Score

শতকের মাধ্যমে লিটনের ‘ঝড়’

নিজেকে হারিয়ে হন্যে হয়ে খুঁজছিলেন। এশিয়া কাপের পাঁচ ম্যাচেই মাঠে নামার সৌভাগ্য হয়েছে। তবে, ফাইনালের আগে দলের আস্থার প্রতিদান দিতে খুব একটা সফল হননি। আফগানিস্তানের বিপক্ষে সুপার ফোরের ম্যাচটি বাদ দিলে লিটনের পারফরম্যান্সে যেন সমর্থকদের ধৈর্যের বাঁধও যাচ্ছিল ভেঙে।

সেই লিটন নিন্দুকদেরও যেন তার ভক্ত বানানোর প্রয়াসে নেমেছিলেন শুক্রবার। প্রথমবারের মত এদিন ব্যাটিং উদ্বোধনীতে তার সঙ্গী মেহেদী হাসান মিরাজ। সেই মিরাজের যোগ্য সঙ্গ পেয়ে ধুন্ধুমার ব্যাট হাঁকিয়ে তুলোধুনো করলেন ভারতীয় বোলারদের। ৩৩ বলে অর্ধ-শতকের পর শতক হাঁকালেন মাত্র ৮৭ বলে। একইসাথে পরিসংখ্যানের পাতায় তুললেন ঝড়। নিজের ক্যারিয়ার সেরা ইনিংসকে লিটন বড় করে চলেছেন এই প্রতিবেদন লেখার সময়েও।

লিটনের দুর্দান্ত ব্যাটিংয়ের দিনে বেশ কয়েকটি পরিবর্তন এসেছে পরিসংখ্যানের পাতায়। তার হাত ধরেই ৬৩৬ দিন পর উদ্বোধনী জুটিতে শতরান দেখল বাংলাদেশ। সর্বশেষ যার দেখা মিলেছিল ২০১৬ সালের ৩১শে ডিসেম্বর।

Also Read - লিটন-মিরাজে উড়ন্ত শুরু বাংলাদেশের

নেলসনে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সেদিন ১০২ রানের উদ্বোধনী জুটি গড়েছিলেন তামিম ইকবাল ও ইমরুল কায়েস। যদিও সহ-ব্যাটসম্যানদের ব্যর্থতায় সেই ম্যাচটি হেরে বসেছিল বাংলাদেশ। শুক্রবার ১২০ রানের উদ্বোধনী জুটি গড়ে মিরাজকে সাথে নিয়ে লিটন দীর্ঘ সময় পর টপ অর্ডারে এনে দিয়েছেন স্বস্তি। যদিও শেষপর্যন্ত সেই স্বস্তি ধরে রাখতে পারেননি মিরাজের পতনে ক্রিজে আসা ব্যাটসম্যানরা।

এদিকে কোনো ফাইনাল ম্যাচে ভারতের বিপক্ষে উদ্বোধনী ব্যাটসম্যানদের এটি ষষ্ঠ শতরানের জুটি। এই ম্যাচের আগে যে পাঁচবার ফাইনালে শতরানের উদ্বোধনী জুটি হজম করেছে ভারত, তার সবকটিতেই হেরেছে দলটি। ম্যাচের বাকি অংশে এটি হতে পারে বাংলাদেশের ভালো করার রসদ।

যেকোনো ফাইনালের বিচারে বাংলাদেশের ‘পরিসংখ্যানগত স্বস্তি’ তো আছেই, আছে এশিয়া কাপের ফাইনালের ক্ষেত্রেও। এর আগে একবারই শতরানের উদ্বোধনী জুটি দেখেছিল এশিয়া কাপের ফাইনাল, সেটি ১৯৯৭ সালে স্বাগতিক শ্রীলঙ্কা ও ভারতের মধ্যকার ম্যাচে। (পরে ব্যাট করে) উদ্বোধনী জুটিতে সনাথ জয়াসুরিয়া ও মারভান আতাপাত্তু যোগ করেছিলেন ১৩৭ রান। প্রথম ইনিংসে হলেও এবার তো এশিয়া কাপ ফাইনাল দেখল আরও একটু শতরানের ওপেনিং জুটি। ক্রিকেট বিধাতা কি এবারও অনুসরণ করবেন তার আগের ছন্দে বেঁধে দেওয়া ফলাফল?

লিটনের ইনিংসে ভর করে বাংলাদেশের জ্বালানি হতে পারে আরও একটি বিষয়। ভারতের বিপক্ষে টাইগারদের উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান কর্তৃক এটি দ্বিতীয় ও সবচেয়ে বড় শতরানের জুটি। এর আগে ২০১৫ সালের ১৮ জুন মিরপুরে তামিম ইকবাল সৌম্য সরকার গড়েছিলেন ১০২ রানের জুটি। ঐ ম্যাচে ৭৯ রানের বিশাল ব্যবধানে জয় পেয়েছিল বাংলাদেশ। অর্থাৎ, উদ্বোধনী জুটিতে ১০০-র বেশি রান এলে ভারতের বিপক্ষে হারেনি বাংলাদেশ।

এবারও কি হবে পুনরাবৃত্তি?

আরও পড়ুন: ব্যাটিংয়ে বাংলাদেশ, একাদশে পরিবর্তন

Related Articles

দুইবারের বিশ্ব-চ্যাম্পিয়নদের রুখতে পারবে বাংলাদেশ?

আইসিসি ওয়ানডে র‍্যাঙ্কিংয়ে শীর্ষ ‘পাঁচ’ বাংলাদেশি

জমে উঠেছে পার্থ টেস্ট

র‍্যাঙ্কিংয়ে বোলারদের প্রথম পাঁচে মুস্তাফিজ

ওয়েলিংটন টেস্ট: বড় লিডের পথে নিউজিল্যান্ড