বিপিএল প্রসঙ্গে একই অবস্থানে কোয়াব এবং বিসিবি। কোয়াব বিসিবি দুই পক্ষের কয়েক দফা আলোচনা শেষে গণমাধ্যমের মুখোমুখি হয়েছেন বিসিবি সভাপতি তামিম ইকবাল। বিপিএল না করার কারণ এবং কেন কোয়াব এবং ক্রিকেটাররা সেই সিদ্ধান্ত মেনে নিয়েছেন সে ব্যাপারে বিস্তারিত ব্যাখ্যা দিয়েছেন বিসিবি প্রধান তামিম।
সংবাদ সম্মেলনে তামিম ইকবাল বলেছেন, ‘আমাদের একটা মিটিং ছিল। বিপিএল নিয়ে ঘোষণা আসার পর কোয়াব আমাদের সাথে যোগাযোগ করে। তারা চিন্তিত ছিল যে আর্থিক ক্ষতিতে পড়বে। কোয়াবের সাথে দুইটি মিটিং হয়েছে। তারা কিছু প্রস্তাব দেয় আমরা কাউন্টার কিছু প্রস্তাব দেই। প্রায় সমাধানে আসাতে তারা সময় চায়। পরে আমরা আবার বসি। তাদের কথাও শুনি। এরপর আমরা সময় চাই। যেন আমাদের নিজেদের মিটিংটা করে নিতে পারি। এখানে আসার আগে কোয়াবের সিনিয়রদের সাথে আলাপ করেছি। প্লেয়াররা সবাই অনেক খুশি, বিসিবি যা করছে তা নিয়ে।’
তামিম আরও বলেছেন, ‘আমি বেশ অনেক দিন ধরে দেখছি কোয়াব কেন কিছু করছে না (এমন প্রশ্ন উঠছে)। কারণ বিসিবি সেই সুযোগ দিচ্ছেই না। বিসিবি শুরুতে এই বোর্ড ক্রিকেটারদের অনেক সম্মান করে। এই বোর্ডের মেন্টালিটি এরকম যে এখানে ক্রিকেটারদের সার্ভ করার জন্য, যেন বাংলাদেশের ক্রিকেটের সুযোগ সুবিধা বাড়ে, এই কারণেই আসা। সবাই বারবার বলেছেন, আমরা এখানে এসেছি কেবল ক্রিকেটকে সার্ভ করতে। ফলে আমাদের সাথে ক্রিকেটারদের অনেক ভালো সম্পর্ক হওয়াটাই দরকার। কারণ আগে অনেক সময় ক্রিকেটারদেরকে অনেক বেইজ্জতি করা হয়েছে। ফলে তাদের সাথে (আগের বোর্ডের সাথে) সম্পর্ক ভালো না থাকার কারণও ছিল। আমাদের সাথে সম্পর্ক ভালো থাকার কারণও আছে। আমি ক্রিকেটার ছিলাম, ক্রিকেট খেলেছি, তাদের সাথেই খেলেছি। তাদের ভালো খারাপ কিছুটা হলেও বুঝার আল্লাহ সামর্থ্য দিয়েছেন।’
তামিম ইকবাল আরও বলেছেন, ‘বিপিএলে আর্থিক ক্ষতির কিছু লসের কথা বলেছি। তবে যখন একটা টুর্নামেন্ট হবে অই টুর্নামেন্টে যদি বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের যদি একটা নির্দিষ্ট পরিমাণ লস হয় বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের সামর্থ্য আছে সেই লসটা নেওয়ার। যদি মাঠের খেলা, প্লেয়ার পেমেন্ট, হোটেল পেমেন্ট, যানবাহন পেমেন্ট যদি একদম পারফেক্টলি চলতে থাকে, যদি আমাদের বোর্ডেও কিছু লস হয় আমরাও নিতে রাজি আছে। কিন্তু গত ২-৩ বছরে কোন সাইডের জিনিস ভালো ছিল? চুক্তি ছাড়া দল খেলেছে। প্লেয়ার, হোটেল, যানবাহন পেমেন্ট না দেওয়া (এগুলো হয়েছে)। দুই সাইডই খারাপ হতে পারে না। অন্তত এক সাইড ভালো হতে হবে। বিপিএল বন্ধ বিপিএল বাদ না। বিপিএল স্থগিত। আমরা বিপিএলকে যত ভালোভাবে করা সম্ভব সেই চেষ্টা করব। একটা সুন্দর বিপিএল করার চেষ্টা করব। বিসিবি বিসিবির কাজ করবে। চেষ্টা করব পরিষ্কার বিপিএল করার, আবারও বলছি চেষ্টা করব। এর জন্য যদি সময় লাগে কিছু কিছু মানুষের কষ্ট লাগে কোনো সমস্যা নেই। প্লেয়াররাও হতাশ, হতাশ হওয়ারই কথা, যদি সিদ্ধান্ত আমাকে নিতে হয় আমি সেখানে অন্য কিছু ভাবব না। কারণ গত ২-৩ বছরে কী কী হয়েছে সেসব আমি দেখেছি।’
