পর্দা নেমেছে বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের (বিপিএল) অষ্টম আসরের৷ বিপিএল ইতিহাসের প্রথম ফ্র্যাঞ্চাইজি হিসেবে সর্বোচ্চ তৃতীয়বারের মত শিরোপা ঘরে তুলেছে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স৷ মাশরাফি বিন মর্তুজার পর দ্বিতীয় অধিনায়ক হিসেবে ইমরুল কায়েস পেয়েছেন একাধিকবারের মত শিরোপা উঁচিয়ে ধরার স্বাদ৷
তবে শুধুমাত্র শিরোপা জয় কিংবা বিদেশি বড় বড় নামের মাঠ মাতানোতেই বিপিএল আয়োজনের আসল উদ্দেশ্য নিহিত নয়৷ বরং, বাংলাদেশি অভিজ্ঞ ক্রিকেটারদের ধারাবাহিক পারফরম্যান্ন্সের সাথে নতুনদের নিজেদের জাত চেনানোর উৎকৃষ্ট মঞ্চ হিসেবে বিবেচিত হয়ে থাকে টি-টোয়েন্টির এই জাঁকজমকপূর্ণ আয়োজন৷ আর সেই হিসেবে এবারের আসর ততোটা সফল না হলেও, নিজেদের আলোর নিচে দাঁড় করাতে ভুলেননি বেশ কিছু ক্রিকেটার৷ একটা আসর দিয়েই তাদের যোগ্যতা স্বম্বন্ধে যোগ্য উপসংহার টানা না গেলেও বাংলাদেশের ক্রিকেট সমর্থকদের কিছুটা হলেও তৃপ্ত করতে পেরেছেন তারা৷ চলুন চোখ বুলিয়ে নেই এবারের বিপিএল আসর দিয়ে নিজেদের আলোচনায় নিয়ে আসা পাঁচ ক্রিকেটারের তালিকায়।
[caption id="attachment_191433" align="aligncenter" width="1200"]

বিপিএলে ব্যাটিং দিয়ে নজর কেড়েছেন মুনিম শাহরিয়ার।[/caption]
মুনিম শাহরিয়ার (ফরচুন বরিশাল): ধুমধাড়াক্কা ক্রিকেটের ব্র্যান্ড এম্বাসেডর হিসেবে খ্যাত টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে ব্যাট হাতে আগুন ছড়াতে পারাটাই অনেকক্ষেত্রেই হয়ে উঠে প্রধান আলোচ্য বিষয়৷ ব্যাটিং গড় কিংবা রানের সংখ্যার চেয়েও বড় বিবেচ্য বিষয় হয়ে উঠে বল প্রতি ব্যাটারদের রান তোলার সক্ষমতাটার বিষয়টি। আর এই মাপকাঠিতে বরাবরই হতাশ করেছেন বাংলাদেশের ব্যাটাররা। বিশেষ করে পাওয়ার প্লেতে দ্রুত রান তুলতে ব্যর্থ হওয়ায় অসংখ্য ম্যাচে রানের পাহাড়ে চড়া হয়নি বাংলাদেশি টাইগারদের৷ তবে সদ্য সমাপ্ত বিপিএলে কিছুটা হলেও স্বস্তি নিয়ে এসেছেন ফরচুন বরিশালের ওপেনার মুনিম শাহরিয়ার। মাত্র ছয় ম্যাচে ব্যাট করার সুযোগ পেয়েই নিজের জাত চিনিয়েছেন তিনি। ৬ ইনিংসে প্রায় ৩০ গড়ে করেছেন ১৭৮ রান। প্রতি ম্যাচেই উড়ন্ত সূচনা এনে দিয়েছেন দলকে৷ পুরো আসরে একটা মাত্র পঞ্চাশোর্ধ ইনিংসের দেখা পেলেও তার ঈর্ষনীয় স্ট্রাইক-রেট নজর কেড়েছে সবার৷ ফাইনাল ম্যাচের ব্যর্থতার পরও টুর্নামেন্ট শেষে তার স্ট্রাইক রেট ১৫২। ১৫টি চারের বিপরীতে হাঁকিয়েছেন ১৩টি ছয়৷ বাংলাদেশি ব্যাটারদের অতীত পরিসংখ্যানের বিচারে মুনিমের এই মারকুটে ব্যাটিং মরুর বুকে এক পশলা বৃষ্টির মত প্রশান্তি ছড়াতে পারে বাংলাদেশি সমর্থকদের অন্তরে৷
মৃত্যুঞ্জয় চৌধুরী (চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্স): অনূর্ধ্ব ১৯ বিশ্বকাপজয়ী দলের অন্যতম সদস্য মৃত্যুঞ্জয় চৌধুরী বেরসিক ইঞ্জুরির কবলে পড়ে অনেকটাই পিছিয়ে গিয়েছিলেন নিজের জাত চেনানোর লড়াইয়ে৷ যুব দলের অন্যান্য সতীর্থরা যখন কড়া নাড়া শুরু করে দিয়েছেন জাতীয় দলের দরজায়, মৃত্যুঞ্জয় তখন লড়ছেন ইঞ্জুরির সাথে৷
[caption id="attachment_191944" align="aligncenter" width="800"]

