রাত পোহালেই বিসিবির নির্বাচন। ৭ জুন অনুষ্ঠিত হচ্ছে বহুল প্রতীক্ষিত বিসিবি নির্বাচন। যেখান থেকে নির্বাচিত হবেন বিসিবি পরবর্তী পরিচালনা পর্ষদের ২৩ পরিচালক। সাথে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের ২ পরিচালক মিলে ২৫ পরিচালক নিয়ে গঠিত হবে নতুন বোর্ড। [গুগল নিউজে বিডিক্রিকটাইম ফলো করুন]
বিসিবির নির্বাচন হচ্ছে অ্যাড-হক কমিটির অধীনে। বিসিবির অ্যাড-হক কমিটির ১১ সদস্যের মধ্যে ৭ জন নির্বাচন করছেন, সভাপতি তামিম ইকবাল ছাড়াও নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন মির্জা ইয়াসির আব্বাস, ইসরাফিল খসরু, রফিকুল ইসলাম বাবু, মিনহাজুল আবেদীন নান্নু, ফাহিম সিনহা এবং সাঈদ ইব্রাহিম আহমেদ। এর মধ্যে নান্নু জেলা-বিভাগের ক্যাটাগরি-১ থেকে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়ে গেছেন।
এবারের বিসিবি নির্বাচনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হচ্ছেন আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী, মীর শাকরুল আলম সীমান্ত, মির্জা ফয়সল আমীন, সাইদ বিন জামান, এস.এম. আব্দুল্লাহ আল ফুয়াদ, মিনহাজুল আবেদীন নান্নু, মঈন উদ্দিন চৌধুরী ও সিরাজউদ্দিন মোহম্মদ আলমগীর। বিসিবি নির্বাচনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হওয়া অবশ্য খুব চমকপ্রদ কোনো ঘটনা নয়, আগেও বহুবার এমন ঘটনা দেখা গেছে। এবারও থাকছে।
এমন সময়ে একটি প্রশ্ন ঘুরপাক খেতে পারে অনেকের মনেই, বিসিবির নির্বাচনটা আসলে কীভাবে হয়? বিসিবির নির্বাচন হয় ৩টি ক্যাটাগরিতে। ক্যাটাগরি-১ এ থাকে জেলা এবং বিভাগীয় ক্রীড়া সংস্থার প্রতিনিধিরা, এখানে পরিচালকের পদ ১০টি। ক্যাটাগরি-২ এ থাকে ঢাকার ক্রিকেট ক্লাবগুলোর প্রতিনিধিরা, এখানে পরিচালকের পদ ১২টি। ক্যাটাগরি-৩ এ থাকে সাবেক ক্রিকেটার, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা। এখান থেকে পরিচালকের পদ ১টি।
প্রতিটি ক্যাটাগরি থেকে কাউন্সিলরও মনোনয়ন দিয়ে থাকে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান। কাউন্সিলর মানে হচ্ছে ভোটার, অর্থাৎ বিসিবির নির্বাচনে যারা ভোট দিতে পারবেন। জেলা এবং বিভাগের কাউন্সিলরের মনোনয়ন দেন জেলা প্রশাসক এবং বিভাগীয় কমিশনাররা। যেমন ঢাকা জেলা ক্রীড়া সংস্থার কমিটি থেকে যে কাউকে কাউন্সিলর হিসেবে মনোনয়ন দিতে পারেন ঢাকা জেলার জেলা প্রশাসক। চট্টগ্রামের বিভাগীয় ক্রীড়া সংস্থার কমিটি থেকে যে কাউকে কাউন্সিলর নির্বাচিত করতে পারেন চট্টগ্রামের বিভাগীয় কমিশনার। এভাবে ক্যাটাগরি-১ এর কাউন্সিলররা নির্বাচিত হন। এখানে উল্লেখ্য যে, কাউন্সিলররা সবাই নিজ নিজ জেলা যে বিভাগের অধীনে সে বিভাগে নির্বাচনে অংশ নেওয়া প্রার্থীদেরকেই কেবল ভোট দিতে পারবেন। যেমন ঢাকা, চট্টগ্রাম, খুলনা বিভাগের জন্য পরিচালকের পদ রয়েছে ২টি করে। বাকি ৪ বিভাগ সিলেট, রাজশাহী, রংপুর এবং বরিশালের জন্য পরিচালকের পদ ১টি করে। সব মিলে ক্যাটাগরি-১ থেকে পরিচালক নির্বাচিত হবেন ১০ জন।
এবার আসা যাক ক্যাটাগরি-২ এ। ঢাকার ক্লাব ক্রিকেটের এই ক্যাটাগরি থেকে এবার বেশ নামী সংগঠকরা নির্বাচন করছেন। যেখানে আছেন বিসিবির অ্যাড-হক কমিটির সভাপতি তামিম ইকবালও। ক্যাটাগরি-২ এর মধ্যে ঢাকার ক্লাবগুলো থাকে। যেখানে প্রিমিয়ার ডিভিশন লিগ, প্রথম বিভাগ, দ্বিতীয় বিভাগ এবং তৃতীয় বিভাগে খেলা ক্লাবগুলো থেকে ১ জন করে কাউন্সিলর হন। ক্লাবের কমিটি থেকে ১ জনকে কাউন্সিলর হিসেবে মনোনয়ন দেয় সেই ক্লাব। বিসিবি নির্বাচনে ভোট দিতে পারেন তিনি। এই ক্যাটাগরিতে পরিচালকের পদ ১২টি। ক্লাব ক্যাটাগরিতে কাউন্সিলররা ১২টি ভোট দিয়ে নিজেদের পছন্দের পরিচালককে নির্বাচিত করবেন। এবারের নির্বাচনে এই ক্যাটাগরিতে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ১৬ জন।
