বিজয়-মোসাদ্দেকদের বিপিএল খেলতে না দেওয়ার পেছনে যে কারণ
জানানো হয়েছিল, ক্রিকেটাররা বিপিএল বাদে অন্য টুর্নামেন্টে খেলতে পারবেন। পরে তারা বিভিন্ন ঘরোয়া টুর্নামেন্টে খেলেছেনও। দুইজন জাতীয় দলেও খেলেছেন। অন্যান্য ঘরোয়া টুর্নামেন্টে খেলতেও বাধা নেই।
বিজয়-মোসাদ্দেকদের বিপিএল খেলতে না দেওয়ার পেছনে যে কারণ
বিপিএলের সর্বশেষ আসরে বেশ কিছু ক্রিকেটারকে নিলামে রাখা হয়নি। যে কারণে দল পাননি তারা, খেলাও হয়নি বিপিএলে। আলাউদ্দিন বাবু, নিহাদউজ্জামান, মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত, এনামুল হক বিজয়, সানজামুল ইসলাম, শফিউল ইসলাম, মিজানুর রহমানসহ ৯ জন ক্রিকেটারকে। [গুগল নিউজে বিডিক্রিকটাইম ফলো করুন] বিসিবির অ্যান্টি করাপশন ইউনিটের প্রধান অ্যালেক্স মার্শাল।
তবে জানানো হয়েছিল, ক্রিকেটাররা বিপিএল বাদে অন্য টুর্নামেন্টে খেলতে পারবেন। পরে তারা বিভিন্ন ঘরোয়া টুর্নামেন্টে খেলেছেনও। দুইজন জাতীয় দলেও খেলেছেন। অন্যান্য ঘরোয়া টুর্নামেন্টে খেলতেও বাধা নেই।
রেড ফ্ল্যাগে থাকা ক্রিকেটারদের ছাড়াই হয়েছিল বিপিএলের সর্বশেষ আসর। টুর্নামেন্টের ফাইনালে রাজশাহী ওয়ারিয়র্স চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্সকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয়।
রেড ফ্ল্যাগে থাকা ক্রিকেটারদের বিপিএল খেলতে না দেওয়ার পরামর্শ এসেছিল বিসিবির ইন্টিগ্রিটি ইউনিটের প্রধান অ্যালেক্স মার্শালের কাছ থেকে। এবার বিষয়টি নিয়ে ব্যাখ্যা দিয়েছেন মার্শাল নিজেই।
মিরপুরে সংবাদ সম্মেলনে অ্যালেক্স মার্শাল বলেছেন, ‘আসলে তাদের কোনো দোষ খুঁজে পাইনি আমি। যেটা আমার দায়িত্ব তা হচ্ছে কেউ দোষী হলে তার শাস্তির ব্যাপারে সুপারিশ করা। সেবার বিপিএলের নিলামের ঠিক আগে দিয়ে আমাকে ৯০০ পাতার একটি প্রতিবেদন দেওয়া হয়। যেখানে তাদের বিরুদ্ধে নেতিবাচক এবং শক্ত কিছু সন্দেহজনক ব্যাপার ছিল। সে কারণে আমি বিপিএল গভর্নিং কাউন্সিলকে পরামর্শ দিয়েছিলাম তাদেরকে এবারের বিপিএলের নিলামে না রাখতে। কেবল প্লেয়ার নয়, দেশি বিদেশি প্লেয়ার, দলের সদস্য অনেকের নামেই নেতিবাচক তথ্য ছিল।’
মার্শাল আরও জানান, ‘৯০০ পাতার রিপোর্টে অনেক প্লেয়ারের নামে অনেক নেতিবাচক তথ্য ছিল। ফলে আমি বিপিএল গভর্নিং কাউন্সিলকে আমি পরামর্শ দিয়েছিলাম তাদেরকে নিলামে না রাখতে কারণ তারা বিপিএলের জন্য বড় একটি থ্রেট হতে পারে।’
