বয়সভিত্তিক দলে পারফর্ম করে আলো ছড়িয়েছিলেন কাজী অনিক। তার দ্রুতগতির বল করার সামর্থ্য আলাদা করে চিনিয়েছিল তাকে। বাংলাদেশ পেস বোলিং বিভাগের ভবিষ্যৎ কাণ্ডারিও ভাবছিলেন কেউ কেউ। অথচ মাত্র ২১ বছর বয়সেই ভয়ঙ্কর এমফেটামিন ড্রাগ নিয়ে দুই বছরের জন্য নিষিদ্ধ হয়েছেন তিনি।
[caption id="attachment_28894" align="aligncenter" width="1024"]
কাজী অনিক। ফাইল ছবি[/caption]
২০১৮ সালের অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপে বাংলাদেশের যুবারা ব্যর্থ হলেও ব্যক্তিগত পারফরম্যান্সে উজ্জ্বল ছিলেন যেকজন ক্রিকেটার, তাদের একজন অনিক। সেই বছর দেশে ফিরে কক্সবাজারে জাতীয় ক্রিকেট লিগ খেলার সময় ডোপ পরীক্ষা করা হয় তার। সেখানে উতরাতে ব্যর্থ হন অনিক। ফলে বিসিবির মাদক বিরোধী আইন ৮.৩ ধারা ভঙ্গের কারণে দুই বছর নিষিদ্ধ করা হয়েছে তাকে।

কেমন ধরণের ড্রাগ ব্যবহার করেছিলেন অনিক? এই বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের এক কর্তা জানালেন,
‘অনিকের এই ব্যাপারটা আসলে আইনগত একটা বিষয়। সেজন্য আমরা এই বিষয় নিয়ে কোনো কথা বলতে চাচ্ছি না।’
পরে
বিডিক্রিকটাইমকে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক শর্তে তিনি বলেন,
‘এটাকে এমফেটামিন বলে। এটা আসলে একটা উত্তেজক ড্রাগ। আমাদের ধারণা সে পারফরম্যান্স বাড়ানোর জন্য এটা ব্যবহার করেনি। বন্ধুদের প্ররোচনায় এটা নিয়েছে। সে এটা খেয়েছে বিনোদোনমূলক ড্রাগ হিসেবে। এটা বিশ্বের বহুল ব্যবহৃত বিনোদোনমূলক ড্রাগের মধ্যে অন্যতম।’
এমফেটামিন হচ্ছে ইয়াবা তৈরির একটি উপাদান। তবে সরাসরি এই ড্রাগ সেবন করলে এটি ইয়াবার চেয়ে অনেকগুণ বেশি ক্ষতি করে। ইয়াবার চেয়ে অনেক বেশি পরিমাণ প্রতিক্রিয়া তৈরি করে মানবদেহে। এটাকে ক্রিস্টাল মেথ বা আইস'ও বলা হয়।

বোর্ডের সেই কর্তা মনে করেন স্রেফ বিনোদনের উৎস হিসেবে এই ড্রাগ ব্যবহার করতে পারেন অনিক,
‘এটা যেহেতু একটা ড্রাগ, সেহেতু দীর্ঘমেয়াদী ব্যবহারের ফলে নেশাগ্রস্ত হয়ে পড়তে পারে। যারা এই ধরনের ড্রাগ অ্যাডিকটেড, তারা আসলে খেলতে পারবে না। এই ছেলেটা নেশাগ্রস্ত না। হয়তো অবসাদ কাটাতে বা বন্ধু-বান্ধবের প্ররোচনার ফলে ব্যবহার করেছিল। সে যদি নেশাগ্রস্ত হতো তাহলে এই পর্যায়ে খেলতে পারত না।’
‘আমাদের দেশে পারফরম্যান্স বাড়ানোর জন্য নিতে গেলে একটা শিক্ষা লাগে। এটার সম্পর্কে তাকে ভালোভাবে জানতে হবে। কিন্তু এগুলো কজন জানে বলেন? সে অবসাদ কাটানোর জন্যও এটা ব্যবহার করে থাকতে পারে।’- সাথে যোগ করেন তিনি।
বড়সড় অপরাধ করেছেন অনিক। কিন্তু মোটে দু’বছরের নিষেধাজ্ঞা পেয়েছেন তিনি। তবে শাস্তির মাত্রা তুলনামূলক কমে গেছে অনিকের বয়স বিবেচনায়,
‘এই ধরনের ড্রাগ নিয়ে কেউ যদি ধরা পড়ে তাহলে শাস্তি কিন্তু চার বছরের। যেহেতু ওর বয়স কম, বয়স বিবেচনায় আর প্রথমবার এমন ঘটনা হওয়ার জন্য সেটাও বিবেচনায় আনা হয়েছে। আর আমরা প্রমাণও পাইনি যে সে খেলায় ভালো করার জন্য এটা নিয়েছে।’
[caption id="attachment_106917" align="aligncenter" width="900"]
বিপিএলে অনিকের উইকেট উদযাপন। ফাইল ছবি[/caption]
অনিকের ডোপ টেস্ট হয়েছিল ২০১৮ সালের নভেম্বরে। তার পজিটিভ হওয়ার খবর বিসিবিতে এসেছে ২০১৯ সালের মার্চ মাসে। এর মাসখানেক আগে থেকে দুই বছর হিসেব করে ২০২১ সালের ৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত নিষিদ্ধ থাকবেন এই বাঁহাতি পেসার। অর্থাৎ নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ প্রায় শেষ হতে চলেছে। তবে এতোদিন কেন জানানো হয়নি বিষয়টি?