নিজেকে প্রমাণে আরও সময় নেওয়ার পক্ষে মৃত্যুঞ্জয়।[/caption]
অবশেষে ভাগ্য দেবতা কিছুটা হলেও চোখ তুলে তাকিয়েছেন তার দিকে৷ আর বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের (বিপিএল) অষ্টম আসরে বন্দরনগরী চট্টগ্রামের হয়ে খেলতে পারার সুযোগটা দুহাতে লুফে নিয়েছেন বাঁহাতি এই পেসার৷ বল হাতে রীতিমত আগুন ঝড়িয়েছেন তিনি৷ মাত্র ৮ ম্যাচে ঝুলিতে পুরেছেন ১৫টি মহা মূল্যবান উইকেট৷
শীর্ষ উইকেট সংগ্রাহকদের তালিকায় তিনি আছেন পঞ্চমস্থানে৷ পেয়েছেন হ্যাটট্রিকের দেখাও৷ ডেথ ওভারে বাংলাদেশ দলের পুরনো অসহায়ত্ব লাঘবের মিশনে নতুন আশার আলো নিয়ে হাজির হয়েছেন সিলেটে জন্ম নেওয়া এই পেসার৷ টুর্নামেন্ট জুড়ে পুরনো বলে নিজের কার্যকারিতার প্রমাণ বেশ ভালোভাবেই রেখেছেন তিনি। তবে তার যুদ্ধের শুরুটা হলো মাত্র। নিজের সাথে নিজের যুদ্ধটা চালিয়ে যেতে হবে তাকে প্রতিনিয়ত৷ আর সেই যুদ্ধে মৃত্যুঞ্জয়ের জয়েরই প্রত্যাশা রাখবেন কোটি বাংলাদেশি ক্রিকেট সমর্থক৷
[caption id="attachment_162157" align="aligncenter" width="640"]

সৈকত আলী। ফাইল ছবি[/caption]
সৈকত আলী (ফরচুন বরিশাল): নিজেদের প্রথম শিরোপা ঘরে তোলার মিশনে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্সের বিপক্ষে তখন লড়ছে ফরচুন বরিশাল৷ ১৫১ রানের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে শুরুতেই তারা হারিয়ে বসে মুনিম শাহরিয়ারের গুরুত্বপূর্ণ উইকেট৷ সেই সুবাদে সৈকত আলী যখন ব্যাট করতে ক্রিজে আসেন তখন দলের স্কোর এক উইকেট হারিয়ে ৫ রান৷ ফাইনালের মত গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে চাপে কাবু না হয়ে দলকে সম্ভাব্য বিপর্যয় থেকে টেনে তোলার দায়িত্ব কাঁধে তুলে নেন ফরচুন বরিশালের এই ব্যাটার৷ ইউনিভার্স বস ক্রিস গেইলকে সাথে নিয়ে দ্বিতীয় উইকেটে গড়েন ৭৪ রানের জুটি৷ আর সেই জুটির ৫৮ রানই আসে সৈকত আলীর ব্যাট থেকে৷ মাত্র ৩৪ বলে ১৭০ স্ট্রাইক রেটে ৫৮ রান করে তিনি প্যাভিলিয়নে ফিরলেও ততক্ষণে নিজের ব্যাটিং সামর্থ্য অনেকটাই প্রমাণ করতে সক্ষম হোন ডানহাতি এই পেস বোলিং অলরাউন্ডার৷ মাঠের চারপাশে খেলা তার নান্দনিক সব ক্রিকেটিয় শট আলোড়ন তুলেছে ক্রিকেট সমর্থকদের মনে৷ সাথে বেড়েছে সৈকত আলীকে আরেকটু বেশি সময় উপভোগ করার সুযোগ না পাওয়ার আক্ষেপও৷ মাত্র ৪টি ম্যাচ খেলার সুযোগ পেয়েছেন সৈকত আলী৷ সেখানে ১২০ স্ট্রাইকরেটে তিনি করেছেন ১১২ রান।
[caption id="attachment_189701" align="aligncenter" width="800"]