মার্শাল আরও জানান, ‘স্বাধীন ইনকোয়ারি কমিটি কিছু ফ্যাক্ট বের করেছিল। যেখানে স্বাধীন ইন্টিগ্রিটি ইউনিট গঠনের প্রয়োজন অনুভব করা হয়। এরপর স্বাধীন ইন্টিগ্রিটি ইউনিট গঠন করা হয় এবং আমাকে সেখানে প্রধান হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। কেবল আমারই ক্ষমতা আছে অ্যান্টি করাপশন কোড অনুযায়ী তদন্ত করার। ইনকোয়ারি কমিটির সেই ক্ষমতা ছিল না, তারা কেবল পরামর্শ দিয়েছিল কী কী বদল হতে পারে। ১১তম বিপিএলের পরেই কারা ফিক্সিংয়ের সাথে জড়িত ছিল সেসব ব্যাপারে তদন্ত শুরু করা উচিত ছিল।’
পরবর্তীতে কখনও বিপিএল হলে রেড ফ্ল্যাগে থাকা ক্রিকেটাররা খেলতে পারবেন কি? জবাবে অ্যালেক্স মার্শাল বলেছেন, ‘আমি তাদের কারও নাম নেইনি। প্লেয়ারের সংখ্যা আরও বেশি ছিল। আমার পরামর্শ ছিল কেবল দ্বাদশ বিপিএলকে নিয়ে (তাদের না রাখতে)। এরপর আর কোনো বাধা নেই তাদের উপর। তারা এখন খেলছেও। আমি কেবল অ্যান্টি করাপশন কোডের লঙ্ঘন নিয়ে তদন্ত করি। আমি জানি এটা অনেক বোরিং। তবে ১৫-২০ মিনিট সময় দিলে কোডটা পড়ে নেওয়া যায় শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত। আমি আপনাদের সবাইকে পরামর্শ দেব এটা পড়ে নিতে। গুগল করলেই পেয়ে যাবেন। ২০২৪ সালের জুনে সর্বশেষ ভার্সন এসেছে। আমি কেবল কোডের লঙ্ঘনের ঘটনার ক্ষেত্রে তদন্ত করি।’
মার্শাল আরও জানান, ‘যদি কাউকে বলা হয় পরের ম্যাচে বাজে বল করলে ১০ হাজার ডলার দেব, প্লেয়ার বা অন্য যে কারও প্রথম কাজ হচ্ছে সেই প্রস্তাব ফিরিয়ে দেওয়া এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানানো। যদি কেউ না জানায় তাহলেই কোডের লঙ্ঘন হচ্ছে। এই কোডের বাইরে আমি কিছু বলতে পারি না।’
নিজের তদন্ত প্রসঙ্গে মার্শায় বলেছেন, ‘আমি কোনো প্লেয়ারের ব্যাপারে তদন্তের ব্যাপারে কিছু প্রকাশ করতে পারব না। কারণ কেউ যদি ট্রাইব্যুনালে শুনানিতে যায়, তখন আমাকে প্রমাণগুলো সেখানে দিতে হবে। এখানে বলে দিতে তো ন্যায্য শুনানি হবে না। আমি কখনও কোনো প্লেয়ারের নাম প্রকাশ করব না। কেবল শাস্তি দেওয়া হলে, তখন কেইস শেষ, ফলে তখন নাম প্রকাশ করে দিব।’
