সবকিছু ধামাচাপা দিয়ে জোড়াতালি দিয়ে হলেও এতদিন টুর্নামেন্ট চালিয়ে নেওয়া হয়েছে। তবে এবার সব শক্ত হাতে প্রতিরোধ করার ব্যবস্থা নিলেন বোর্ড সভাপতি তামিম ইকবাল খান।
বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ (বিপিএল) দেশের ঘরোয়া ক্রিকেটের সবচেয়ে বড় এবং জাঁকজমকপূর্ণ টুর্নামেন্ট। এই টুর্নামেন্টেই দিনের পর দিন ধরে হয়ে এসেছে নানা ধরনের অনিয়ম। সবকিছু ধামাচাপা দিয়ে জোড়াতালি দিয়ে হলেও এতদিন টুর্নামেন্ট চালিয়ে নেওয়া হয়েছে। তবে এবার সব শক্ত হাতে প্রতিরোধ করার ব্যবস্থা নিলেন বোর্ড সভাপতি তামিম ইকবাল খান। [গুগল নিউজে বিডিক্রিকটাইম ফলো করুন]
বোর্ড সভাপতি তামিম ইকবাল। বিপিএলের সর্বশেষ আসরে ২ কোটি টাকা ফ্র্যাঞ্চাইজি ফি এবং ১০ কোটি টাকা ব্যাংক গ্যারান্টির নিয়ম রাখা হয়েছিল। সেই নিয়ম মেনেছে কেবল একটি ফ্র্যাঞ্চাইজি – রংপুর রাইডার্স। ১০ কোটি টাকার ব্যাংক গ্যারান্টির নিয়ম রংপুর বাদে আর কেউ মানেনি। সিলেট টাইটান্স এবং নোয়াখালী এক্সপ্রেস যথাক্রমে দেড় কোটি এবং ২ কোটি টাকার পে অর্ডার দিয়েই পার পেয়ে গেছে।
সংবাদ সম্মেলনে বিস্তারিত ব্যাখ্যা দিয়েছেন বিসিবির অ্যাড-হক কমিটির সভাপতি তামিম ইকবাল খান। এছাড়া এভাবে জোড়াতালি দিয়ে বিপিএল করার চেয়ে না করাই ভালো বলে মনে করেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে তামিম বলেছেন, ‘একটা স্বনামধন্য ফ্র্যাঞ্চাইজি বাদে, বাকিরা কেউই ব্যাংক গ্যারান্টি মানেনি। একটা চেক দিলে এটা ব্যাংক গ্যারান্টি না। চেক তো চেক, ব্যাংক গ্যারান্টি ব্যাংক গ্যারান্টিই। এই প্রসেসটা কিন্তু কোনো দলই মানেনি। যে সিদ্ধান্তটা আমরা নিয়েছি, আমাদের মনে হয়েছে সময় এসে গেছে করার জন্য, এই যে প্রতিটা বিপিএলে বলেন, কয়েকটা বিপিএল বাদে, ফ্র্যাঞ্চাইজি নির্বাচনের ক্ষেত্রে যারা দায়িত্বে থাকেন, তারা যখন নিজেদের নিয়ম ভেঙে এটা কি তাদের বন্ধুবান্ধব নাকি অন্য কিছু আমি তো বলতে পারছি না, তাদেরকে যখন ফ্র্যাঞ্চাইজি দিয়ে দেন, তখন কিন্তু তারা নিজেরাই বিসিবির নিয়ম ভাঙছেন। যখন সেই ফ্র্যাঞ্চাইজি টাকাপয়সা দেয় না প্লেয়ারদেরকে, তো বিসিবির কাছে তো সেই ব্যাংক গ্যারান্টি নেই, ব্যাংক গ্যারান্টি ভাঙায়ে টাকা দিয়ে দিবে। ফলে একজন মানুষ, বিসিবির পরিচালক বা বিপিএল গভর্নিং কাউন্সিলের কারও ভুল সিদ্ধান্তের কারণে বিসিবির পকেট থেকে টাকা দিতে হচ্ছে প্লেয়ারদেরকে।’
তামিম আরও বলেছেন, ‘আপনি প্ল্যান করতে পারেন, সেই প্ল্যান কাজে না লাগলে সেটা ভুল হতে পারে। ফাইন। তবে আপনি জেনেশুনে যা করছেন (ভুল হলে) তখন সেটা অপরাধ। এখন থেকে যখন পেমেন্ট হবে না, যারাই সেই সিদ্ধান্ত নেবেন, তাদেরকে সেই দায়িত্ব নিতে হবে। আমরা সেটা করার জন্য যা করা দরকার, আমরা তা করব। কারণ নিয়ম আছে ১০ কোটি টাকা ব্যাংক গ্যারান্টি নিয়ম আছে, আমি সেই জিনিস না মেনে ২ কোটি টাকায় দল দিয়ে দিলাম, পরে সে প্লেয়ারদের পেমেন্ট দিচ্ছে না, আমি যদি এমন করি, আমি জানি বিসিবি পে করবে, আমি লাভবান হইতে পারি ব্যক্তিগতভাবে। এই সিস্টেমটা বন্ধ হইতে হবে। এই সিস্টেমটা কড়াভাবে বন্ধ করতে হবে। আমাকে ধরতে হবে, যদি এমন কিছু হয়, আমি নিয়ম ভেঙে কিছু করলে যদি বিসিবি ক্ষতিগ্রস্ত হয় তাহলে আমাকে দায়ী করতে হবে।’