বিসিবি সভাপতি তামিম ইকবাল। এছাড়া সাবেক বিসিবি সভাপতি ফারুক আহমেদকে গিয়ে তামিমের করা অনুরোধ এবং পরে বিপিএল আয়োজনের বিষয়টি নিয়েও ব্যাখ্যা দিয়েছেন তামিম ইকবাল। বিসিবি সভাপতি বলেছেন, ‘আমি অনেকরে বলতে শুনি, আমি প্লেয়ারদের নিয়ে অনুরোধ করেছিলাম বিপিএল করানোর জন্য জোর করেছি, অবশ্যই করেছিলাম যে জোর তো না, তাদেরকে অনুরোধ করা হয়েছিল যে ২৫%-৩০% পেমেন্ট কম হলেও বিপিএলটা করেন। এই কথা অবশ্যই বলা হয়েছে। তবে এক সপ্তাহ পরে সেই একই ব্যক্তির সাথে (ফারুক আহমেদ) আমি কয়েকদিন পরে গিয়ে আমি অনুরোধ করেছিলাম যে আল্লাহর ওয়াস্তে এই দুইটা ফ্র্যাঞ্চাইজিকে দল দিয়েন না। আপনে বিপদে পড়বেন। এই কথাগুলো তো মনে থাকা উচিত। এই দুই ফ্র্যাঞ্চাইজির কারণেই কিন্তু পরে বিপদে পড়েছেন। আপনি এক সাইড বলবেন আরেক সাইড বলবেন না এটা তো হতে পারে না। এর মধ্যে একটা ছিল (দুর্বার) রাজশাহী। আমি বলেছিলাম যে এদেরকে দিয়েন না, দিলে বিপদে পড়বেন। কথা বললে সবই বলতে হবে অর্ধেক অর্ধেক না।’
এছাড়া নতুনভাবে বিপিএল শুরুর ক্ষেত্রে যেসব সীমাবদ্ধতা আছে সেসব ব্যাপারেও মুখ খুলেছেন বিসিবি সভাপতি। তামিম ইকবাল জানিয়েছেন, ‘আমরা যখন দায়িত্ব পাই, বিপিএলের পেমেন্ট নিয়ে ঝামেলা চলছিল। ৬ দলের মধ্যে ২ দলের চুক্তিই ছিল না। আর্থিক কোনো ডকুমেন্ট অনেকের ক্ষেত্রেই ছিল না, যেগুলো নিয়মের মধ্যে থাকার কথা ছিল। এখানে তাদেরকে সময় দিতে হয়েছে। আমরা তাদেরকে দিয়েছি, পরে আরও সময় আছে। এখানে প্রসেসের ব্যাপার আছে। বিপিএলের এই সমস্যা সলভ না করা পর্যন্ত আমি নতুন কোনো ফ্র্যাঞ্চাইজির কাছেও যেতে পারছি না। একটা রেভিনিউ মডেল আনতে হবে, এটার জন্য অনেক সময় লাগে। বড় টুর্নামেন্টের ক্ষেত্রে অনেক বছর সময় লাগে। যতগুলো জটিলতা ছিল এখানে এত বেশি সময় ছিল না। সেপ্টেম্বর মাস এখন, এই টাইমে নরমালি ড্রাফট হয়। এখন করতে গেলে নতুন করে ফ্র্যাঞ্চাইজি নিয়ে তাদের থেকে ডকুমেন্ট নিয়ে, যদি ডকুমেন্ট দিতে না পারত, তখন আবার একই সমস্যা হত। যত ফ্র্যাঞ্চাইজির সাথে চুক্তি আছে সবাইকে ডেকে আমরা কথা বলছি। নতুন করে আমরা দাঁড়া করাতে চেষ্টা করছি। বিদেশি ফ্র্যাঞ্চাইজি কি আনতে পারি কি পারি না, কীভাবে মডেল দাঁড় করাতে চাই। এই প্রসেস আমরা শুরু করছি। এখন বাংলাদেশে যারা বড় বড় কোম্পানি আছে, তাদেরকে যদি রেভিনিউ দেখাতে না পারি। ১ম থেকে ৩য় বছর না হোক, অন্তত ৪র্থ বছরে গিয়ে তো কিছু রিটার্ন আসতে হবে। ফলে আমি ফ্র্যাঞ্চাইজির কাছে গেলে সবার আগে এটাই চাইবে আপনাদের ফ্রেমওয়ার্ক দেখান, আমি সেটা নিয়েই কাজ করছি।’
কোয়াবের সভাপতি মোহাম্মদ মিঠুন। ফিক্সিংকাণ্ডে ৩ ব্যক্তিকে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে বিসিবি। সেখানে আপিল করার জন্য ১৪ দিন সময়ও দেওয়া হয়েছে। নিষিদ্ধ হওয়া ব্যক্তিদের অভিযোগ প্রসঙ্গে তামিম বলেছেন, ‘অ্যালেক্স মার্শাল আমাদের বোর্ডের অধীনে কাজ পায়নি। সে একদম আলাদা আমাদের থেকে। তিনি ১০ সেপ্টেম্বর আসবেন। সেখানে প্রেস ব্রিফিং করবেন। কারও বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা বা না আনা, সময় তো দেওয়া হয়েছে (আপিল করার)। যথেষ্ট পরিমাণ প্রমাণ আছে দেখেই তো অভিযোগ আনা হয়েছে। এটা আইসিসির নিয়ম মেনে নিয়েই করা হয়েছে। যদি কেউ মনে করে সিদ্ধান্ত ভুল, ১৪ দিন সময় তো আছে হাতে, তাহলে এত কথা কীসের?’
তামিম ইকবাল আরও জানিয়েছেন, ‘যদি আগের ২ বছর ভালোভাবে বিপিএল হত, আমি এসে না করতাম তখন আমার ভুল হইত। আগের ২ বছরে আপনারাই বলেন, বিপিএলে হয়েছেটা কী?’
বিপিএলের সর্বশেষ আসরের ফাইনালে চট্টগ্রাম রয়্যালসকে হারিয়ে টুর্নামেন্টের শিরোপা জিতেছিল রাজশাহী ওয়ারিয়র্স। এর আগের বিপিএলের ফাইনালে চিটাগং কিংসকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয় তামিম ইকবালের দল ফরচুন বরিশাল। সেবারই শেষ বিপিএলে খেলেছিলেন তামিম।