এরপর ক্যাটাগরি-৩ এ আসা যাক। এখানে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং অন্যান্য প্রতিষ্ঠান, সাবেক ক্রিকেটারদেররা কাউন্সিলর হিসেবে মনোনয়ন পান। যেখানে নিজ নিজ প্রতিষ্ঠান থেকে কাউন্সিলরশিপ পান ব্যক্তিরা। সাবেক ক্রিকেটারদের কাউন্সিলর হিসেবে মনোনয়ন দিয়ে থাকেন বিসিবির সভাপতি (গঠনতন্ত্র অনুযায়ী)। এখানকার কাউন্সিলরদের মধ্যে থেকে যে কেউ নির্বাচনে অংশ নিতে পারেন। এই ক্যাটাগরিতে পরিচালকের পদ ১টি। এবারের নির্বাচনে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সিরাজউদ্দীন মোহাম্মদ আলমগীর প্রার্থী হয়েছিলেন। আর কেউ প্রার্থী না হওয়ার কারণে তিনিই বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়ে গেছেন।
বিসিবি নির্বাচনে অংশ নেওয়ার পূর্বশর্ত কাউন্সিলর হওয়া। কাউন্সিলর না হয়ে কেউ বিসিবি নির্বাচনে প্রার্থী হতে পারেন না। এছাড়া যে কাউন্সিলর যে ক্যাটাগরিতে থাকেন তিনি সেই ক্যাটাগরিতেই ভোট দেন। কাউন্সিলরদের ভোটেই নির্বাচিত হন বিসিবির ২৩ পরিচালক। সাথে ২ জন পরিচালক আসবেন জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের মনোনয়ন পেয়ে।
বিসিবিতে নির্বাচনী আমেজ। ছবি : বিডিক্রিকটাইমএবারের বিসিবি নির্বাচনে জেলা-বিভাগের ক্যাটাগরি-১ থেকে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়ে গেছেন ৭ পরিচালক। বাকি ৩ পদে হবে লড়াই। নির্বাচন হচ্ছে খুলনা বিভাগের দুটি পদের জন্য। এখানে প্রার্থিতা করছেন মোট ৩ জন - মো. শফিকুল আলম, শান্তনু ইসলাম এবং মো. আব্দুছ ছালাম। বরিশাল বিভাগের একটি পদের বিপরীতে মো. মিজানুর রহমানের সাথে লড়বেন মো. মুনতাসির আলম চৌধুরী। এই ক্যাটাগরিতে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত ৭ জন হচ্ছেন - আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী, মীর শাকরুল আলম সীমান্ত, মির্জা ফয়সল আমীন, সাইদ বিন জামান, এস.এম. আব্দুল্লাহ আল ফুয়াদ, মিনহাজুল আবেদীন নান্নু, মঈন উদ্দিন চৌধুরী।
ক্যাটাগরি-২ অর্থাৎ ঢাকার ক্লাব প্রতিনিধিদের থেকে পদ আছে ১২টি, প্রতিদ্বন্দ্বী ১৬ জন। আবাহনী থেকে ফাহিম সিনহা, মোহামেডান থেকে মাসুদুজ্জামান, শাইনপুকুর থেকে আসিফ রব্বানী, উত্তরা ক্রিকেট ক্লাব থেকে ফৈয়াজুর রহমান, ধানমন্ডি স্পোর্টস ক্লাব (বসুন্ধরা স্ট্রাইকার্স) থেকে ইয়াসির মোহাম্মদ ফয়সাল আশিক, ওল্ড ডিওএইচএস থেকে তামিম ইকবাল, ঢাকা স্পার্টান্স ক্রিকেট ক্লাব থেকে আমজাদ হোসেন, আজাদ স্পোর্টিং ক্লাব থেকে মির্জা ইয়াসির আব্বাস থেকে, এক্সিউম ক্রিকেটার্স থেকে ইসরাফিল খসরু, ইন্দ্রিরা রোড থেকে রফিকুল ইসলাম বাবু, ঢাকা ওয়ান্ডারার্স থেকে অধ্যাপক ডা. সরকার মাহবুব আহমেদ শামীম, ঢাকা মেরিনার ইয়াংস ক্লাব থেকে শানিয়ান তানিম, ফেয়ার ফাইটার্স থেকে সাইদ ইবরাহিম আহমেদ, তেজগাঁও ক্রিকেট একাডেমি থেকে সৈয়দ বোরহানুল হোসেন, পূর্বাচল স্পোর্টিং ক্লাব থেকে সাকিফ আহমেদ সালাম ও কাঁঠালবাগান গ্রিন ক্রিসেন্ট ক্লাব থেকে মেজর ইমরোজ আহমেদ (অবঃ) নির্বাচন করবেন।
ক্যাটাগরি-৩ থেকে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের কাউন্সিলর সিরাজউদ্দীন মোহাম্মদ আলমগীর নির্বাচন করছেন। তিনি এই ক্যাটাগরির একমাত্র প্রার্থী হওয়ায় বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় পরিচালক হতে যাচ্ছেন।