রেড ফ্ল্যাগে থাকা ক্রিকেটারদের কেন বিপিএলে খেলতে দেওয়া হলো না? এমন প্রশ্নের জবাবে মার্শাল জানিয়েছেন, ‘বিপিএলের নিলামের ঠিক আগে আমরা নতুন কিছু নেতিবাচক তথ্য পেয়েছিলাম (অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে)। সেখানে অনেক দেশি এবং বিদেশি প্লেয়ারদের বিরুদ্ধে নেতিবাচক তথ্য ছিল। ফলে বিপিএল গভর্নিং কাউন্সিলকে আমি পরামর্শ দেই যে হয়ত তারা বিপিএলের জন্য থ্রেট হতে পারে। ফলে কাউন্সিল তাদেরকে নিলামে রাখেনি। কিছু দেশি, কিছু বিদেশি প্লেয়ারও সেখানে ছিল। গোপন রিপোর্টে সেগুলো এসেছিল। তাই এখানে প্রকাশ করতে পারছি না আমি।’
এছাড়া বিপিএল সংক্রান্ত ফিক্সিং, দুর্নীতির বিষয়ে ইতোমধ্যে ৮ জনকে শাস্তি দিয়েছে বিসিবি। পরবর্তীতে আরও কিছু নাম আসবে বলেও জানিয়ে দিয়েছেন অ্যালেক্স মার্শাল। তিনি জানান, ‘৮ জনের নাম এসেছে। সামনে আরও কয়েকজনের নাম আসবে। কিছু কেইস শেষ হয়ে আসছে। শাস্তি দিলে জানিয়ে দিব আমরা।’
এছাড়া শাস্তি দেওয়ার বিষয়টিও পরিষ্কার করেছেন মার্শাল। বিসিবির ইন্টিগ্রিটি ইউনিটের প্রধান হিসেবে মার্শালের কাজ হচ্ছে, তদন্ত চালিয়ে যাওয়া। মার্শাল জানিয়েছেন, ‘আমি কোনো নিষেধাজ্ঞা দেই না। আমি কেবল তদন্ত চালিয়ে যাই। যদি আমার মনে হয় ভালো কোনো প্রমাণ পেয়ে যাই তখন আমি শাস্তি দিয়ে রিপোর্ট পাঠাই। কাউন্সিল সেটা সভাপতির সাথে আলাপ করে। দলের মালিক, প্লেয়ারদের ব্যাপারে বিপিএল গভর্নিং কাউন্সিলকে গোপনে আমি পরামর্শ দেই। এটা তাদের সিদ্ধান্ত তারা আমার পরামর্শ আমলে নেবেন কিনা। যদি দেখেন এখানে আমরা ৮ জনকে শাস্তি দিয়েছি এবং আরও কিছু শাস্তির ঘটনা আসছে। এটা অনেক সক্রিয় ইন্টিগ্রিটি ইউনিট। আমরা খারাপ লোকদের ধরছি। সভাপতি এবং জেনারেল কাউন্সিল আমাকে ১০০% সমর্থন দিয়ে আসছেন। তারা চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেন। কেউ চাইলে লুকিয়ে থাকতে পারেন, আবার চাইলে চোখ খুলে সমস্যাটার সমাধান করতে পারেন এবং যে লোকরা খেলার ক্ষতি করে তাদের বের করে দিতে পারেন। সভাপতি এবং কাউন্সিল এখানে আমাকে সমর্থন করে থাকেন। কিছু কিছু ক্ষেত্রে শাস্তি দেওয়ার মত যথেষ্ট প্রমাণ থাকে না। আশা করি সবকিছু পরিষ্কার হয়েছে। বাংলাদেশে খেলায় দুর্নীতি বন্ধ করতে খুব ভালো কিছু উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। আমাদের দলের কাজ এবং সভাপতি, কাউন্সিলের সাপোর্ট দুর্দান্ত হচ্ছে। বিশ্বের অন্যান্য দেশের সাথে তুলনা করেও দেখতে পারেন চাইলে। কিছুক্ষেত্রে কিছু প্লেয়ার মনিটরিংয়ে থাকবেন এবং নতুন প্রমাণ পেলে আমরা আবার তদন্ত শুরু করব।’
