Score

তাসকিন-নাঈমের পাঁচ, জাকির-রাজিনের অর্ধশতক

জাতীয় ক্রিকেট লিগের টায়ার-১ এ ঢাকা বিভাগ বনাম চট্টগ্রাম বিভাগের ম্যাচে হচ্ছে দারুণ লড়াই বোলিংয়ে পাঁচ উইকেট শিকার করেছেন চট্টগ্রাম বিভাগের নাঈম হাসান। নাঈমের ঘূর্ণির সুবাদে ম্যাচে দারুণ লড়াই করছে চট্টগ্রাম বিভাগ। টায়ার-১ এর অপর ম্যাচে তৃতীয় দিনে অবশেষে মাঠে গড়িয়েছে খেলা। ঢাকা বিভাগের বিপক্ষে অর্ধশতক হাঁকিয়েছেন সিলেট বিভাগের রাজিন সালেহ এবং জাকির হাসান। 

তাসকিন-নাঈমের পাঁচ
পাঁচ উইকেট পান তাসকিন।

ঢাকা মেট্রো বনাম চট্টগ্রাম বিভাগঃ ৬ উইকেটে ১৮৭ রান নিয়ে তৃতীয় দিন শুরু করে চট্টগ্রাম বিভাগ। ৮১ রানে অপরাজিত ছিলেন তাসামুল হক। সেখান থেকে শতক তুলে নেন তাসামুল হক। অপর প্রান্তে ছিলেন মেহেদি হাসান রানা। তাদের জুটি তৃতীয় দিন শুরু করে ৫২ রান থেকে। এ জুটি ৮৫ রান পর্যন্ত যেতে সক্ষম হয়। দলীয় ২২০ রানের মাথায় বিদায় নেন মেহেদি হাসান রানা। ১০৬ বলে ২ চারে ২৬ রান করে শহিদুল ইসলামের শিকার হন মেহেদি হাসান।

পরের ওভারে শাখাওয়াত হোসেনকে এলবিডব্লিউ করেন তাসকিন।  এরপর তাসামুলকে ফিরিয়ে দিয়ে নিজের পাঁচ উইকেট পূর্ণ করেন তাসকিন। আগের দিনই তাসকিনের ঝুলিতে ছিল তিনটি উইকেট। ১১৬ রান করে ফিরে যান তাসামুল হক। তার ইনিংসে ছিল ১৩ টি চার আর ২ টি ছক্কা। হাসান মাহমুদকে আরাফাত সানি স্টাম্পিং করলে শেষ হয় চট্টগ্রাম বিভাগের ইনিংস। ২৩৬ রান করে তারা।

Also Read - আশা অনুযায়ী বড় সংগ্রহ পাওয়া হল না বাংলাদেশের

৫১ রানের লিড পায় ঢাকা মেট্রো। খেলতে নেমে শুরুটা ভালো হয়নি ঢাকা মেট্রোর। দলীয় ১৪ রানের মাথায় আঘাত হানেন স্পিনার নাঈম হাসান। ওপেনার মোহাম্মদ নাইম ৬ রান করে নাঈম হাসানের বলে ক্যাচ দেন সাদিকুরের হাতে।

এরপর প্রতিরোধ গড়েন আশরাফুল এবং সাদমান ইসলাম। ৪৪ রানের জুটি গড়েন দুজন। প্রথম ইনিংসে ০ রান করা আশরাফুল দ্বিতীয় ইনিংসে ২৩ রান করে ফিরে যান নাঈম হাসানের বলে। ৫৫ বলে ২৩ রান করে তিনিও নাঈমের বলে ক্যাচ দেন সাদিকুরের হাতে। অর্ধশতক তুলে নেন সাদমান ইসলাম। দলীয় ৯২ রানের মাথায় সাদমান ইসলামকে ফেরান শাখাওয়াত হোসেন। ৬২ রান করে সজাঘরে ফিরে যান সাদমান ইসলাম।

এরপর মেহরাব হোসেন জুনিয়র এবং সৈকত আলি যোগ করেন ৪৮ রান। বেশ শক্ত অবস্থানেই ছিল ঢাকা মেট্রো। তবে শেষদিকে চট্টগ্রাম বিভাগকে খেলায় ফেরান নাঈম। দলীয় ১৪০ রানের মাথায় নাঈমের বলে এলবিডব্লিউ হন মেহরাব (২৬)। এরপর নিজের বলে নিজে ক্যাচ ধরে সৈকত আলিকেও সাজঘরে ফেরান নাঈম। দলীয় ১৮৭ রানের মাথায় রানের খাতা খোলার আগেই জাবিদ বোল্ড হন নাঈমের বলে। তিন উইকেটে ১৪০ থেকে ঢাকা মেট্রোর হয়ে যায় ৬ উইকেটে ১৮৭। ১৯১ রান করে দিনশেষ করে ঢাকা মেট্রো।

এক প্রান্ত আগলে রেখেছেন শামসুর রহমান। প্রথম ইনিংসে অর্ধশতক হাঁকানো এ ব্যাটসম্যান অপরাজিত আছেন ৩১ রানে। অপর প্রান্তে শরীফুল্লাহ রয়েছেন ২ রান করে অপরাজিত। ২৪২  রানে এগিয়ে আছে ঢাকা মেট্রো। চতুর্থ দিনে ঢাকা মেট্রোকে দ্রুত গুটিয়ে দিতে চাইবে চট্টগ্রাম বিভাগ। অন্যদিকে ঢাকা মেট্রোর লক্ষ্য থাকবে নিজেদের লিডকে বড় করে নিরাপদ স্থানে যাওয়া।

