হারিয়ে না যাক নাঈম হাসান

মাত্র ১৭ বছর৩৫৫ দিন বয়সেই ক্রিকেট বিশ্বকে তাক লাগিয়ে দিলেন নাঈম হাসান। চট্টগ্রাম টেস্টের প্রথম ইনিংসে ৬১ রানের বিনিময়ে ৫ উইকেট শিকার করে নতুন বিশ্ব রেকর্ড গড়েছেন তিনি। টেস্ট ইতিহাসের সর্বকনিষ্ঠ বোলার হিসেবে অভিষেকে পাঁচ উইকেট নেওয়ার রেকর্ড এখন তার। অস্ট্রেলিয়ার প্যাট কামিন্সকেও ছাড়িয়ে গিয়েছেন তিনি। 
হারিয়ে না যাক নাঈম হাসান

বর্তমানে টেস্ট ক্রিকেটের দুইটি রেকর্ড বাংলাদেশের। ১৭ বছর ৬১ দিন বয়সে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ২০০১ সালে শতক হাঁকিয়ে সর্বকনিষ্ঠ টেস্ট সেঞ্চুরিয়ন হয়েছিলেন মোহাম্মদ আশরাফুল। এবার রেকর্ড গড়লেন নাঈম হাসান।

Advertisment

ব্যাটিংয়েও নাঈম হাসান পরিচয় দিয়েছেন নিজের পরিণতিবোধের। ২৫৯ রানে ৮ উইকেট হারিয়ে বিপাকে পড়েছিল দল। তখন বেশ পরিণত ব্যাটসম্যানের মতোই খেলেন নাঈম।

আগুণ ঝড়াচ্ছিলেন শ্যানন গ্যাব্রিয়েল। ওয়ারিক্যান এবং বিশুর বলও টার্ন হচ্ছিল। ৭৪ বল মোকাবেলা করেছিলেন নাঈম হাসান। এর মধ্যে অধিকাংশ বলই খেলেছেন মাঝ ব্যাটে। অনেকটা ম্যাচের ফলাফর নির্ধারক হয়ে দাঁড়ায় নবম উইকেটে তাইজুল ইসলামের সাথে তার গড়া ৬৫ রানের জুটি। তার রানের সংখ্যা ২৬। তাতে তার গুরুত্ব বোঝা যাবে না। কিন্তু বোলিং এবং জুটিতে আলোকপাত করলে দেখা যাবে তার পারফরম্যান্স দলের ম্যাচ জয়ে বড় অবদান রেখেছেন।

লেখক নাঈমকে আগে খেলতে দেখেননি। কিন্তু বাংলাদেশ বিশ্বক্রিকেট ও বাংলাদেশ ক্রিকেটের একজন অনুসারী হিসেবে বয়সভিত্তিক ও ঘরোয়া ক্রিকেটে তার পারফরম্যান্সে নজর রেখেছি। লুপ কিংবা টসড আপ ডেলিভারি, লাইন-লেন্থের ওপর নিয়ন্ত্রণ এবং সর্বোপরি তার সিমে বোলিং করা আমাকে মুগ্ধ করেছে।

এরকম টার্নিং ও অসমান বাউন্সের পিচে উইকেট পাওয়া তার জন্য সময়ের ব্যাপার ছিল। তিনি এমন এক দলে খেলছিলেন যেখানে তিনজন স্পিনার ছিলেন- সাকিব, তাইজুল ও মেহেদি। তবুও নিজের একদম প্রথম ম্যাচেই তাদের তিনজনকে ম্লান করেছেন তিনি। অষ্টম বাংলাদেশি হিসেবে শিকার করেছেন অভিষেক টেস্টে পাঁচ উইকেট। প্রথমবার এ কীর্তি গড়েছিলেন নাঈমুর রহমান দুর্জয়।

একটি টেস্টের এমন টার্নিং উইকেটে তার বোলিং দেখে তাকে মূল্যয়ন করাটা হয়তো বেশ দ্রুত হয়ে যাবে। তবে এটি তার জন্য দারুণ শুরু। তার মেন্টর সুনীল জোশিও তাকে নিয়ে আশাবাদী।

তার মধ্যে শুধু একজন ম্যাচ উইনিং স্পিন বোলার হওয়ার সম্ভাবনাই, সঠিক মেন্টরিং করা হলে কার্যকরী অলরাউন্ডারও হয়ে উঠতে পারেন তিনি। আশা করি তার সঠিক যত্ন নেওয়া হবে এবং অভিষেকে দারুণ খেলেও যারা তাদের সম্ভাবনাকে  সত্যি করতে পারেননি,তাদের মতো হারিয়ে যাবেন না।

মূল লেখা- সালেক সুফি। এটি লেখকের একান্ত ব্যক্তিগত মতামত।