তানভীর ইসলাম। ফাইল ছবি[/caption]
তানভীর ইসলাম (কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ানস): বাঁহাতি অর্থোডক্স স্পিনারদের স্বর্গরাজ্য বাংলাদেশ। দেশের মাটিতে হওয়া ঘরোয়া টুর্নামেন্ট গুলোতে বাঁহাতি স্পিনারদের জয় জয়কার অনেকটাই নিত্তনৈমিত্তিক ঘটনা৷ আর সেই ঘটনার ধারাবাহিকতায় এবারও কোনো ব্যাতিক্রম ঘটেনি৷ শীর্ষ উইকেট শিকারীদের তালিকার সেরা পাঁচের দুইজনই বাঁহাতি স্পিনার।
টুর্নামেন্ট সেরা হওয়া সাকিব আল হাসান অবধারিতভাবেই জায়গা করে নিয়েছেন এই তালিকায়৷ ফরচুন বরিশালের অধিনায়ক ১১ ম্যাচে পকেটে পুরেছেন ১৬টি উইকেট। তবে বিপিএল অষ্টম আসরের শীর্ষ উইকেট শিকারীর তালিকায় থাকা অন্য বাঁহাতি স্পিনারের নামটা বেশ চমক জাগানিয়া। জাতীয় দলের তারকা স্পিনার নাসুম আহমদ, মেহেদী হাসান মিরাজ, শেখ মেহেদীদের পিছনে ফেলে বল হাতে আলো ছড়িয়েছেন কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ানসের ২৬ বছর বয়সী বাঁহাতি স্পিনার তানভীর ইসলাম৷ গুরত্বপূর্ণ সময়ে নিয়মিত ব্রেক থ্রু এনে দেওয়ার কুমিল্লা দলপতি ইমরুল কায়েসের অন্যতম ভরসার জায়গা ছিলেন এই স্পিনার৷
সাকিব আল হাসানের চেয়ে এক ম্যাচ বেশি খেলে তার সংগ্রহ ঠিক সাকিবের সমান ১৬টি উইকেট৷ টুর্নামেন্ট জুড়ে তিনি ওভারপ্রতি রান দিয়েছেন ৭.৬৫। দেশীয় পেসারদের আলো ছড়ানোর আসরে তানভীরের এমন পারফরম্যান্স স্বস্তি দিতে পারে বাংলাদেশ দলের নির্বাচকদের৷
[caption id="attachment_189620" align="alignnone" width="650"]

অভিষেক আসরে বিপিএলে আলো ছড়িয়েছেন
মাহমুদুল হাসান জয়।[/caption]
মাহমুদুল হাসান জয় (কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স): বিপিএল অষ্টম আসরে বেশ ভালোই কেটেছে সাদা বলের ক্রিকেটে এখনো আন্তর্জাতিক অভিষেকের অপেক্ষায় থাকা অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ জয়ী দলের ওপেনার মাহমুদুল হাসান জয়ের সময়৷ ইতোমধ্যেই বাংলাদেশ টেস্ট দলের জার্সি গায়ে জড়ানোর সৌভাগ্য হয়েছে তার৷ সদ্য সমাপ্ত বিপিএলে ভালো পারফর্ম করে দিয়ে রাখলেন সাদা বলের ক্রিকেটে নিজের সামর্থ্যের প্রমাণও৷ কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্সের হয়ে ৯ ইনিংসে তিনি করেছেন ২৩৫ রান৷ আসর জুড়ে ডানহাতি তরুণ ব্যাটসম্যানের স্ট্রাইক রেট ছিল ১১৫.১৯। ইনিংস প্রতি তার ব্যাটিং গড় ২৬.১১।
মাহমুদুল হাসান জয় জায়গা করে নিয়েছেন বিডিক্রিকটাইমের সেরা বিপিএল একাদশেও৷
বল বাই বল লাইভ স্কোর পেতে আর নয় বিদেশি অ্যাপ। বাংলাদেশ ক্রিকেটের সাম্প্রতিক খবর এবং বল বাই বল লাইভ স্কোর আপনার মুঠোফোনে পেতে এখনি প্লে-স্টোর থেকে BDCricTime সার্চ করে ডাউনলোড করুন বাংলাদেশের নাম্বার ওয়ান ক্রিকেট অ্যাপটি। অথবা ডাউনলোড করতে ক্লিক করুন এখানে। ভালো লাগলে অবশ্যই রেটিং দিয়ে উৎসাহী করুন।