এর আগে প্রথম ইনিংসে জাবিদের ৯০ রানের সুবাদে ২৮৭ রানের সংগ্রহ দাঁড় করায় ঢাকা মেট্রো। প্রথম ইনিংসে তিন উইকেট শিকার করেছিলেন নাঈম হাসান। এখন পর্যন্ত ম্যাচে নাঈম পেয়েছেন আটটি উইকেট। আর দুটি  উইকেট পেলেই দশ পূর্ণ হবে এ স্পিনারের।

সংক্ষিপ্ত স্কোরঃ ঢাকা মেট্রো ২৮৭/১০, ১০৪.৫ ওভার (প্রথম ইনিংস)
জাবিদ ৯০, শামসুর ৫১,  শরীফুল্লাহ ৪৫*
নাঈম হাসান ৩/৭৪, শাখাওয়াত ২/৩৬, রানা ২/৩১

চট্টগ্রাম বিভাগ  ২৩৬/১০, ৯২ ওভার (প্রথম ইনিংস)
তাসামুল ১১৬, মুমিনুল ৩৪, ইয়াসির আলি ২৯
তাসকিন ৫/৬৭, আরাফাত ২/৫৩, শহিদুল ২/৫৬

ঢাকা মেট্রো ১৯১/৬, ৭০ ওভার (দ্বিতীয় ইনিংস, ২৪২ রানে এগিয়ে)
সাদমান ৬২, সৈকত ৪০, শামসুর ৩১*
নাঈম ৫/৯৯, সাখাওয়াত ১/৬৭

সিলেট বিভাগ বনাম ঢাকা বিভাগঃ কক্সবাজারে সিলেট বিভাগ বনাম ঢাকা বিভাগের ম্যাচেপ রথম দুই দিন কোনো খেলাই হয়নি। তৃতীয় দিনে মাঠে গড়িয়েছে ম্যাচের প্রথম বল। টস হেরে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে সিলেট বিভাগ ২ উইকেট হারিয়ে করেছে ২২৯ রান।

সিলেট বিভাগকে দারুণ ভিত গরে দেন দুই ওপেনার ইমতিয়াজ হোসেন এবং তৌফিক খান। উদ্বোধনী জুটিতে ৭৬ রান তুলেন দুজন মিলে। তৌফিক খানকে ফিরিয়ে দিয়ে এ জুটি ভাঙেন তাইবুর রহমান। এরপর বেশিক্ষণ টিকেননি ইমতিয়াজ হোসেনও। সিলেট বিভাগের অধিনায়ক ৪১ রান করে হন শুভাগত হোমের শিকার। দুই ওপেনার থিতু হলেও অর্ধশতক গড়তে পারেনি কেউ।

তৃতীয় উইকেটের জুটিতে হাল ধরেন রাজিন সালেহ এবং জাকির হাসান। ৩৫ তম ওভারের পঞ্চম বলে দ্বিতীয় উইকেটের পতনের পর আর কোনো বিপদ ঘটতে দেননি রাজিন ও জাকির। এ জুটি ভালোই ভুগিয়েছে ঢাকা বিভাগকে। ঢাকা বিভাগের বোলারদেরকে খাটিয়েছে বেশ।

২৯৫ বল ধরে ক্রিজে টিকে আছেন জাকির এবং রাজিন। গড়েছেন ১৪৭ রানের জুটি। দুজনেই অর্ধশতক পূর্ণ করে এগিয়ে যাচ্ছেন শতকের দিকে। শতকের দৌড়ে এগিয়ে আছেন জাকির হাসান। দিনশেষে তার সংগ্রহ ৪ চার ও ১ ছক্কার সাহায্যে ৮৪ রান। অপর প্রান্তে অপরাজিত থাকা রাজিন সালেহ করেছেন ৬৪ রান। তিনি হাঁকিয়েছেন ৭ চার এবং ২ ছক্কা।

এ ম্যাচ যে ড্র হতে যাচ্ছে তা অনুমেয়। ম্যাচের ফল নিয়ে কোনো ভাবনা নেই। তাই ম্যাচের শেষদিনে চাপ ছাড়াই শতকের উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করবেন জাকির হাসান ও রাজিন সালেহ।

সংক্ষিপ্ত স্কোরঃ সিলেট বিভাগ ২২৯/২, ৮৪ ওভার, প্রথম ইনিংস
জাকির হাসান ৮৪*,  রাজিন সালেহ ৬৪*,  ইমতিয়াজ ৪১
তাইবুর রহমান ১/৪৫, শুভাগত হোম ১/৬৬


আরো পড়ুনঃ  জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে প্রস্তুতি ম্যাচের দল ঘোষণা


 

Related Articles

এনামুলের হ্যাটট্রিক, শেষ ইনিংসেও রাজিনের ব্যাটে রান

ইনিংস ব্যবধানে হারল ঢাকা মেট্রো

আমাকে বারবার বঞ্চিত করা হয় : তুষার

নাফীসের শতক, বল হাতে উজ্জ্বল সাব্বির

সৌম্যর অলরাউন্ডিং ঝলক, বরিশালে বোলারদের দিন