাররা এজন্য অনেক ভাগ্যবান।’ 

বিশ্বকাপের পর রোডসের বিদায়বেলায় কথা উঠেছিল- বিশ্বকাপের লিগ পর্বে শেষ দুই ম্যাচের আগে বিরতি পেয়েই ক্রিকেটারদের ছুটির নোটিশ দিয়েছিলেন তিনি। বোর্ডের সাথে পরামর্শ না করে দেওয়া সেই ছুটি ছন্দপতন ঘটিয়েছিল বলেও মনে করা হয়। তবে মোসাদ্দেক মনে করেন, আদতে সেই ছুটি রোডসের অধীনে থাকা দলটির ব্যর্থতার কারণ ছিল না।

তিনি বলেন, ‘যখন ভালো ফল আসতে থাকে, তখন আপনি যা-ই করবেন তা-ই সবাই ইতিবাচকভাবে দেখবে। কোনোকিছুর উপর দায় চাপাতে চাইলে দোষের অভাব থাকবে না, শুধু ছুটি কেন! তাই ছুটি কোনো ইস্যু নয়। ম্যাচে আমাদের কিছু ভুল ছিল, যার কারণে ঘুরে দাঁড়াতে পারিনি। ছুটি সবসময় দরকার আছে। আপনি একটানা অফিস করতে পারবেন না, সপ্তাহে সপ্তাহে ছুটি লাগবে। রিফ্রেশমেন্টের জন্য বলুন বা মানসিক ক্লান্তি থেকে বের হওয়ার জন্য, একটা ছুটি থাকতেই পারে। ছুটি দরকারও ছিল, আবার দোষারোপ করতে চাইলেও বলা যেতে পারে ছুটি কেন দেওয়া হয়েছে।’

বল বাই বল লাইভ স্কোর পেতে আর নয় বিদেশি অ্যাপ। বাংলাদেশ ক্রিকেটের সাম্প্রতিক খবর এবং বল বাই বল লাইভ স্কোর আপনার মুঠোফোনে পেতে এখনি প্লে-স্টোর থেকে BDCricTime সার্চ করে ডাউনলোড করুন বাংলাদেশের নাম্বার ওয়ান ক্রিকেট অ্যাপটি। অথবা ডাউনলোড করতে ক্লিক করুন এখানে। ভালো লাগলে অবশ্যই রেটিং দিয়ে উৎসাহী করুন।

 

Related Articles

আবারো বাংলাদেশের কোচ হতে চান হাথুরুসিংহে

হাথুরুসিংহের প্রতি কৃতজ্ঞ সাইফউদ্দিন

স্মিথ-ওয়ার্নারদের দলের কোচ হলেন হাথুরুসিংহে

হাথুরুর সাথে মারামারির মত অবস্থা হয়েছিল সুজনের!

“পারফর্ম না করলে আপনার বাবাও আপনাকে দলে রাখবে না”