বিসিবির আইনজীবী ব্যারিস্টার মাহিন এম রহমানও উপস্থিত ছিলেন সংবাদ সম্মেলনে। বিপিএল সংক্রান্ত ৯০০ পাতার রিপোর্ট এবং ৯ ক্রিকেটারকে নিলামের বাইরে রাখার বিষয়ে মাহিন জানিয়েছেন, ‘৯০০ পাতার রিপোর্টে যে নামগুলো ছিল সেখানে অনেকের নামই ছিল। ৯ জন প্লেয়ার বাদেও অন্যদের নাম ছিল। ৯ জনের নামটা উঠে এসেছিল কারণ তারা বিপিএলে তাদের প্লেয়ার হিসেবে অংশ নেওয়ার সুযোগ ছিল। আপনারা ৯ জনের নাম জেনেছেন কারণ একজন এই বিষয়টি নিয়ে মামলা করেছিল। সেটা ইনকোয়ারি ছিল। সেখানে কিছু ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং ছিল। সেখানে অ্যান্টি করাপশন কোড বা কিছু ছিল না। উনারা (বিপিএল খেলতে না পারা ৯ জন ক্রিকেটার) গিল্টিও না, নট গিল্টিও না।’
বিপিএলে খেলতে না পারলেও দেশের অন্যান্য ঘরোয়া টুর্নামেন্টে খেলে যাচ্ছেন এনামুল বিজয়, মোসাদ্দেক, নিহাদউজ্জামানরা। বিজয় সর্বশেষ শ্রীলঙ্কা সফরে টেস্ট খেলেছেন। মোসাদ্দেক অস্ট্রেলিয়া সফরে ওয়ানডে সিরিজ দিয়ে দীর্ঘ দিন পর দলে ফিরেছেন।
সিলেট টেস্টের দ্বিতীয় দিনে ব্যাটে-বলে সেয়ানে-সেয়ানে লড়াই হয়েছে। প্রথম ইনিংসে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে ৩৫৬ রানে থামিয়ে ৮৮ রানে ৩ উইকেট নিয়ে দিন শেষ করেছে বাংলাদেশ। ম্যাচে এখনও ২৬৮ রানে এগিয়ে
সংযুক্ত আরব আমিরাতের জনপ্রিয় লিগ আবুধাবি টি-টেনের পরবর্তী আসরে নাম লিখিয়েছেন সাকিব আল হাসান। টুর্নামেন্ট শুরু হওয়ার প্রাক্বালে তাকে দলে নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে ইউনাইটেড টাইগার্স।[গুগলন
সিলেট টেস্টের দ্বিতীয় ওয়েস্ট ইন্ডিজের সাথে ভালোই লড়েছে বাংলাদেশ। ম্যাচের প্রথম ইনিংসে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে ৩৫৬ রানে থামিয়ে ৮৮ রানে ৩ উইকেট নিয়ে দিন শেষ করেছে টাইগাররা। এখনও ২৬৮
সিলেট টেস্টের দ্বিতীয় দিন ভালো-মন্দ মিলিয়ে কেটেছে বাংলাদেশের। প্রথম ইনিংসে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে ৩৫৬ রানে থামিয়ে ৮৮ রানে ৩ উইকেট নিয়ে দিন শেষ করেছে টাইগাররা। এখনও ২৬৮ রানে এগিয়ে
সিলেট টেস্টের দ্বিতীয় দিনে ব্যাটে-বলে লড়াই হয়েছে দারুণ। প্রথম ইনিংসে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে ৩৫৬ রানে থামিয়ে ৮৮ রানে ৩ উইকেট নিয়ে দিন শেষ করেছে বাংলাদেশ। ম্যাচে এখনও ২৬৮ রানে এগিয়ে
সিলেট টেস্টের দ্বিতীয় দিন চোট পাওয়া ওপেনার সাদমান ইসলামকে নিয়ে সুসংবাদ মেলেনি। সম্ভবত সিলেট টেস্টে মাঠেই নামা হচ্ছে না তার। এটুকু অন্তত নিশ্চিত, প্রথম ইনিংসে ব্যাটিং করা হচ্ছে না।[