বিপিএলে টানা দুই মৌসুম মিলে ক্ষতি হয়েছে ৩৪ কোটি টাকা, আয় তো হয়নি। এমন পরিস্থিতির ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে তামিম জানান, ‘আমার কাছে হাস্যকর লাগে, আপনি টাকা খরচ করেই যাচ্ছেন, কী কারণে? নিজেদের ভুলের কারণেই, যদি নিয়ম মেনে করতেন তাহলে একটা ব্যবস্থা করা যেত। আপনাদের লোকজনই এসে বলেছে তাদেরকে দল দেওয়া যাবে না, তাদেরকেই দল দিচ্ছেন। এই ব্যাপারটাতেও ধরে আনতে হবে। কেন এই দলগুলোকে দিচ্ছেন যাদের নিয়ে সমস্যা আছে? এগুলা করার এখনই সময়। প্রতিটা জায়গায় আপনাদের ধরতে হবে। এই টুর্নামেন্ট একটা সময় লাভ করত, এখন লস করছে। এভাবে করে আর কয়দিন?’
এছাড়া দীর্ঘ মেয়াদে বিসিবির দায়িত্ব পেলে নিজের পরিকল্পনা সম্পর্কেও ধারণা দিয়ে রেখেছেন তামিম, ‘আমার একটা ইচ্ছা আছে, যদি আমরা দায়িত্বে আসি, যদি আমরা প্রপার ফ্র্যাঞ্চাইজি না পাই, আমার কাছে মনে হয় না বিপিএলটা করা উচিত হবে। যদি আমরা প্রপারলি ফ্র্যাঞ্চাইজি পাই, যাদেরকে আমরা, প্লেয়াররা বিশ্বাস করতে পারবে, সবাই টাকা পাবে টাইমের মধ্যে (তাহলে করা দরকার)। এখানে মানুষের ক্রেজ আছে, মানুষ পছন্দ করে, অবশ্যই এটা আমরা করব। করতেই হবে দেখে করার চেয়ে না করাই ভালো। জোড়াতালি দিয়ে করে দেওয়ার চেয়ে না করাই ভালো। বিপিএল দারুণ একটা টুর্নামেন্ট। এই টুর্নামেন্ট থেকে অনেক প্লেয়ার এসেছে। তবে বছরের পর বছর ধরে এটার যদি ইমেজ নষ্ট হয়, এটায় প্লেয়ার, বিসিবির এবং বাংলাদেশের উপরও খারাপ প্রভাব পড়ে। বলা হয়, বাংলাদেশের টুর্নামেন্টে এরকম হয়। আমাদের এখান থেকে বের হয়ে এসে নিয়ম মেনে এইভাবে এই জিনিসটা নতুন করে শুরু করা হোক।’
তামিম ইকবাল আরও বলেছেন, ‘যদি এসব নিয়ম মানতে না পারি, অন্তত আমি থাকতে, আমি এমন জোড়াতালি দিয়ে বিপিএল করতে চাই না। যারা এসব দলগুলোকে এনেছে, তাদেরকে এখন দায়ী হতে হবে, তাদেরকে প্রশ্ন করতে হবে। তারা বোর্ডে থাকুক বা না থাকুক, পরে আসুক। কেন ১০ কোটির জায়গায় ৩ কোটি ব্যাংক গ্যারান্টি নিয়েছেন সেটা উনাকে (আমিনুল ইসলাম বুলবুল ভাইকে, সাবেক সভাপতি) জিজ্ঞেস করতে হবে, সেই প্রশ্ন উনাকে করতে হবে। উনাদেরকে দায়ী করতে হবে। আপনারা প্রশ্নের আন্সার দেন, কেন এই (দলগুলো) দিয়েছেন, আজকে আপনাদের কারণেই তো এই অবস্থা।’ বিপিএলের সর্বশেষ আসরের ফ্র্যাঞ্চাইজি ফি এবং ব্যাংক গ্যারান্টির বিস্তারিত। বর্তমান বিসিবির অ্যাড-হক কমিটির আরেক সদস্য ফাহিম সিনহাও বিপিএল আয়োজনের নানা অনিয়মের কথা তুলে ধরেছেন। ফাহিম বলেছেন, ‘১১তম বিপিএলের সময় আমি বিসিবিতে ছিলাম। তখন আমাদের অনেক বড় ব্লান্ডার হয় ফ্র্যাঞ্চাইজি বাছাইয়ের ক্ষেত্রে। ১২তম আসরে আমরা কিছু নীতিগত সিদ্ধান্ত নেই। ব্যাংক গ্যারান্টি মাস্ট, ১ হাজার কোটি টাকার টার্নওভার থাকতে হবে, যারা এপ্লাই করবে, এগুলো চেক করে আমরা দল দিব। এখানে যেটা হয়েছে। আমাদের ইন্টিগ্রিটি ডিপার্টমেন্টের অ্যালেক্স মার্শাল আমাদের জানিয়েছেন, ২ জন ব্যক্তির ব্যাপারে ইন্টিগ্রিটি ইস্যু ছিল, তাদের যেন ফ্র্যাঞ্চাইজি না দেওয়া হয়। তখনকার গভর্নিং কাউন্সিলের কয়েকজন নাকি অনেক চাপাচাপি করে একজনকে বাধ্য করেছে দল দিতে, আরেকজনকে একটু ছাড় দিয়ে সেই ব্যক্তি পেছনে থেকে আরেকজনকে সামনে দিয়ে দিয়েছে। সবচেয়ে অবাক করা ব্যাপার হচ্ছে, ২টি দলের সাথে (নোয়াখালী এবং সিলেট) এখনও পর্যন্ত এগ্রিমেন্ট হয়নি, অথচ টুর্নামেন্ট খেলে ফেলেছে।’
ফাহিম সিনহা আরও বলেছেন, ‘সবচেয়ে জরুরি হচ্ছে ফ্র্যাঞ্চাইজি নির্বাচন করা ভালোভাবে। আগের সিদ্ধান্তগুলো মানা হয়নি। একটা তো দেখলেন চট্টগ্রাম রয়্যালসকে বিসিবি চালাতে হয়েছে। এমন সিদ্ধান্তের জন্য বিসিবি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এই দলের পেছনেই সাড়ে ৫ কোটি টাকা খরচ করতে হয়েছে। অই পরিস্থিতিতে আমরা কেন গেলাম? এমন পরিস্থিতিতে যেন না পড়তে হয় সেই ব্যবস্থা নিতে হবে। এই ইস্যুগুলো দ্রুত আমাদের সমাধান করতে হবে। অনেক প্লেয়ারই টাকা পাচ্ছে না। অনেক ফ্র্যাঞ্চাইজি টাকা দিচ্ছে না, এটা একটা কমন সমস্যা। আগে কিছু কিছু ক্ষেত্রে বিসিবি টাকা দিয়ে দিয়েছে। এখন থেকে বিসিবি কমপ্লিট এগ্রিমেন্টের বাইরে এক ইঞ্চিও নড়বে না।’
বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের (বিপিএল) প্রতি নিজের আলাদা রোমাঞ্চের কথা জানিয়েছেন জাতীয় দলের ব্যাটার নাজমুল হোসেন শান্ত। দেশের ক্রিকেটের অন্যতম বড় এই টুর্নামেন্টকে খেলোয়াড়দের জন্য গুরুত্
ফিক্সিংয়ের ঘটনায় ৩ জন ব্যক্তিকে শাস্তি দিয়েছে বিসিবি। অ্যান্টি করাপশনের একাধিক ধারা ভঙ্গ করে এই সাজা পেয়েছেন ৩ ব্যক্তি, যার মধ্যে সাবেক বিসিবি পরিচালক মোখলেসুর রহমান শামীমও রয়েছেন।
বিপিএল এবার হচ্ছে না, প্রায় নিশ্চিত। কিছুদিন আগে সংবাদ সম্মেলনেই বিষয়টি একরকম নিশ্চিত করে দিয়েছিলেন বিসিবি সভাপতি তামিম ইকবাল। বিপিএল না হলে ক্রিকেটাররা কিছুটা আর্থিক ক্ষতি
বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ (বিপিএল) নিয়ে আলোচনা, সমালোচনা প্রচুর হয়েছে নানা সময়ে। সর্বশেষ দুই আসরে বিতর্ক যেন ছাড়িয়ে গিয়েছিল আগের সব রেকর্ড। এই বছর বিপিএল না করার সিদ্ধান্তের ক
বিপিএলের সর্বশেষ বেশ কিছু আসর নিয়ে নানা ধরনের সমালোচনা হয়েছে। ক্রিকেটারদের পারিশ্রমিক, টুর্নামেন্টের সূচি, ফিক্সিং কেলেঙ্কারিসহ নানা ধরনের কেলেঙ্কারিতে কলঙ্কের কালি লেগেছে
বিপিএলে ফিক্সিং এবং ফিক্সিংয়ের সাথে জড়িত থাকা, তদন্তে অসহযোগিতা সংক্রান্ত ব্যাপারে ৪ জনকে সাময়িকভাবে নিষিদ্ধ করেছে বিসিবি, সাথে ১ জনকে দেওয়া হয়েছে স্থায়ী নিষেধাজ্ঞা। এর মধ্যে ১ জনই