দিনমজুরি করে স্বপ্নের পথে ক্রিকেটার শাওন

বিশ্বের বুকে নিজ দেশের নাম উজ্জ্বল করার স্বপ্ন থাকে প্রতিটা মানুষেরই। কিন্তু নানা প্রতিকূলতায় সবার সেই সুযোগ হয়ে ওঠেনা। আর সেই প্রতিকূলতা যদি হয় শারীরিক প্রতিবন্ধকতা তাহলেতো একপ্রকার হাল ছেড়েই বসে থাকে সবাই। কিন্তু এই প্রতিবন্ধকতাকে হার মানিয়ে ঠিকই বিশ্বের বুকে দেশের হয়ে লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে পিরোজপুরের শাওন সিকদার।

বিসিবি শারীরিক প্রতিবন্ধী ক্রিকেট দলের সদস্য হিসেবে বহুবার দেশের হয়ে লড়েছেন এ যোদ্ধা। অংশগ্রহণ করেছেন ইংল্যান্ডে অনুুুষ্ঠিত ২০১৮ ফিজিক্যাল ডিজ্যাবিলিটি ট্রাই-সিরিজ টি-টোয়েন্টি ক্রিকেট টুর্নামেন্টে। অর্জন করেছেন ম্যান অব দ্যা ম্যাচ এবং ম্যান অব দ্যা সিরিজ হওয়ার মতো গৌরব। এছাড়াও বাংলাদেশের হয়ে খেলেছেন ভারত, পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের বিপক্ষে।

Also Read - সানীর ৭ উইকেট, উজ্জ্বল আশরাফুলও

পিরোজপুর সদর উপজেলার শারিকতলা-ডুমরীতলা ইউনিয়নের কুমরিমারা আশ্রয়ণ প্রকল্পের বাসিন্দা দিনমজুর মো: বাবুল সিকদার ও গৃহিণী নাসিমা বেগমের বড় ছেলে শাওন। কিভাবে ছেলের এই স্বপ্ন জয়ের যাত্রা শুরু সেই গল্প শোনালেন বাবুল। বললেন, “শাওন জন্ম থেকেই শারিরিক প্রতিবন্ধী হবার কারনে আমি কখনো তাকে ক্রিকেটার বানানোর কথা ভাবি নাই। অভাব অনটনের সংসারে একটু স্বস্তির জন্য চাকরি করতে শাওনকে পাঠাই চট্টগ্রামে। কিন্তু চাকরী ছেড়ে ক্রিকেটের টানে ঢাকায় যায় সে। পরে জানতে পারি সে শারীরিক প্রতিবন্ধী ক্রিকেট দলের সদস্য হিসেবে সুযোগ পেয়েছে। ”

বিশ্বে ব্যয়বহুল খেলা হিসেবে পরিচিত ক্রিকেট। তাই আর্থিক অসচ্ছলতাকে সঙ্গী করে শাওনের এ যাত্রা দিন দিন দুর্গম হয়ে উঠছে।  এ বিষয়ে বাবুল বলেন, “এখন বর্তমানে সে বাড়ীতে আছে। এখানে ক্রিকেট অনুশীলনের জন্য তেমন কোন ব্যবস্থা নেই। এছাড়া ক্রিকেট খেলা অনুশীলনের জন্য যে সকল সম্যগ্রী দরকার তা কিনে দেওয়ার সামর্থ্যও নেই আমাদের। ”

শাওনের মা নাসিমা বেগম বলেন, “প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেয়া উপহার আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘরে আমরা পরিবার নিয়ে থাকি। ছেলে যখন ক্রিকেট খেলতে দেশের বাইরে যায় তখন ভালো লাগে। আরো ভালো লাগে যখন ও পুরষ্কার পায়। অনেক গর্ব হয় কিন্তু গর্বে তো পেট ভরে না। আশ্রয়ণ প্রকল্পের ভাঙ্গা ঘরে থেকে শাওন যে স্বপ্ন দেখছে তা অভাবের কারণে আস্তে আস্তে অন্ধকার হয়ে যাচ্ছে। ”

হাজারো সমস্যার মাঝেও হাল ছাড়তে নারাজ শাওন। এক প্রকার আক্ষেপ নিয়েই লড়াই চালিয়ে যাওয়ার কথা জানালেন তিনি। বলেন, “আমার ক্রিকেট খেলার প্রয়োজনীয় উপকরণ নাই। যার কারণে পারছিনা ঠিকমতো অনুশীলন করতে। তাই বাড়ীতে এসে দিনমজুরের কাজ করে এসব উপকরণ কেনার জন্য প্রয়োজনীয় টাকা যোগাতে হয় আমাকে। এছাড়াও অটো-রিক্সা ও ইজিবাইক চালিয়ে কিছু টাকা আয় করি।”

এ বিষয়ে পিরোজপুর জেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক মো: গোলাম মাওলা নকীব বিডিক্রিকটাইমকে জানান, “আন্তর্জাতিক রেড ক্রস কমিটি (আইসিআরসি)-র সহায়তায় গঠিত বিসিবির শারীরিক প্রতিবন্ধী ক্রিকেট দলের সদস্য হিসেবে শাওন সিকদার গত ৬ জুলাই ‘ফিজিক্যাল ডিজ্যাবিলিটি ট্রাই-সিরিজ’ টি-২০ টুর্ণামেন্ট খেলতে ইংল্যান্ডে যায়। ”

শাওনের পাশে থাকার আশ্বাস দিয়ে তিনি বলেন, “জেলা ক্রীড়া সংস্থার পক্ষ থেকে শাওনের ক্রিকেট অনুশীলনের জন্য যথাযথ ব্যবস্থা করা হবে এবং তাকে সার্বিক সহযোগীতা করা হবে। ”

– আবীর হাসান, পিরোজপুর।

Read in English : Shawon on the way towards his dream through day laboring