সেই কর্তা বলেন,
‘এই প্রক্রিয়াটা দীর্ঘমেয়াদি একটা প্রক্রিয়া। অনিকের টেস্টটা হয়েছিল ২০১৮ সালের নভেম্বরে। আমরা রিপোর্ট পেয়েছি ২০১৯ সালের মার্চ মাসে। সেই সময় তাকে বিষয়টি অবগত করা হয়েছে। আমরা তাকে মেইল এবং মৌখিকভাবে জানিয়ে দিয়েছি তার অবস্থান।’
‘এটা আমাদের বাংলাদেশে প্রথম ঘটনা। এরকম অভিজ্ঞতা আমাদের ছিল না। এর জন্য আমাদের অনেকগুলো সংস্থার সাহায্য নিতে হয়েছে। আইসিসির সাহায্য নিতে হয়েছে। এরপর সব প্রক্রিয়া মেনে আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম এই বছরের শুরুতে বিষয়টা জানানোর। বিভিন্ন কারণের সাথে করোনার জন্য শেষ পর্যন্ত আর হয়ে ওঠেনি।’- আরও বলেন তিনি।
তবে এই দীর্ঘ সময়টা অনিককে মাঠে নামা থেকে বিরত রেখেছিল টাইগার ক্রিকেট বোর্ড,
‘সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ যে ব্যাপারটা সেটা কিন্তু আমরা তাকে খেলতে দেইনি। ২০১৯ সালের ফেব্রুয়ারি থেকেই তার খেলা বন্ধ আছে।’
২০১৮ সালে অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ থেকে ফিরেই এমফেটামিনের মত ভয়ঙ্কর ড্রাগ নিয়েছেন অনিক। এতে মাত্র ১৯ বছর বয়সেই থেমে যেতে পারতো সম্ভাবনাময় তরুণ এক ক্রিকেটারের ক্যারিয়ার। ড্রাগের মত ক্ষতিকর বিষয়গুলো থেকে দূরে রাখতে বয়সভিত্তিক দলগুলোকে বিসিবি থেকে কোন দিকনির্দেশনা দেওয়া হয় কীনা?
জবাবে তিনি বলেন,
‘জাতীয় দল থেকে শুরু করে আমাদের বয়সভিত্তিক দল পর্যন্ত, প্রত্যেকটা গ্রুপে এগুলোর উপরে ক্লাস নেওয়া হয়। আমাদের এন্টি ডোপিংয়ের এডুকেশন আছে। আইসিসির নির্দেশনা অনুসারে এটা আমরা করতে বাধ্য। আমরা এরকম একটা শিক্ষাদান কর্মসূচী চালাই সবসময়।’
শুধু পাঠদান পর্যন্তই সীমাবদ্ধ? এরপর তরুণ এই ক্রিকেটারদের ব্যক্তিগত চলাফেরার উপর বোর্ডের কোন নজরদারি থাকে? এই প্রসঙ্গে জানান,
‘এই ধরনের আমাদের কোন ব্যবস্থা না থাকলেও ন্যাশনাল এন্টি ডোপিং অর্গানাইজেশন নামে একটা সংস্থা আছে। যেটাকে ন্যাডো বলা হয়। এটা মূলত তাদেরই কাজ। তারাই খবর নিবে, কে কোথায় কখন কি করছে।’
বিশ্বের প্রায় প্রতিটি দেশের ক্রীড়াবিদ এমনকি ক্রিকেটারদের জন্য একটি নিয়ম আছে। তারা সারা বছর কোথায় যাচ্ছেন, কি করছেন, কাদের সাথে চলছেন এসব তথ্য জানাতে হয় ন্যাশানাল অ্যান্টি ডোপিং এজেন্সিকে। মূলত এই পন্থাকে বলা হয় হোয়ার অ্যাবাউট ক্লজ। খেলোয়াড়দের নেসাজাত দ্রব্য থেকে দূরে রাখতে এর ভূমিকা কতখানি?
বোর্ডের সেই কর্তা জানান,
‘হোয়ার অ্যাবাউট এর বিষয়টা আমাদের এখানেও আছে। তবে এটা সবার জন্য না। কিছু নির্দিষ্ট খেলোয়াড়ের জন্য। সেটা আইসিসি থেকে নির্ধারণ করে দেওয়া হয় কোন কোন খেলোয়াড়ের হোয়ার অ্যাবাউট আমরা জমা দিব। হোয়ার অ্যাবাউট এর তালিকায় অনূর্ধ্ব-১৯ দলটা আসে না।’
বল বাই বল লাইভ স্কোর পেতে আর নয় বিদেশি অ্যাপ। বাংলাদেশ ক্রিকেটের সাম্প্রতিক খবর এবং বল বাই বল লাইভ স্কোর আপনার মুঠোফোনে পেতে এখনি প্লে-স্টোর থেকে BDCricTime সার্চ করে ডাউনলোড করুন বাংলাদেশের নাম্বার ওয়ান ক্রিকেট অ্যাপটি। অথবা ডাউনলোড করতে ক্লিক করুন এখানে। ভালো লাগলে অবশ্যই রেটিং দিয়ে উৎসাহী করুন।